বাতায়ন/ছোটগল্প/২য় বর্ষ/সৈয়দ
হাসমত জালাল সংখ্যা/২১শে বৈশাখ, ১৪৩১
ছোটগল্প
সঙ্ঘমিত্রা দাস
ঘূর্ণি
ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ,
পরপর তিন দিন ছুটি, জমিয়ে ঠান্ডা পড়েছে আজ। হুহু করে হাওয়া বইছে। চারদিকের
কুয়াশায় লাইটপোষ্টের আলোগুলো ঝাপসা। রাস্তায় লোকজন নেই তেমন। অপূর্ব ট্রেন থেকে
নেমে হনহন করে বাড়ির দিকে পা বাড়ালো।
প্ল্যাটফর্ম থেকে নামার পথে কোণায় কেউ হাঁক পাড়ল 'বাবু শাক নিয়ে যাও।' তাকিয়ে দেখে কয়েক আঁটি শাক নিয়ে এক বৃদ্ধা তখনো বসে। অপূর্বর মায়া হল। হাঁটু মুড়ে বুড়ির সামনে বসে পড়ল। 'কাল এসো মাসি, আজ আর বিক্রি হবে না', কিন্তু বুড়ি নাছোড়। ঘরে স্বামী পক্ষাঘাতে বিছানায়, ওষুধ কিনতে হবে, তাই সব শাক না বেচে সে ফিরবে না, তা সে যত রাতই হোক। অপূর্ব সব কিনে নিতে চায়, বুড়ি বলে 'তুমি এত শাক কী করবে? ' 'পরপর তিনদিন ছুটি, একটু একটু করে খেয়ে নেব' বলে অফিস ব্যাগ থেকে বড় একটা প্লাস্টিক বের করে শাকগুলো ভরে ফেলে। একশো টাকার একটা নোট দিলে বুড়ি দশ টাকার একটা কয়েন ফেরত দিতে চাইলে অপূর্ব হেসে বলে 'ওটা দিয়ে আজ ভ্যানে করে বাড়ি ফিরো।'
প্ল্যাটফর্ম থেকে নামার পথে কোণায় কেউ হাঁক পাড়ল 'বাবু শাক নিয়ে যাও।' তাকিয়ে দেখে কয়েক আঁটি শাক নিয়ে এক বৃদ্ধা তখনো বসে। অপূর্বর মায়া হল। হাঁটু মুড়ে বুড়ির সামনে বসে পড়ল। 'কাল এসো মাসি, আজ আর বিক্রি হবে না', কিন্তু বুড়ি নাছোড়। ঘরে স্বামী পক্ষাঘাতে বিছানায়, ওষুধ কিনতে হবে, তাই সব শাক না বেচে সে ফিরবে না, তা সে যত রাতই হোক। অপূর্ব সব কিনে নিতে চায়, বুড়ি বলে 'তুমি এত শাক কী করবে? ' 'পরপর তিনদিন ছুটি, একটু একটু করে খেয়ে নেব' বলে অফিস ব্যাগ থেকে বড় একটা প্লাস্টিক বের করে শাকগুলো ভরে ফেলে। একশো টাকার একটা নোট দিলে বুড়ি দশ টাকার একটা কয়েন ফেরত দিতে চাইলে অপূর্ব হেসে বলে 'ওটা দিয়ে আজ ভ্যানে করে বাড়ি ফিরো।'
সাহায্য করতে পেরে বেশ গর্বিত লাগে অপূর্বর। মন্দিরের পাশে শর্টকাট ধরে ও। মন্দিরের গায়ে লেখা বাণীগুলো চোখে পড়ে। নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার নাম সেবা। সেবাই পরম ধর্ম। আর কতটা হাত উপুড় করা যেত? একটা হাত উপুড় করে কি বদলানো যায় কিছু? ওই বৃদ্ধার দুর্দশা মেটানো সম্ভব? এলোমেলো ভাবনাগুলো পাক খায় অপূর্বর মনে হঠাৎ দমকা হাওয়ায় মাথার উপরে সরু দড়িতে ঝোলানো পোষ্টারগুলো ছিঁড়ে ওর গায়ে লেপ্টে পেঁচিয়ে ধরে। উন্নয়নের কত শত কথা তাতে, নারী কল্যাণ, শিশু কল্যাণ, বিধবা ভাতা। সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে, উন্নয়নের নিরিখে ভারতবর্ষ যেন বিশ্বের কত নম্বরে দাঁড়িয়ে? হোঁচট খায় অপূর্ব, নিজেকে সামলে নিয়ে পা দুটো বাড়ির দিকে এগোয় কিন্তু মনটা ওই মন্দিরের দেয়ালে আর পোস্টারগুলোর মধ্যে অবিরাম ধাক্কা খেতে থাকে।
সমাপ্ত

খুব সুন্দর
ReplyDelete