বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক/ধারাবাহিক/২য় বর্ষ/৩য়/বীথি চট্টোপাধ্যায়
সংখ্যা/১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১
ধারাবাহিক গল্প
সৌগত গোস্বামী
ভাইরাস
[২য় পর্ব]
পূর্বানুবৃত্তি পদার্থবিজ্ঞানের
প্রফেসার দে বাবুর রিটায়ার করার বয়স যতই এগিয়ে আসছে কলেজের প্রতি, ছাত্রছাত্রীদের
প্রতি টান ততই বেড়ে যাচ্ছে। তিনি হঠাৎ কোথা থেকে যেন পড়ে গেলেন। তিনি দেখলেন হাতে
গোনা কয়েকজনই রয়েছে সেখানে, কী যেন বানাচ্ছেন তারা। অদ্ভুত ব্যাপার, তাদের সবার
চোখে নীল রঙের চশমা। নাহ্ সানগ্লাস নয়, তবে আধুনিক সানগ্লাস হতেই পারে। দে বাবুর
বুঝতে বাকি রইল না তিনি ভাগ্যের পরিহাসে হঠাৎই উপস্থিত হয়েছেন অন্য এক জগতে।
তারপর…
তিনি বললেন,
— দেখুন যা হয়েছে তা খুবই অন্যায়, এমতাবস্থায় আমারও কিছু বলার নেই, তবে আপনার কথা মাথায় রাখব রাজামশাই। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো ও যেটুকু ব্যবহার হয় তা যেখানে সেখানে না ফেলে রি-সাইক্লিং-এর ব্যবস্থা আমরা করব। আর গ্লোবালওয়ার্মিং থেকে পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য গাছ লাগানো চলছে, সেটার হার আরো বাড়াব।
— দেখুন যা হয়েছে তা খুবই অন্যায়, এমতাবস্থায় আমারও কিছু বলার নেই, তবে আপনার কথা মাথায় রাখব রাজামশাই। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো ও যেটুকু ব্যবহার হয় তা যেখানে সেখানে না ফেলে রি-সাইক্লিং-এর ব্যবস্থা আমরা করব। আর গ্লোবালওয়ার্মিং থেকে পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য গাছ লাগানো চলছে, সেটার হার আরো বাড়াব।
আপনি প্লিজ এই ভাইরাস বানানো বন্ধ করুন!
— আপনিই বলেন, মানুষকে প্লাস্টিকে মুড়ে দেওয়ার জন্য দূষণের মাত্রা কতটা কমেছে আমার দাদার বুকে। ওজনস্তরের ছিঁড়ে যাওয়া অংশও আজ জুড়ে যাচ্ছে। তার পরও আমি দাদার ভাল হওয়া আটকাব?
— আপনি প্লিজ এই ভাইরাস বানানো বন্ধ করেন, নতুবা মানুষের অস্তিত্বই থাকবে না পৃথিবীতে। মানুষ অনেক বড় শিক্ষা পেয়েছে। আর ভুল করবে না সে!
— হ্যাঁ ঠিকই বলেছেন, অনেকটাই শিক্ষা দেওয়া গেছে, তবে একটা ঘটনা ঘটে গেছে, যার কারণে করোনা ভাইরাস তৈরি করার মেশিন বন্ধ করা যাচ্ছে না!
— সর্বনাশ! তাহলে এখন উপায়? কল্লোল 43
— উপায় অবশ্য আছে। আপনাকে এই ‘চিপ সেট’টা দিচ্ছি। এটি আপনি আপনার ল্যাবের কম্পিউটারে ঢুকালেই হোয়াইট হোল থেকে একটি রে পৃথিবীর দিকে যাবে যা ধ্বংস করে দেবে সমস্ত ভাইরাস!
— দিন আমাকে তাহলে, আমি কথা দিচ্ছি সমগ্র মানবজাতির পক্ষ হয়ে, আপনার সেজদাকে আবার আগের মতো সুস্থ করে তুলব। কিন্তু ভাইরাস যে আর পৃথিবীতে নেই বুঝব কী করে? চোখে তো দেখা যায় না!
রাজামশাই হাসতে হাসতে দে বাবুকে ওই ‘চিপ সেট’ আর একটি চশমা দিলেন। ওই নীল চশমা। বললেন,
— এই চশমা পরলেই ভাইরাসটিকে দেখতে পাবেন। আর ওই রে-টিকেও।
এরপর হঠাৎ আবার অন্ধকার, গলা শুনলেন তার মেয়ে তাকে বাবা বলে ডাকছে। হঠাৎ দে বাবু দেখলেন তিনি চেয়ার থেকে মেঝেতে পড়ে আছেন, আর বাইরের সমস্ত কিছুই সেই আগের মতো! করোনা ভাইরাস ও লকডাউনের পরিচিতি দিন! হঠাৎ চোখ কপালে উঠে গেল দে বাবুর যখন নিজের বিছানায় দেখলেন সেই ‘চিপ সেট’ আর চশমা! তড়িঘড়ি করে নিজের ফোর হুইলারে করে গেলেন কলেজে, সেখানে তার নিজের ল্যাব ও কম্পিউটার আছে। নীল চশমাটা চোখে দিয়েই চিপ সেটটা ঢোকালেন তার কম্পিউটারে। অবাক ভাবে ল্যাবের জানালা দিয়ে দেখলেন এক অতি উজ্জল রে আসছে পৃথিবীর দিকে যা ধীরে ধীরে ধ্বংস করছে সমস্ত করোনা ভাইরাস! দে বাবুর মুখের হাসিটা যেন আরো চওড়া হয়ে গেল! পরদিন, টিভিতে সম্প্রচারিত হলো, করোনা ভাইরাস থেকে পৃথিবী মুক্ত। লকডাউন উঠল ও মানবজাতি ফেলল স্বস্তির নিঃশ্বাস! কলেজে গেলেন দে বাবু। তবে ফিজিক্সের বদলে তার গলায় শুধুই প্লাস্টিক মুক্ত পৃথিবী, সবুজে ভরা পৃথিবী গড়ার ডাক। “গাছ লাগান, প্রাণ বাঁচান” “এসো আমরা শপথ করি, প্লাস্টিক মুক্ত পৃথিবী গড়ি” প্ল্যাকার্ডে ভরে গেল কলেজ চত্তর। এই ক্যাম্পেনই যে দিকে দিকে ছড়িয়ে দিতে হবে তাকে! তাহলেই তো আর কোন ভাইরাস তৈরি করে পৃথিবীতে পাঠাবে না তার অন্যান্য ভাইয়েরা বা দাদারা।
— আপনিই বলেন, মানুষকে প্লাস্টিকে মুড়ে দেওয়ার জন্য দূষণের মাত্রা কতটা কমেছে আমার দাদার বুকে। ওজনস্তরের ছিঁড়ে যাওয়া অংশও আজ জুড়ে যাচ্ছে। তার পরও আমি দাদার ভাল হওয়া আটকাব?
— আপনি প্লিজ এই ভাইরাস বানানো বন্ধ করেন, নতুবা মানুষের অস্তিত্বই থাকবে না পৃথিবীতে। মানুষ অনেক বড় শিক্ষা পেয়েছে। আর ভুল করবে না সে!
— হ্যাঁ ঠিকই বলেছেন, অনেকটাই শিক্ষা দেওয়া গেছে, তবে একটা ঘটনা ঘটে গেছে, যার কারণে করোনা ভাইরাস তৈরি করার মেশিন বন্ধ করা যাচ্ছে না!
— সর্বনাশ! তাহলে এখন উপায়? কল্লোল 43
— উপায় অবশ্য আছে। আপনাকে এই ‘চিপ সেট’টা দিচ্ছি। এটি আপনি আপনার ল্যাবের কম্পিউটারে ঢুকালেই হোয়াইট হোল থেকে একটি রে পৃথিবীর দিকে যাবে যা ধ্বংস করে দেবে সমস্ত ভাইরাস!
— দিন আমাকে তাহলে, আমি কথা দিচ্ছি সমগ্র মানবজাতির পক্ষ হয়ে, আপনার সেজদাকে আবার আগের মতো সুস্থ করে তুলব। কিন্তু ভাইরাস যে আর পৃথিবীতে নেই বুঝব কী করে? চোখে তো দেখা যায় না!
রাজামশাই হাসতে হাসতে দে বাবুকে ওই ‘চিপ সেট’ আর একটি চশমা দিলেন। ওই নীল চশমা। বললেন,
— এই চশমা পরলেই ভাইরাসটিকে দেখতে পাবেন। আর ওই রে-টিকেও।
এরপর হঠাৎ আবার অন্ধকার, গলা শুনলেন তার মেয়ে তাকে বাবা বলে ডাকছে। হঠাৎ দে বাবু দেখলেন তিনি চেয়ার থেকে মেঝেতে পড়ে আছেন, আর বাইরের সমস্ত কিছুই সেই আগের মতো! করোনা ভাইরাস ও লকডাউনের পরিচিতি দিন! হঠাৎ চোখ কপালে উঠে গেল দে বাবুর যখন নিজের বিছানায় দেখলেন সেই ‘চিপ সেট’ আর চশমা! তড়িঘড়ি করে নিজের ফোর হুইলারে করে গেলেন কলেজে, সেখানে তার নিজের ল্যাব ও কম্পিউটার আছে। নীল চশমাটা চোখে দিয়েই চিপ সেটটা ঢোকালেন তার কম্পিউটারে। অবাক ভাবে ল্যাবের জানালা দিয়ে দেখলেন এক অতি উজ্জল রে আসছে পৃথিবীর দিকে যা ধীরে ধীরে ধ্বংস করছে সমস্ত করোনা ভাইরাস! দে বাবুর মুখের হাসিটা যেন আরো চওড়া হয়ে গেল! পরদিন, টিভিতে সম্প্রচারিত হলো, করোনা ভাইরাস থেকে পৃথিবী মুক্ত। লকডাউন উঠল ও মানবজাতি ফেলল স্বস্তির নিঃশ্বাস! কলেজে গেলেন দে বাবু। তবে ফিজিক্সের বদলে তার গলায় শুধুই প্লাস্টিক মুক্ত পৃথিবী, সবুজে ভরা পৃথিবী গড়ার ডাক। “গাছ লাগান, প্রাণ বাঁচান” “এসো আমরা শপথ করি, প্লাস্টিক মুক্ত পৃথিবী গড়ি” প্ল্যাকার্ডে ভরে গেল কলেজ চত্তর। এই ক্যাম্পেনই যে দিকে দিকে ছড়িয়ে দিতে হবে তাকে! তাহলেই তো আর কোন ভাইরাস তৈরি করে পৃথিবীতে পাঠাবে না তার অন্যান্য ভাইয়েরা বা দাদারা।
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment