বাতায়ন/রম্যরচনা/৪র্থ বর্ষ/২য় সংখ্যা/১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩
রম্যরচনা
প্রদীপ
কুমার দে
দুষ্টু
বরের মিষ্টি বউ
ধারাবাহিক
রম্যঃ দশ
"আমি আর কালবিলম্ব না করে পড়িমরি করে ছুটে গিয়ে মিষ্টিকে ধরে ফেললাম। ও কাঁদছে। আমিও লাজলজ্জার মাথা খেয়ে ওকে আমার বুকে জাপটে ধরে নিলাম। ও দুহাত মুঠো করে আমার বুকে কিল মারল।"
সূর্য রোজ ওঠে। এক একদিন মনে
হয় তার আলো বেশি উজ্জ্বল। আসলে এটাই আমাদের মনের ব্যাপার, যেমনটি আজ আমাদের হল। ঘুম ভেঙে দেখি মিষ্টি বিছানায় নেই।
অন্যদিন থাকে। গতদিন থেকে আমি ওকে ছুঁইনি। ও বুঝে গেছে ব্যাপারটা। তাই সাতসকালে
উঠে গেছে। একটুপরেই মিষ্টি ঘরে এসে ধুনুচি থেকে ধুনোর ধোঁয়া ছড়াতে লাগল তার হাত
দিয়ে। দেখলাম ও স্নান সেরে নিয়েছে। মাথার চুল ভেজা। সম্ভবত পূজা সেরেই ফিরছে।
আমাকে দেখে মুখ ঘুরিয়ে নিল, অবজ্ঞা করে চলে গেল।
মা ঢুকে বলল,
-উঠে পড় খোকা বৌমা আজ কোথায় যেন যাবে বলছে। পুজো সেরে নিল
তাই।
মনটা হুহু করে উঠল। মা জানে
না। মিষ্টি আজ আমাকে ছেড়ে ওর নতুন প্রেমিক বাদশার সাথে চলে গিয়ে বিয়ে করে নেবে।
এখন সব পরকীয়ার যুগ। আমিও উঠে পড়লাম। বাথরুম সেরে প্যান্ট-জামা পড়ে অফিসের উদ্দ্যেশ্যে রেডি হচ্ছি। মিষ্টি বউ পাশে এসে মুখ ঘুরিয়ে
আলত করে বললে,
-আগে আমার সাথে যেতে হবে, তারপর অফিস।
আমিও ঝেড়ে দিলাম,
-তুমি পরকীয়া করে আজ বিয়ে করবে তাতে আমার থাকার কী আছে?
-তুমি সই করে দেবে।
-বাহ্ চমৎকার। আচ্ছা চল তোমায়
মুক্তি করে দিই।
মিষ্টি বউ মুখ ভেংচে চলে গেল।
ভাবছি এ কী ধড়িবাজ মেয়েরে? মিষ্টি বউ প্রায় টেনে নিয়ে গেল সেই মাঠেই। এখানেই হয়তো বিয়ে
সারবে। একদম ভিতরে ঢুকে জঙ্গল গাছগাছালির একেবারে ধারে গিয়ে দেখি, বন্ধু বাদশা আমার শালিকে নিয়ে ঘনিষ্ঠ হয়ে
বসে গল্প করছে। আমাদের দেখেই উঠে এল,
-আরে তুই এসেছিস। খুব ভাল হয়েছে। তোর বউ সত্যি বড় কাজের, শালিকে আমায় ঠিক গচিয়েই ছাড়ল। যদিও তোর শালি মানে আমার হবু গিন্নি,
হাসি
কিন্তু খুব ভাল পাত্রী।
আমি হতবাক! কিছুই মাথায় ঢুকল
না। শালি আবার কোথা থেকে এল? মিষ্টির ভূমিকা কী? পরকীয়া না নতুন প্রেম?
বাদশা
সব বলে দিল,
-শোন কেউ জানে না তোকেই বলছি তোর দুষ্টু মিষ্টি বউ এসবের
হোতা। তোর শালি হাসিকে এনে আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। ব্যাস প্রেম গজিয়ে গেল। এবার
হল কী, হাসি ওর বাড়ি থেকে আসত কিন্তু
আমার সাথে পার্কে বসতে চাইত না। তাই তোর বউও আসত আর আমাদের সুযোগ করে দিয়ে নিজে
আড়ালে অপেক্ষা করত। তোর শালির তবে ভয় ভাঙে। তুই হয়তো ভুল ভেবেছিলি। মিষ্টি চেয়েছিল আমি
হাসিকে বিয়ে করি আর আমিও চেয়েছিলাম বিয়ের আগে হাসির সাথে একান্তে কিছুদিন কথা
বলতে। বৌদি সাবলীল হয়ে তোর শালির ভয় আর জড়তা কাটিয়ে দিয়েছিল।
হাসির জন্যই আমি আর মিষ্টি বৌদি ফোনে প্রোগ্রাম করতাম। বৌদি আসত আর তুই ভুলভাল
বুঝতিস। মিষ্টি বৌদি একেবারে খাঁটি মানুষ শুধু নিজের বোনের হিল্লে চেয়েছিল কারণ
তোদের বলিনি কিন্তু মিষ্টি বৌদি জানত আমি একটা ভাল সরকারি চাকরি পেয়ে গেছিলাম।
পাশ দিয়ে মিষ্টি চলে যাচ্ছিল
হনহন করে। হাসি দৌড়ে এসে আমায় বললে,
-জামাইবাবু দিদিকে ফেরান, ও দুঃখে চলে যাচ্ছে।
আমি আর কালবিলম্ব না করে পড়িমরি করে
ছুটে গিয়ে মিষ্টিকে ধরে ফেললাম। ও কাঁদছে। আমিও লাজলজ্জার মাথা খেয়ে ওকে আমার বুকে
জাপটে ধরে নিলাম। ও দুহাত মুঠো করে আমার বুকে কিল মারল। আমি ওর মুখে অনবরত চুম্বন
করতে লাগলাম। ও শান্ত হল,
-অসভ্য একটা দুষ্টু বর আমার!
-তুমি যে আমার সোনা মিষ্টি বউ!
দূরে দাঁড়িয়ে বাদশা আর হাসি
হাততালি নেড়ে জানাল,
-দুষ্টু বরের মিষ্টি বউ, যুগ যুগ জিও!
~~000~~

No comments:
Post a Comment