প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

চৈতি হাওয়া—নববর্ষ

বাতায়ন/চৈতি হাওয়া—নববর্ষ/ সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ , ১৪৩৩ চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | সম্পাদকীয়   চৈতি হাওয়া—নববর্ষ "দুগ্ধপোষ্য...

Wednesday, April 8, 2026

চড়কের মেলায় রহস্যময় নাগরদোলা | অঞ্জনা মজুমদার

বাতায়ন/চৈতি হাওয়া—নববর্ষ/ছোটগল্প/৪র্থ বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ, ১৪৩৩
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | ছোটগল্প
অঞ্জনা মজুমদার
 
চড়কের মেলায় রহস্যময় নাগরদোলা

"দোলায় উঠে বাচ্চাগুলো ঝুঁকে হাততালি দিতে গিয়ে দোলা থেকে পড়ে যায়। আর ওদের বাঁচাতে গিয়ে ওদের বাবাও মারাত্মক আহত হয়। হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও তাকে বাঁচানো যায়নি।"

 
পানু আর মিনি দুই ভাইবোন চড়কের মেলায় নাগরদোলায় চড়বে বলে টিকিটের লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। বেশ লম্বা লাইন, এক-একবারে কুড়ি জন উঠতে পারে। মিনি বলল,
-দাদাভাই, কতক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি পা ব্যথা করছে।
পানু বলল,
-লাইনে এখনও পঞ্চান্ন জন। এক-একবারে দশ মিনিট করে ঘোরাচ্ছে। তার মানে এখনও কুড়ি মিনিটের বেশি দাঁড়াতে হবে। নাগরদোলা চড়তে গেলে এটুকু তো দাঁড়াতেই হবে বোন।
পাশ থেকে একটা কালো চশমাপরা লোক বলল,
-আমার সঙ্গে চলো আগে আগে নাগরদোলায় উঠিয়ে দেব।
মিনি দাদার হাত ধরে টানল,
-যাবে দাদাভাই
পানু ইতস্তত করছে। মা বলেন কারো কাছে কোনও সুযোগ নেওয়া উচিত নয়। কিন্তু বোনের পা ব্যথা। মায়ের মুখটা মনে পড়ল। বলল,
-নারে বোন আর একটু কষ্ট কর।
কিন্তু লোকটা জাদু জানে। একটা ফুল হাতে নেড়ে চলল আর মিনিও তার পিছনে পিছনে চলল অগত্যা পানুও। লোকটা পানুর কাছে টাকা চাইলে না। নাগরদোলায় নিয়ে দুজনকে বসিয়ে দিল। মিনিট দুয়েক পরেই নাগরদোলা চলতে শুরু করল। একবার ঘুরে কিছু লোক নেমে গেল, কিছু লোক উঠল। দুবার, তিনবার ঘুরেও পানুদের নামাল না যখন তখন মিনি কান্না জুড়ে দিল। পানুরও টেনশন হচ্ছে। বোনের হাত শক্ত করে ধরে থামাও থামাও বলে চেঁচামেচি করল কিন্তু কেউ যেন শুনতেই পাচ্ছে না। প্রতিবারই ওদের চেয়ার ওপরে এমন জায়গায় থামছে, যে কেউ ওদের দেখতেই পাচ্ছে না। পানু কিছুতেই বুঝতে পারছে না কী হচ্ছে। বোন কেঁদে কেঁদে ক্লান্ত। পানু কী করবে ঠিক করতে না পেরে ছটফট করতে করতে পকেটে হাত দিতেই মাথায় একটা আইডিয়া! পকেট থেকে মেলায় কেনা ক্যাপ ফাটানো পিস্তলটা নিয়ে আকাশের দিকে তাক করে পরপর ক্যাপ ফাটাতে শুরু করল। বার দশেক বন্দুকের আওয়াজ হবার পরই নাগরদোলা ধীরে ধীরে থেমে গেল। এবার ওদের চেয়ার নীচে নেমে এল।
পানু বোনকে নিয়ে তাড়াতাড়ি নামতে চাইল। নাগরদোলার চালক আতঙ্কিত মুখে ওদের হাত ধরে যত্নে নামিয়ে নিলেন। বললেন,
-তোমরা এই সিটে কী করে উঠলে
পানু বলল,
-ওই যে চশমাপরা আঙ্কেল, মাথায় লাল চুল আমাদের বসিয়ে দিলেন।
-চশমাপরা? মাথায় লাল চুল? সর্বনাশ! সে আবার দেখা দিয়েছে?
বাবা, মা দাদু চলে এসেছেন ওদের দেরি দেখে। দাদু বললেন,
-আপনারা কার কথা বলছেন? আর এত ভয় পাওয়ার কী আছে?
নাগরদোলার চালক বললেন,
-বাচ্চারা তোমরা বাবার সঙ্গে বাড়ি যাও।
তারপর দাদুর দিকে তাকিয়ে বললেন,
-আপনি বয়স্ক মানুষ। আপনাকে আলাদা করে বলব, আপনি বুঝবেন।
দাদু বললেন,
-ব্যাপারটা আসলে কী?
-সেটা একদিনের ঘটনা যেটা আমাদের জন্য খুব খারাপ। বাচ্চারা যে লালচুলো চশমাপরা লোকটিকে দেখেছে সে তার দুই বাচ্চাকে নিয়ে ওই দোলাটায় উঠেছিল। দোলায় উঠে বাচ্চাগুলো ঝুঁকে হাততালি দিতে গিয়ে দোলা থেকে পড়ে যায়। আর ওদের বাঁচাতে গিয়ে ওদের বাবাও মারাত্মক আহত হয়। হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও তাকে বাঁচানো যায়নি। বলা ভাল মা-মরা বাচ্চাদের বাঁচাতে পারেনি বলে সে বাঁচতেই চায়নি। কিন্তু সে এই দোলাটার মায়া কাটাতে পারেনি। দুজন বাচ্চা একসাথে দেখলেই তাদের দেখা দেয়। যদিও বড় কোনও ক্ষতি করেনি, কিন্তু ওই দোলায় বাচ্চাদের খানিকটা বেশি সময় আটকে রাখে। বাচ্চারা ভয় পায়, কাঁদে আর  কান্নার আওয়াজ আমাদের কানে গেলে আমরা বাচ্চাদের উদ্ধার করি। ওই দোলায় আমরা কাউকে বসাই না, খালি রাখি। তাও বেশি ভিড়ে কখনও এমন বিপত্তি হয়েছে। আমাদেরই ভুলে আপনার নাতি-নাতনি কষ্ট পেয়েছে। আমাদের ক্ষমা করে দিন কাকাবাবু।
দাদু বললেন,
-ঠিক আছে তবে তোমরা আর একটু সাবধান থেক। আর যেন কেউ বিপদে না পড়ে, ভয় না পায়।
দাদুর বন্ধু মন্দিরের পুরোহিত বললেন,
-আচ্ছা তোমরা ওই দোলাটা পালটে ফেলতে তো পার।
চালক বললেন,
-দোলা পালটাতে টাকা লাগবে বাবু। আমরা গরিব মানুষ একবারে অত টাকা পাই কোথায়?
দাদু বললেন,
-বেশ তোমার ওই দোলা পালটানোর টাকা আমি তোমাকে দেব। তুমি দোলা পালটে শান্তিতে ব্যবসা করো।
দাদুর বন্ধু বললেন,
-মিত্রদা যখন বলেছেন তখন টাকা তোমরা নিশ্চয়ই পাবে, চিন্তা কোরো না।
চালক আর দোলার সহায়ক লোকজন দাদুকে প্রণাম করে বলল,
-কাকাবাবু আপনার মতো মানুষ আছে বলেই সংসারটা চলছে।
 
~~000~~

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 8 (Last 7 days)