প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Tuesday, November 25, 2025

আয়না | অদিতি চ্যাটার্জি

বাতায়ন/তৈমুর খান সংখ্যা/ছোটগল্প/৩য় বর্ষ/৩তম সংখ্যা/১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২
তৈমুর খান সংখ্যা | ছোটগল্প
অদিতি চ্যাটার্জি
 
আয়না

"দীপ কলারটিউন রেখেছিল "আনেওয়ালা পল যানেওয়ালা হ্যা" আর বিদিশা নিজে কী কলারটিউন রেখেছিল! আদৌ কিছু রেখেছিল কীমনেই পড়ল না।"

 
বিদিশা দেখে এসপ্লানেডে যখন মেট্রোটা থামে, অনেকটা দীপের মতো দেখতে একজন ভদ্রলোক উঠলেন, দীপ! বুকের মধ্যে ধড়ফড় করছে এখনো, নিজেকে সামলাতে সামলাতেই মেট্রো চলে আসে সেন্ট্রাল। কলেজ স্ট্রিটে দরকার আছে নামতে হবে, গোলাপি রঙের খেলায় আজ আকাশ মেতেছে, বিদিশার মনে পড়ছে দীপ হলে কী হতো! কথা বলত কি? যদিও দুজনে নিজের নিজের পৃথিবীতে শান্তিতে আছে, তবুও...
 
মধ্য কলকাতার যে কলেজটাতে পড়ত কলেজ স্ট্রিটে এলে অনেক সময় ট্রামে চড়ে ধর্মতলা নেমে যে যার রাস্তায় যেত ওরা, এখন তো ট্রাম বন্ধ তবে বাস চলে কিন্তু ছেলেমানুষি মনটা অন্য কোথাও চলে গেছে। আপনমনেই হাসে বিদিশা। বইপত্র কেনা হয়ে গেছে, বাড়ি ফিরে গেলেই হয়, ঘড়ি তো ছ'টা দেখাচ্ছে কিন্তু পুঁটিরামের কচুরি! একা! বিদিশা ভাবে খাব, বাইরে দাঁড়িয়ে সেই কলেজ, ইউনিভার্সিটির জীবনের মতো, সেই চঞ্চল প্রজাপতি সময়টাকে আমি একাই হাতের মুঠোয় নি একবার অন্তত।
 
অফিস টাইমের ভিড়, সেই কালীঘাটে নামা, কাঁধে ভারী ব্যাগ, তবু আজ অন্যরকম লাগছে, কারটা কি দীপের মতো দেখতে লোকটাকে দেখল এসপ্লানেডে, আবারও ফিক করে হেসে ফেলে বিদিশা, প্রায় না হলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি তো দেখেই দুজনে, তবে কথা তো কবেই বন্ধ হয়ে গেছে, মনে পড়ে তখনও হোয়াটসঅ্যাপ জাঁকিয়ে বসেনি দীপ-বিদিশাদের পৃথিবীতে, দীপ কলারটিউন রেখেছিল "আনেওয়ালা পল যানেওয়ালা হ্যা" আর বিদিশা নিজে কী কলারটিউন রেখেছিল! আদৌ কিছু রেখেছিল কী? মনেই পড়ল না।
 
পাউরুটি, মাখন এইগুলো কিনে বেল বাজায় বিদিশা, হাসি মুখে দরজায় অরিন্দম।
-হাত মুখ ধুয়ে এসো, এক সাথে চা খাব...
বলে অরিন্দম। হাত নেড়ে বেডরুমে যায় বিদিশা, আয়নাটা বিদিশার বড্ড প্রিয়, চুপ করে দেখে নিজেকে, খেলুড়িগুলো সব পালটে গেছে আয়নার মেয়েটা তো সেই একই, একটু দুষ্টু, একটু ভালমানুষ গোছের আছে, যে এখুনি বলবে,
-মা মিশা-দির সাথে খেলতে গেলাম কী বাবা আজ আমি চিকেন খাব।
টিপটা খোলে বিদিশা, মনে মনে ভাবে পুরনোকে সরে যেতেই হয়, আয়নাটাকে একটু হাত দিয়ে পরিষ্কার করে, চকচকে কাচের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আজকের বিদিশা, যার দুষ্টুমিগুলো হারিয়ে গেছে প্রায়।
 
আয়না বলে,
-চলো আবার একটা নতুন গল্প শুরু করি, বাইরে কিন্তু অরিন্দম চা নিয়ে ডাকাডাকি করছে খেয়াল করো।
-আসছি, দাঁড়াও...
বলে ওঠে বিদিশা।
 
সমাপ্ত

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)