প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নারী না পুরুষ | সাম্য

বাতায়ন/নারী না পুরুষ / ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ , ১৪৩৩ নারী না পুরুষ সম্পাদকীয় সাম্য "একে অন্যের পরিপূরক হয়ে ...

Saturday, August 15, 2026

প্রাত্যহিকীতে অশোক | অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়

বাতায়ন/নারী না পুরুষ/হলদে খাম/৪র্থ বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩
নারী না পুরুষ
হলদে খাম
অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রাত্যহিকীতে অশোক

"বিজ্ঞানীরা একের পর এক নিত্য নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশে প্রভুত অবদান রেখেছেন। আবিস্কার করেন বিভিন্ন মৌল, খনিজ ধাতু বা অধাতু, জীবনের অস্তিত্বের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস এবং কিছু নিস্ক্রিয় গ্যাস এবং তেজস্ক্রিয় মৌল।"

 
প্রভাত সখা প্রাত্যহিকী,

এবারের প্রাত্যহিকীর বিষয় "অজানার সন্ধানে" নিয়ে আমার কিছু বলার আছে।
অচেনাকে চেনার বা অজানাকে জানার আকাঙ্ক্ষা মানুষের চিরন্তন। এই আবিস্কারের নেশা সেই আদিকাল থেকেই মানুষকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। এবং সেই অনুসন্ধানের ও প্রচেষ্টার ফলেই মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের ধারা অব্যাহত রয়েছে বরাবর। "থাকবো না কো বদ্ধ ঘরে, দেখবো এবার জগতটাকে" করে আমেরিকা ও ইউরোপের অসম সাহসী অভিযাত্রীর অজানার সন্ধানে বেরিয়ে আবিস্কার করে ফেলেছেন নূতন দেশ আমেরিকা, আফ্রিকা, ভারতের মতো উপ মহাদেশের অস্তিত্ব। রাখাল দাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রথিতযশা প্রত্নতাত্ত্বিকরা মাটি খুঁড়ে আবিস্কার করেন হরপ্পা মহেঞ্জোদারোর মতো অতি প্রাচীন সভ্যতা। বিজ্ঞানীরা একের পর এক নিত্য নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশে প্রভুত অবদান রেখেছেন। আবিস্কার করেন বিভিন্ন মৌল, খনিজ ধাতু বা অধাতু, জীবনের অস্তিত্বের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস এবং কিছু নিস্ক্রিয় গ্যাস এবং তেজস্ক্রিয় মৌল। পদার্থ, রসায়ণ ও জীব বিজ্ঞানীরা বা চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন নানা তথ্য ও তত্ত্ব যেমন অণু, পরমাণু, ইলেকট্রন, নিউট্রন, প্রোটন, ঈশ্বর কণা, নিউক্লিয়াস, প্রোটোপ্লাজম, সাইটোপ্লাজম, মাইট্রোকনড্রিয়া, জীন ও ক্রোমোজোম, ডিএনএ, আরএনএ ইত্যাদি। আজ বিজ্ঞানের আবিষ্কার ফিউশন ও ফিসন প্রযুক্তির পরমাণু অস্ত্র বা হাইড্রোজেন বোম, দূরন্ত গতিতে অন্য শত্রু দেশের বুকে আছড়ে পড়া মিসাইল ও লেসার বীম, ড্রোন নিমেষে ধ্বংস করতে সক্ষম ছোটো বড়ো দেশকে।
তবুও থেমে নেই মানুষের নূতনকে চেনার বা অজানাকে জানার অনুসন্ধান ও আবিষ্কার এবং আধুনিক সভ্যতার অগ্রগতি।
এই অজানার সন্ধানে এগিয়ে যেমন আবিস্কৃত হয়েছে সর্ব রোগ প্রতিরোধী পেনিসিলিনের মতো এন্টিবায়োটিক তেমনি আধুনিক প্রযুক্তি যুগের অত্যাশ্চর্য আবিস্কার কম্পিউটার এবং দ্রুত যোগাযোগের সর্বাধুনিক যন্ত্র স্মার্টফোন যেটি না হলে আজকের দিনে এক মুহূর্তও চলে না।
জীবনে প্রথম বার যখন ইলেকট্রিক লাইট ও ফ্যান এবং রেডিয়ো, টিভি ও টেলিফোন ব্যবহার করা হয় ঘরে— সেই নূতন চমকপ্রদ সভ্যতার ফসলকে নিয়ে আমাদের ছোটো বেলায় সে যে কী উন্মাদনা ছিল বোঝানো যাবে না। আবার জীবনে প্রথম বার যখন সমুদ্র দেখি বা এরোপ্লেন করে আকাশের নীলে ওড়ার সুযোগ পাই, সেও ছিল চরম উত্তেজনা ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। ইন্টারনেট সংযোগ না চালু হলে কে জানত যে এর দ্বারা এত রকমের গুরুত্বপূর্ণ কাজ মুহূর্তের মধ্যে সেরে ফেলতে পারে মানুষ? বিজ্ঞানের প্রতি প্রবল আকর্ষণ বশত আমি নিজে এত রকমের গুরুত্বপূর্ণ আইডিয়া চিন্তা করে বের করেছি যেগুলো অধিকাংশই পরবর্তী সময়ে আবিষ্কার হয়েছে এবং আধুনিক সভ্যতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
চরৈবেতির মন্ত্র নিয়ে এগিয়ে চলুক সভ্যতার রথ নব প্রজন্মের হাত ধরে অজানার সন্ধানে সেই কামনা রইল। সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাই।
 
অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়
 

No comments:

Post a Comment

নাবিকের খোঁজে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)