বাতায়ন/হাপিত্যেশ/গল্পাণু/২য়
বর্ষ/৫ম সংখ্যা/৩২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১
হাপিত্যেশ | গল্পাণু
কমলকুমার মন্ডল
ফাতনা
"অনেকদিন আগেই পেশা বদলে গেছে হাবুল জেলের। কখনো কাঠফাটা রোদে ফেরি করে। আবার কখনো ক্ষেতমজুরের কাজ করে দিন গুজরান করে এখন। পুরনো পেশার টানে মাঝেমধ্যে ছিপ হাতে নিজের অজান্তেই নদীর বাঁকে ছুটে যায় মাছ ধরতে।"
পাড়ভাঙা নদীর তীব্র স্রোত অতীত। এখন চূর্ণীর
স্রোত ক্ষীণ। পালতোলা নৌকার গুনটানা ইতিহাস। ছোট ছোট ডিঙির মৃদু ছলাৎ-ছল ছলাৎ-ছল
শব্দের আত্মকথন বেশ বিমর্ষ। জেলেদের রাতজাগা ঘুমপাড়ানি চোখ চিরবিশ্রামে। অথচ
কিছুদিন আগেও ডিঙি নৌকোয় চেপে মৃদু লন্ঠনের আলোয় খ্যাপলা চেলে সংসারনদী দিব্যি
পারাপার করত হাবুল জেলে।
অনেকদিন আগেই পেশা বদলে
গেছে হাবুল জেলের। কখনো কাঠফাটা রোদে ফেরি করে। আবার কখনো ক্ষেতমজুরের কাজ করে দিন
গুজরান করে এখন। পুরনো পেশার টানে মাঝেমধ্যে ছিপ হাতে নিজের অজান্তেই নদীর বাঁকে
ছুটে যায় মাছ ধরতে।
অভ্যাস মতো আজও হাবুল জেলে
পাঁচ-পাঁচটা ছিপ চূর্ণীর জলে মেলে দিয়ে করুণ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে ফাতনার দিকে।
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সূর্যদেব পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ছে। তার লাজুক ছটা চূর্ণীর
শান্ত জল স্পর্শ করে তীর্যক কোণে এসে চিকচিক করছে হাবুলের মুখমণ্ডলে। এই বুঝি নড়ে
উঠবে ফাতনা।
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment