বাতায়ন/নৃপেন
চক্রবর্তী সংখ্যা/রম্যরচনা/৩য় বর্ষ/২৮ সংখ্যা/১৪ই কার্ত্তিক,
১৪৩২
নৃপেন চক্রবর্তী
সংখ্যা | রম্যরচনা
প্রদীপ
কুমার দে
রসের
জুটি
পর্ব— ১
"মায়েরও পছন্দ খুব। ভ্যাবলা তো আনন্দে আত্মহারা! কী ভাল দেখতে হবে আমার বৌদি!"
কলকাতার ছকুখানসামা লেনের
বাসিন্দা হ্যাবলা আর ভ্যাবলা দুই ভাই। হ্যাবলার বয়স চব্বিশ আর
ভ্যাবলার বিশ। হ্যাবলা বায়না ধরেছিল তার মায়ের কাছে,
বিধবা মা তাকে অনেক বোঝায়,
-আর একটু বয়স হোক তোর। সবে তোর সাইকেল রিপেয়ারিং দোকানটাও
জমে উঠছে, আর একটু সময় যাক, বাবা।
হ্যাবলা শুনতে
নারাজ,
-না, মা, আমি এখনই বিয়ে করব।
অগত্যা মা বেকায়দায়। একমাত্র
রোজগেরে ছেলে, যদি বিগড়ে যায়?
-তা বাবা, তোর কি কাউকে পছন্দ
করা আছে?
-না মা, কেউ নেই। তুমি দেখে
নাও। খুবই সুন্দরী যেন হয়।
মায়েরও ভাল লাগে। মা তার ছোট
বোনকে খবর দেয়। ছোট বোন থাকে চাকদায়। ওখানেই ওর শ্বশুরবাড়ি। ছোটমাসি হ্যাবলাকে জানে ভাল ছেলে বলেই। খুশি হয়ে নিজের আত্মীয়র এক
সুন্দরী কন্যাকে দেখায়। আর দেখে কে? হ্যাবলা মেয়ে দেখে
একেবারে জলে গল, না গলে জল,
-মা একেই আমি বিয়ে করব।
মায়েরও পছন্দ খুব। ভ্যাবলা তো
আনন্দে আত্মহারা! কী ভাল দেখতে হবে আমার বৌদি!
বিয়ে হয়েও গেল। কোনপক্ষই এ
সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নয়। উভয়পক্ষই যে বড় খুশি। হ্যাবলাও দেখতে ভাল, ফর্সা, সুন্দর চেহারা, দোষ শুধু একেবারেই সহজ সরল গোবেচারা বালক।
একুশ বছরের নতুন বউ আদর। বাপ-মায়ের দেওয়া
নাম, যেমনটি দেখতে মিষ্টি, তেমনই তার ব্যবহার। রোগাটে গড়ন, দুধে আলতা গায়ের রং, একমাথা কালো লম্বা
পাছা ছাড়া চুল। চুলের সিঁথি ভর্তি হাবলার সদ্য টানা লাল সিঁদুর!
আহা আহা আহা! কী দেখতে! লালপরী!
মা, ভাই ভ্যাবলা সবাই খুব খুশি। আর হ্যাবলা তো
নতুন এই সুন্দরী বউ পেয়ে একেবারেই...
আর আপনারা? লোভ হচ্ছে নিশ্চয়ই?
কিশোর
বয়সের কথা একবার ভাবুন!
এটাও একটা হাসির ধারাবাহিক
হতে চলেছে, সঙ্গে থাকুন, ভাল লাগবে, মজাও পাবেন। অবশ্যই
মন্তব্য করে জানাবেন, কেমন হবে?
ক্রমশ

ধন্যবাদান্তে শুভেচ্ছা জানাই সম্পাদক, লেখক, কবি আর পাঠকদের 🙏
ReplyDelete