প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Saturday, March 16, 2024

ইন্দ্রজিৎ রায় | পাতাগুলো

বাতায়ন/ছোটগল্প/১ম বর্ষ/৩১তম সংখ্যা/২রা চৈত্র, ১৪৩০

ছোটগল্প

ইন্দ্রজিৎ রায়

পাতাগুলো


গাঁজাখোরদের জীবন নিয়ে তেমন একটা সাহিত্য হয়নি, অর্থাৎ আমি জানি না, কারণ বলতে গেলে, বই পড়ে তো এই ভাবটি ধরা যাবে না, তাই এটা সৌভাগ্যক্রমে, অধ্যাপকীয় এক্তিয়ারের, সেমিনার ইত্যাদির বাইরের কারণ বলে নয়, করে দেখতে হবে, যদি গবেষণার প্রসঙ্গ আসে, সঙ্গ কথাটি প্রথমেই জড়িয়ে গেল, দেখতেই পাচ্ছেন অতএব সঙ্গ থেকে ফিলটার না করে উপায় নেই। এই শুনছি আজীবন, কীসের ফিলটার, কাকে করব এ-ও এক তকমা। খুব কাছ থেকে, গাঁজাখোরদের জীবন দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার, খুব কাছ থেকে, ভদ্রজনদের মতো ওপর ওপর দেখা নয়, কীভাবে ভাড়াবাড়ির পর মেস, স্টেশনের ওয়েটিং রুম, এসব জায়গায় থেকে কীভাবে তামাক-রসিকেরা তাদের রসদ পাচ্ছেন, এ নিয়ে বলা হয়নি তেমন।

গাঁজাচাষিও দেখেছি, একটু প্রান্তিক কারণ গাঁজা তো ট্যাবু, মদ নয়, যদিও অধিকাংশ ক্রাইম মদের প্রভাবে ঘটে বলেই বিশেষজ্ঞদের মত, তবু গাঁজা বিক্রি হয় চুপেচাপে, মদের মতো সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তার নেই। এখন গাঁজাখোরেরও গ্রেড আছে, আর সব বৃত্তির মতোই, এখানেও কুলীন ও পেঁচো, দুরকমই লভ্য।

ভাগ্যক্রমে, কুলীনই পেয়েছিলাম, সাবজেক্ট হিসেবে, তাই উতরে গেল। এখন এদের অধিকাংশেরই সাধনার পীঠ ছিল বাথরুম, চিলেকোঠা, বসে সুন্দর করে সেবা নিতেন, কিন্তু সবখানেই তো সাব প্লট থাকে, কখনও বোঝা যায় না, এখানে ছিল এক সদ্যজাত প্রায় টিকটিকি, সে গাঁজার ধোঁয়ায় এতটাই মোহিত হয়ে পড়ে যে সন্ধেবেলা, হলেই সে ঠিক শাওয়ারের পাশের দেয়ালে উপস্থিত হতে লাগল, এই মহাজাগতিক খেলা রোজই হোতো, ওরা দেখতেন, টিক্কাও নিশ্চয়ই দেখত ওদের, না না দেখতই আজ ভাবি, ওদের গোপন অভিব্যক্তি, নেশাগ্রস্ততা, সবই। আমরাও বয়স অতিক্রান্ত করলাম ক'মাস, টিক্কাও যৌবনাক্রান্ত হবার আগেই, ধোঁয়াতে আচ্ছন্ন, যেদিন সাধনা হয় না কোনো কারণে, সেদিন গুরুমা মণীষা বাথরুমে ঢুকেই গজগজ করেন, শোনা যায়, ওহ এই টিকটিকিটা যায়ও না, আপদ, কেমন করে যেন তাকিয়ে থাকে, অপলক, এই যাহ্‌, জল ছেটানোর শব্দ, তখন  যায় নিশ্চয়ই।

এই নায়কের পুচ্ছ, একদিন কাটা পড়ে বাথরুমের এগজস্ট্ পাখায়, অর্থাৎ ভেবেছিল পাখার ফাঁক দিয়ে গলে যেতে পারবে কিন্তু, ওই আর কী, বলতে পারেন মারিজুয়ানা লজিক বলেই অমন ভেবেছিল, যে পাখার ব্লেডের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে যাবে, মারাত্মক আহত এই সামুরাই নায়ক, লেজ খসে যাওয়া স্পার্টাকান্, কোথাও লুকিয়ে পড়ে। তাকে আর দেখা যায় না কতদিন।

এক গলি থেকে, বড় রাস্তা পেরিয়ে ওপাশের গলিতে ঢুকে যাই, রোজই। আমগাছের নীচে, একটা বাড়ি দোকান ভাড়া খোঁজার কাউন্টার ছিল, দু-একজন ক্ষয়াটে চেহারার, চোখসর্বস্ব ব্রোকার সেখানে বসে থাকতেন, সকাল থেকেই প্রায়, মাঝে মাঝেই উধাও হয়ে যেতেন, খদ্দেরদের ঘর দেখাতে যেতেন আর কী। তা সেই দোকান উঠে গিয়ে, সেখানে চা বিস্কুট ঘুঘনি পাউরুটি, ঝকঝকে বাসনপত্তর, একটি খুলেছে সম্প্রতি।

এর ভেতরই, বর্ষা ঢুকে পড়েছে, এই আপাত মৃত, টাঁড় শহর, কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে,  মুখের পেশিগুলো, যেমন সাঁকোগুলো, মৌসুমি পরাবাস্তবতায় লীন হয়েছে কিছু, ভাতের হোটেলগুলো, ব্রহ্মাণ্ডের ঝুলন মেলা যেন, তরুণবাবুর ভাতের হোটেলের পেছনেই বড় ঝিল একটা, জলের অভাবে কিঞ্চিত ছোট হয়ে এসেছিল, এ সময়ে, কাকচক্ষু জল, বৃষ্টি পড়ছে রাতভর, কাল দেখা যাবে খালবিল, জিম করে যেন ফুলে উঠেছে একটু। পালাতে গিয়ে, পাখার ব্লেডে লেজ কেটে যাওয়া, সামুরাই নায়ককে, আজ কতদিন দেখি না। গাঁজা অথবা জ্ঞানযোগ নিয়ে, তেমন সাহিত্য অনেক বছর সত্যই হয়নি।

সমাপ্ত

5 comments:

  1. শাশ্বত চক্রবর্তীMarch 17, 2024 at 6:26 PM

    ভীষণ সুন্দর লেখা।

    ReplyDelete
  2. " This is the prelude of a readable novel, continue, keeping the protagonist invisible, and ganja playing with time..."

    ReplyDelete
  3. " This is the prelude of a readable novel, continue, keeping the protagonist invisible, and ganja playing with time..."

    ReplyDelete
  4. " This is the prelude of a readable novel, continue, keeping the protagonist invisible, and ganja playing with time... " মল্লিনাথ

    ReplyDelete

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)