বাতায়ন/দহন/গল্পাণু/৩য় বর্ষ/৬ষ্ঠ সংখ্যা/১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২
দহন | গল্পাণু
পম্পা ঘোষ
একান্নবর্তী
পরিবার
"বিবাহের পর অষ্টমঙ্গলা করে ফিরে গিয়ে দীপা হতবাক। তার সামনে হাজির করা হয়েছে স্বামীর মদ্যপ বন্ধুদের তাকে মনোরঞ্জন করানোর জন্য। দীপা শিকার হয় তার অসহায়তার কাছে।"
প্রিয়া বোস ও সুভাষ রায় দুজনই একই স্কুলে চাকরি করেন। ভালোবেসে প্রিয়া বোসকে বিয়ে করেন সুভাষ রায়। প্রত্যন্ত গ্রামের একান্নবর্তী পরিবারের ছেলে সুভাষ রায়। প্রিয়া শহরে মানুষ হওয়া, সে গ্রাম্যজীবন পছন্দ করত না। তাদের গ্রাম ছেড়ে শহরে আসা। মোটামুটি গ্রাম্যজীবনের পাঠ চুকিয়ে আসে।
প্রিয়া ও সুভাষের একটি
মেয়ে। সে এখন ইংরেজিতে এমএ-বিএড করেছে। চাকরির চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে একটি বিবাহের
সম্বন্ধে আসে প্রিয়া ও সুভাষের একমাত্র কন্যা দীপার জন্য। খুব ভালো করে খোঁজখবর
না করে দীপার বিয়ে ঠিক করে ফেলেন প্রিয়া ও সুভাষবাবু।
প্রিয়া বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবে
মেয়েকে বিদায় করেন। বিবাহের পর অষ্টমঙ্গলা করে ফিরে গিয়ে দীপা হতবাক। তার সামনে
হাজির করা হয়েছে স্বামীর মদ্যপ বন্ধুদের তাকে মনোরঞ্জন করানোর জন্য। দীপা শিকার
হয় তার অসহায়তার কাছে।
সকালে যখন জ্ঞান আসল। সে
বুঝতে পারে তার জীবনে ঘনকালো ছায়ায় এসে হাজির। দরজা ধাক্কাতে থাকে। পাশের
ফ্ল্যাটে রান্নার মাাসিটি আওয়াজ পেয়ে দরজা খুলে দেয়। সব বুঝতে পেরে দীপার হাতে
কিছু টাকা দিয়ে পালাতে সাহায্য করে।
দীপা উন্মাদ অবস্থায় কোনরকম
বাড়ি ফেরে। সেই থেকে দীপার পায়ে শিকল পড়ানো। বদ্ধ উন্মাদ দীপা আজ। প্রিয়া ও
সুভাষ ভাবতে থাকে তাদের অবর্তমানে কে দেখবে দীপাকে?
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment