প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Saturday, July 26, 2025

বিধান | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/ডিভোর্স/ছোটগল্প/৩য় বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৯ই শ্রাবণ, ১৪৩২
ডিভোর্স | ছোটগল্প
পারমিতা চ্যাটার্জি
 
বিধান

"এত শান্তির সংসার কী রমলামাসির সহ্য হয়তিনি বিধান দিয়ে দিলেন তিনবছর হয়ে গেল এখনও যখন সন্তান আসেনি তখন বউমা পুজোর কোন কাজে হাত লাগাবেন না।"


অক্ষয় তৃতীয়া প্রত্যেবার সত্যনারায়ণ পুজোর আয়োজন বড় করেই করা হয় মুখার্জি বাড়িতে। সত্যেন মুখার্জি খুব বড় ডাক্তার তার চেয়েও বড় তার বিশাল হৃদয় আর মন। তিনবছর হল এ বাড়ির একমাত্র ছেলের অয়নের বিয়ে হয়েছে নয়নিকার সাথে।


তিনবছর এখন কিছুই নয় তবু বাচ্চা হচ্ছে না বলে তাকে সবাই পাগল করে দিচ্ছে। এবারে রানাঘাট থেকে মাসিশাশুড়ি এসেছেন। পুজোর সমস্ত জোগাড় শাশুড়ি বউমা আসার পর বউমায়ের হাতে ভার দিয়ে দিয়েছিলেন। বউমাও অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পুজোর জোগাড় করত। খুব যত্ন করে সিন্নি মাখত তার হতের সিন্নি মাখা খেয়ে সবাই মুগ্ধ হয়ে যেত এমনকি তার শাশুড়িও বললেন সিন্নি মাখায় আমি সেরা ছিলাম বউমা আমাকেও ছাড়িয়ে গেল। নয়নিকা মিষ্টি হেসে বলছিল সবই তো তোমার হাতেই শেখা মা। এত শান্তির সংসার কী রমলামাসির সহ্য হয়? তিনি বিধান দিয়ে দিলেন তিনবছর হয়ে গেল এখনও যখন সন্তান আসেনি তখন বউমা পুজোর কোন কাজে হাত লাগাবেন না।
সত্যেনবাবু চেম্বার সেরে ঘরে ঢুকবার মুখেই হোঁচট খেলেন পুজোর দিন যার সবচেয়ে বেশি উৎসাহ তার ছটপটে চঞ্চল বউমাটি কেথায় গেল?
রমলামাসি আর কাউকে না হোক তিনি তার এই বোনপোটিকে যথেষ্ট সমীহ করে চলেন। বউমা সম্বন্ধে সত্যেনবাবু জিজ্ঞেস করতেই তো ভয়ে মুখ শুকিয়ে গেল। কিন্তু আজ সত্যেনবাবুর স্ত্রী অলকা সোজা বলে দিলেন যে তোমার রমলামাসি বলেছেন বউমা এখনও মা হয়নি তাই পুজোর কাজে হাত দিতে পারবেন না।
সত্যেনবাবু ঘুরে মাসির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিলেন,
-আসলে দেখছিলাম ওর উপো করে কাজ করতে খুব কষ্ট হচ্ছে এমনি বললে তো শুনবে না তাই ওই বিধান দিলাম আর কী।
-হ্যাঁ তাই তুমি বিধান দিলে? কারুর কষ্টে তোমার কবে থেকে এত কষ্ট হয়? জানতাম না তো? তুমি জান এই পুজোর জন্য ওর কী উৎসাহ? একটা একটা করে মেয়েটা দিন গোনে? আর ও উপো করবে কেন? আমার বাড়িতে আমি বিধান দিয়েছি যে দুধ, মিষ্টি ফলপাকড় খেয়ে সব পুজো করবে। পেটে খিদে থাকলে মনে ভক্তি আসে না।
স্ত্রীকে আদেশ করলেন বউমাকে ডেকে আনার জন্যে। এদিকে অয়নের বুক ধুকপুক করছে আজ সকালেই  নয়নিকার ইউরিন টেস্টে গেছে কদিন ধরে বমিও আসছে মাথা ঘুরছে ওইসব মেয়েলি ব্যাপার আর কী! কী জানি কী রিপোর্ট আসে?
পুজো শেষ হয়ে যাবার পর শান্তিরজল নিয়েই অয়ন বেরিয়ে পড়ল।
অয়নও ডাক্তার তাই ক্লিনিকে তার খুব ভাল জানাশোনা আছে। তাকে দেখই ক্লিনিকের টেকনিশিয়ান পার্থ এগিয়ে এসে বলল,
-ভাল খবর আছে অয়নদা মিষ্টি খাওয়াও
-অয়ন জিজ্ঞেস করল সত্যি বলছিস?
-এমন একটা খবর কেউ মিথ্যে বলে?
অয়ন রিপোর্টটা তবু নিজে দেখে নিয়ে পকেট থেকে পাঁচশো টাকা বার করে দিয়ে বলল,
-তোরা মিষ্টি খাস
তারপরেই দৌড় দিল বাড়ির দিকে। বাড়িতে পৌঁছেই বলল,
-ভাগ্যিস রমলাদিদা বিধান দিয়েছিলেন তাই দেখ রিপোর্ট পজিটিভ
-মানে?
-নয়নিকা এবার মা হবে, 'জয় রমলাদিদা কী জয়'
নয়নিকা আর অয়ন দুজনে দুজনের দিকে চেয়ে হাসল। আসলে এবার নয়নিকার এমএ ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হল তারপরই সুখবর এল। অক্ষয়তৃতীয়ার দিন সন্তান আসার খবর এল তাই সন্তানের আগাম নাম ঠিক হল অক্ষয়। তারপর জমিয়ে সবাই প্রসাদ খেতে বসে পড়ল। জোরকদমে লুচি ভাজা শুরু হল। নয়নিকা রান্নাঘরের দিকে এগোতে গেল তখন শাশুড়ি বলল,
-উঁহু এবার আমি বিধান দিলাম আগামী তিনমাস একদম বিশ্রাম শুধু বাবু এলে সন্ধ্যাবেলায় ঠান্ডা হাওয়ায় একটু বেড়িয়ে আসবে। তিনমাস পেরিয়ে গেলে জোরকদমে কাজে নেমে পড়বে যাও এবার ওপর গিয়ে একটু শুয়ে পড়।
 
সমাপ্ত

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)