বাতায়ন/শারদীয়া/রম্যরচনা/৪র্থ বর্ষ/১৫তম সংখ্যা/৩১শে ভাদ্র, ১৪৩৩
শারদীয়া
রম্যরচনা
প্রদীপ কুমার দে
প্রেয়সীর ইচ্ছে অনিচ্ছে
ধারাবাহিক-৬
শারদীয়া
রম্যরচনা
প্রদীপ কুমার দে
প্রেয়সীর ইচ্ছে অনিচ্ছে
ধারাবাহিক-৬
খুব বাজে ছিল ছেলেটা। অসভ্য। আমার গায়ে দু-একবার হাত দিয়েও দিয়েছিল। আমি পালিয়ে এসেছিলাম। ওসব জেনে তোমার কী লাভ? খুব চালাক না? কায়দা করে মেয়েদের গোপন খবর জানা?
কেলো করেছে। আবার না ঝামেলা না পাকায়। হ্যাঁ ঠিক তাই! আমার বুকে মাথা গুঁজে দিয়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস ছাড়ল।
-পুরুষ এরকমই ভাল। যার উপর রাগ করা যায়।
কপাৎ করে একটা হামি উড়িয়ে দিল,
-বলে ফেলো...
-তুমি গোয়া গেছ?
-তাই নাকি? একথা আবার তোমায় কে বললে?
-তা ছেলেটা কে?
-তোমাদের চরিত্র ভগবানেরও অজানা...
-তোমার চরিত্র নিয়ে আমি কিছু জিজ্ঞাসা করেছি, যে এমন বলছ? ছেলেরা সব ধোওয়া তুলসী পাতা নাকি? আর মেয়ে বলে অশুদ্ধ। স্নান করে নিলেই হল, আসল কথাটি হল তুমি পরিষ্কার কিনা! দেহ অশুদ্ধ হলে স্নান করে নিলেই শুদ্ধ, মনেতে তো আর নোংরা লাগে না। আর তোমরা ছেলেরাই তো আমাদের সাথে অসভ্যতা করো...
-তা ঠিকই বলেছ। কিচ্ছু বলার নেই।
-বলার আবার কী থাকবে? দেখো ছোটবেলার কুকীর্তি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করো না। ওরকম কমবেশি সকলেরই ঘটে তাতে মহাভারত উল্টে যায় না। রামায়ণ মহাভারত খুলে পড়ে দেখে নাও, দেখবে নরনারীর শরীরের ইচ্ছেটাই বড় কথা ওরাও অত তোমার মতো শুচিবায়ুগ্রস্ত নয়।
-বাব্বারে!
-তুমি ইয়াং হও। তোমার বউ কিন্তু সবেতেই এগিয়ে। ইচ্ছে হলেই হল তবে হ্যাঁ আমার ইচ্ছে হলে তোমায় তার দাম দিতেই হবে…
-হ্যাঁ জানি তোমার ইচ্ছে আর অনিচ্ছের কথা…
হঠাৎই রেগে গেল প্রেয়সী। চোখ বড়বড় করে আমায় সাবধান করে দিল,
আমি চুপ মেরে গেলাম। বউ খানিকক্ষণ দেখে আবার আমায় আদর করতে লেগে গেল,
-কেন?
-আমারও তো ইচ্ছে করে না কি?
আমি থ! বলছে কী? হেলান দিয়ে আধশোয়া অবস্থায় ছিলাম। তাড়াতাড়ি উঠে বসে পড়লাম। প্রেয়সী আমাকে শুইয়ে দিল আর নিজে আমার বুকে মুখ রেখে বললে,
ওরে আমার মা-বাপ! এখন কেবলই আমার মরা বাপ-মায়ের কথা ভীষণভাবে মনে পড়ে গেল, কেন তা কিন্তু জানি না।
~~000~~

No comments:
Post a Comment