বাতায়ন/সাপ্তাহিক/ধারাবাহিক/২য় বর্ষ/৩য় সংখ্যা/৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১
ধারাবাহিক গল্প
সৌগত গোস্বামী
ভাইরাস
[১ম পর্ব]
সকালে ঘুম থেকে উঠেই বাড়ির সামনের মাঠে একটু জগিং আর ওনার বয়সি
লোকেদের সাথে আজকালের ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে আড্ডার পালা শেষ করে, বাড়ি ফিরে নিজের
শখের ফুলের বাগানে জল দিয়ে সকাল শুরু হয়, সদা মুখে হাসি লেগে থাকা, পেশায়
পদার্থবিজ্ঞানের প্রফেসার দে বাবুর। রিটায়ার করার বয়স যত কাছে আসছে, ওনার কলেজের
প্রতি টান আর ওনার ছাত্রদের প্রতি ভালবাসাও দিন দিন সমানুপাতের সূত্রপথ ধরে বেড়েই
চলেছে।
কিন্তু বেশ কয়েকদিন হয়ে গেল, কলেজে যাওয়া নেই, ছাত্রছাত্রীদের দেখা পাওয়া
নেই, সকালের জগিং, আড্ডা কিছুই নেই দে বাবুর ডেইলি রুটিনে। মাঝে মাঝে বাজারে গেলে
দেখা মেলে নিজের মতোই সাদা পোশাকে আপাদমস্তক মোড়া লোকজনের, যাদের বাইরে থেকে চেনার
বিন্দুমাত্র উপায় নেই! হ্যাঁ করোনা নিয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিক সচেতন, ভাইরাসটার
দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। আজও বাজার থেকে এসে সাদা পোশাক খুলে, সেটাকে
স্যানিটাইজেশন করে হাতে মুখে সাবান দিয়ে ঘরে ঢুকে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন তিনি। সকালের
খাবার শেষ করে আর ট্রেন ধরার তাড়া নেই, নেই সঠিক সময় কলেজে পৌঁছোনোর ব্যস্ততা! অগত্যা
ঘরের প্রিয় আরামকেদারায় বসে মাথার উপর সিলিং-এ ঘুরে চলা ফ্যানের দিকে এক দৃষ্টিতে
চেয়ে আছেন ও ভাবছেন কত মানুষ ঢলে পড়ছে মৃত্যুর কোলে, কাজ হারাচ্ছেন কত লোক, আর
আক্রান্ত মানুষের কথা তো বলাই বাহুল্য! হঠাৎ এক চাপা চিৎকার দে বাবুর গলায়। তিনি হঠাৎ
কোথা থেকে যেন পড়ে গেলেন। তার সামনে এখন বিশাল এক কল্লোল 42 দরজা। অজানাকে জানার
কৌতুহলের কাছে পরাজিত হয়ে দে বাবু খুললেন তার সামনের সেই দরজাটি। তিনি দেখলেন হাতে
গোনা কয়েকজনই রয়েছে সেখানে, কী যেন বানাচ্ছেন তারা। অদ্ভুত ব্যাপার, তাদের সবার
চোখে নীল রঙের চশমা। নাহ্ সানগ্লাস নয়, তবে আধুনিক সানগ্লাস হতেই পারে! দে বাবুর
বুঝতে বাকি রইল না তিনি ভাগ্যের পরিহাসে হঠাৎই উপস্থিত হয়েছেন অন্য এক জগতে!
কিন্তু ওরা কী বানাচ্ছে, সেই দেখার উৎসাহে একটু এগিয়ে যেতেই, তার কাঁধে এক নরম
হাতের ছোঁয়া লাগল! হঠাৎ করেই কপাল ঘেমে গিয়ে কণ্ঠস্বর সরু ও কেঁপে গিয়ে দে বাবু
বললেন,
— আমি কিছু করিনি স্যার, হঠাৎই হারিয়ে গিয়ে এখানে এসে পড়েছি!
— আপনি কিছু করবেন কেন, আপনাকে তো আমাদের রাজা ডেকে পাঠিয়েছেন বলেই আনা হয়েছে।
বললেন সবুজ চেহারার নীল চশমা পরা জিডুং। রাজার কাছে যেতেই রাজামশাই দে বাবুকে বললেন,
— কী দে বাবু নাভিশ্বাস লাগছে জীবনটা?
— বিশ্বাস করুন আমি আমার জীবদ্দশায় কখনো মহামারী দেখিনি। গল্প, উপন্যাসে পড়েছি বটে! কিন্তু বাস্তবের মাটিতে সে যে কী ভয়ঙ্কর তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি!
— ঠিকই বলেছেন। ওই দেখুন ওদিকে ওই ভাইরাস বানানোই হচ্ছে! আর এগুলো বানিয়ে পৃথিবীর দিকে পাঠানো হচ্ছে!
— সে কী! এ কী করছেন আপনারা! আপনারা কারা? কেন করছেন এসব? কী ক্ষতি করেছি আপনাদের আমরা, পৃথিবীর মানুষেরা?
— ভয় নেই এখানে আপনি আক্রান্ত হবেন না! এটা নেপচুন। পৃথিবী নয়!
— কিন্তু পৃথিবীর নিরীহ মানুষরা? ওদের কী দোষ ওরা তো অর্ধেক করোনার থাবায় আর বাকি অর্ধেক কাজ হারিয়ে না খেতে পেয়ে মারা যাবে। আপনি প্লিজ এই ভাইরাস বানানো বন্ধ করার নির্দেশ দিন।
একটু রেগে গিয়েই রাজা মশাই বললেন,
— দেখুন আপনারা, মানে মানুষেরা প্লাস্টিকের ব্যবহার ইদানীং যে হারে বাড়িয়েছেন, আর তা ব্যবহারের পর যে ভাবে এদিকে ওদিকে ছড়াচ্ছেন, আমাদের সেজদা পৃথিবীর খুবই খারাপ অবস্থা, গ্লোবালওয়ার্মিং হচ্ছে সেজদার বুকে, তার জামা, ওজনস্তরও আজ ছিঁড়ে গেছে। যার বুকে বাস করছেন তাকেই দিন দিন নোংরা করছেন! আমি ভাই হিসেবে দাদার উপর এই অত্যাচার মানি কী করে বলুন? তাই এই পদ্ধতিই বাছলাম, কেবলমাত্র আপনাদেরকে প্লাস্টিকে মুড়ে দেবো বলে! বুঝুন আপনারা, প্লাস্টিকে মুড়ে থাকা কতটা কষ্টকর!
লজ্জায় মাথা কাটা যাওয়ার মতো অবস্থার সম্মুখীন হয়েও দে বাবুর মাথায় শুধু একটা কথাই কাজ করছে এই ভাইরাস থেকে মানুষেদের বাঁচাতে হবে।
— আমি কিছু করিনি স্যার, হঠাৎই হারিয়ে গিয়ে এখানে এসে পড়েছি!
— আপনি কিছু করবেন কেন, আপনাকে তো আমাদের রাজা ডেকে পাঠিয়েছেন বলেই আনা হয়েছে।
বললেন সবুজ চেহারার নীল চশমা পরা জিডুং। রাজার কাছে যেতেই রাজামশাই দে বাবুকে বললেন,
— কী দে বাবু নাভিশ্বাস লাগছে জীবনটা?
— বিশ্বাস করুন আমি আমার জীবদ্দশায় কখনো মহামারী দেখিনি। গল্প, উপন্যাসে পড়েছি বটে! কিন্তু বাস্তবের মাটিতে সে যে কী ভয়ঙ্কর তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি!
— ঠিকই বলেছেন। ওই দেখুন ওদিকে ওই ভাইরাস বানানোই হচ্ছে! আর এগুলো বানিয়ে পৃথিবীর দিকে পাঠানো হচ্ছে!
— সে কী! এ কী করছেন আপনারা! আপনারা কারা? কেন করছেন এসব? কী ক্ষতি করেছি আপনাদের আমরা, পৃথিবীর মানুষেরা?
— ভয় নেই এখানে আপনি আক্রান্ত হবেন না! এটা নেপচুন। পৃথিবী নয়!
— কিন্তু পৃথিবীর নিরীহ মানুষরা? ওদের কী দোষ ওরা তো অর্ধেক করোনার থাবায় আর বাকি অর্ধেক কাজ হারিয়ে না খেতে পেয়ে মারা যাবে। আপনি প্লিজ এই ভাইরাস বানানো বন্ধ করার নির্দেশ দিন।
একটু রেগে গিয়েই রাজা মশাই বললেন,
— দেখুন আপনারা, মানে মানুষেরা প্লাস্টিকের ব্যবহার ইদানীং যে হারে বাড়িয়েছেন, আর তা ব্যবহারের পর যে ভাবে এদিকে ওদিকে ছড়াচ্ছেন, আমাদের সেজদা পৃথিবীর খুবই খারাপ অবস্থা, গ্লোবালওয়ার্মিং হচ্ছে সেজদার বুকে, তার জামা, ওজনস্তরও আজ ছিঁড়ে গেছে। যার বুকে বাস করছেন তাকেই দিন দিন নোংরা করছেন! আমি ভাই হিসেবে দাদার উপর এই অত্যাচার মানি কী করে বলুন? তাই এই পদ্ধতিই বাছলাম, কেবলমাত্র আপনাদেরকে প্লাস্টিকে মুড়ে দেবো বলে! বুঝুন আপনারা, প্লাস্টিকে মুড়ে থাকা কতটা কষ্টকর!
লজ্জায় মাথা কাটা যাওয়ার মতো অবস্থার সম্মুখীন হয়েও দে বাবুর মাথায় শুধু একটা কথাই কাজ করছে এই ভাইরাস থেকে মানুষেদের বাঁচাতে হবে।
ক্রমশ…

No comments:
Post a Comment