বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক/হলদে
খাম/২য় বর্ষ/৬ষ্ঠ/যশোধরা রায়চৌধুরী সংখ্যা/২১শে আষাঢ়, ১৪৩১
যশোধরা
রায়চৌধুরী সংখ্যা | হলদে খাম
পম্পা ঘোষ
শুভ্রকে শুভ্রা
"জানি না কেন। আমি যেন আজও অপেক্ষা করি। তোমার সেই স্পর্শটা। সিঁদুর দানের সিঁদুর আমার হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারেনি। সিঁদুর দানের সময় তোমার মুখটা ভেসে উঠেছিল। আমি তোমারও সঙ্গে বেঁধেছি আমার ঘর। "
প্রিয় শুভ্র,
ভীমপুর, নদিয়া
৭.০২.২০২৪.
চিনতে পারছ? নাকি শুধুই কুয়াশা? অনেকদিন ধরে ভাবছি তোমাকে একটা চিঠি লিখব কিন্তু হয়ে উঠছে না। জানো তো আমার আজ মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল।
ভীমপুর, নদিয়া
৭.০২.২০২৪.
চিনতে পারছ? নাকি শুধুই কুয়াশা? অনেকদিন ধরে ভাবছি তোমাকে একটা চিঠি লিখব কিন্তু হয়ে উঠছে না। জানো তো আমার আজ মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল।
তোমাকে আজ ভীষণ মনে
পড়ছে। কারণটা জানলে তুমি নিশ্চয়ই মেলাতে পারবে। আমার মেয়ের বয়স এখন ১৪ বছর। আজ
সরস্বতী পুজো তাই সে বায়না করছে হলুদ শাড়ি পরবে বলে। তুমি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ
আমি কেন এই কথাগুলি বলছি। তোমার সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়েছিল, সেই মুহূর্তগুলি
জানো চোখের সামনে ভেসে উঠেছে। মনের মধ্যে খেলে উঠেছিল "ভালবাসি ভালবাসি এই
কথাটি মনে রেখো”।
শুভ্র তুমি আর জয়দীপ খেলছিলে। তুমি বেড়াতে এসেছিলে তোমার কাকুর বাড়ি। তোমার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না। তুমি দম রাখার জন্য মুখে বলছিলে আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুম সাজে ঢাক ঢোল কাঁসর বাজে। আমার সঙ্গে এক ধাক্কা লাগল, হাতে ছিল ঠাকুরের নৈবেদ্য সাজানো পিরিচটা। তোমার ধাক্কায় পড়ে গেল।
মা ঘর থেকে বেরিয়ে আমাকে কী বকাই না বকলেন। তাই দেখে তোমার ভীষণ মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল।
সেদিন বেশ ধুমধাম করে আমাদের বাড়িতে পুজোর আয়োজন চলছে। তুমি মায়ের মন জয় করার জন্য বিভিন্ন কাজে লেগে পড়লে। আজ সেই সরস্বতী পুজো আর আমার মেয়ে সেই কিশোরী আমি। আমার বুকটা ধক করে উঠল। তোমার প্রেমে পড়ার প্রথম পাঠ ছিল সেই দিন।
তুমি মাকে বোঝাতে লাগলে। যে তুমি অসতর্ক ভাবে চলছিলে তাই পিরিচ পড়ে গেছে মাটিতে।
তারপর তুমি মাকে খুশি করতে ঘট পত্তনের মাটি আনতে আমার কাছ থেকে কোদাল চাইলে। তখন তোমার হাতের স্পর্শ আমার হাতে একটু লেগে ছিল। স্পর্শ সারা শরীরে শিহরণ জাগিয়েছিল। তোমার টানা টানা দুটি চোখ। আজও আমাকে অস্থির করে দেয়। বিয়ে আমার সত্যি হয়েছে। মনে মনে তোমাকে আমি আজও খুঁজি।
বলতে লজ্জা নেই আজকে, আমার সে কাঁচা বয়সেই মন ছুঁয়েছিলে তুমি আমার।
আজ রাত আমার হাতে আছে। সেই হাত আমাকে শিহরণ জাগায়নি। জানি না কেন। আমি যেন আজও অপেক্ষা করি। তোমার সেই স্পর্শটা। সিঁদুর দানের সিঁদুর আমার হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারেনি। সিঁদুর দানের সময় তোমার মুখটা ভেসে উঠেছিল। আমি তোমারও সঙ্গে বেঁধেছি আমার ঘর।
তোমার খোঁজ করেছি কিন্তু তোমার খোঁজ পেলাম না। এখন আমি ঘোর সংসারী। কাকুর সঙ্গে হঠাৎ দেখা হল। তাই তোমার ঠিকানাটা নেওয়া হলো। তোমাকে আমার মনের সুপ্ত অবস্থার কথা অকপটে বলে ফেললাম।
সবাই বলে পৃথিবী গোল। একদিন না একদিন দেখা হবেই। আমি তার অপেক্ষা না করেই তোমাকে পত্র লিখতে বসলাম। তাই লজ্জার মাথা খেয়ে কাকুর কাছ থেকে ঠিকানাটা নিয়ে নিলাম। আমার ভালবাসার সেই ঘরে তুমি আজও আছ। তোমাকে ভোলা হলো না। "আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে আছো তুমি হৃদয় জুড়ে।"
ইতি—
তোমার শুভ্রা
শুভ্র তুমি আর জয়দীপ খেলছিলে। তুমি বেড়াতে এসেছিলে তোমার কাকুর বাড়ি। তোমার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না। তুমি দম রাখার জন্য মুখে বলছিলে আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুম সাজে ঢাক ঢোল কাঁসর বাজে। আমার সঙ্গে এক ধাক্কা লাগল, হাতে ছিল ঠাকুরের নৈবেদ্য সাজানো পিরিচটা। তোমার ধাক্কায় পড়ে গেল।
মা ঘর থেকে বেরিয়ে আমাকে কী বকাই না বকলেন। তাই দেখে তোমার ভীষণ মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল।
সেদিন বেশ ধুমধাম করে আমাদের বাড়িতে পুজোর আয়োজন চলছে। তুমি মায়ের মন জয় করার জন্য বিভিন্ন কাজে লেগে পড়লে। আজ সেই সরস্বতী পুজো আর আমার মেয়ে সেই কিশোরী আমি। আমার বুকটা ধক করে উঠল। তোমার প্রেমে পড়ার প্রথম পাঠ ছিল সেই দিন।
তুমি মাকে বোঝাতে লাগলে। যে তুমি অসতর্ক ভাবে চলছিলে তাই পিরিচ পড়ে গেছে মাটিতে।
তারপর তুমি মাকে খুশি করতে ঘট পত্তনের মাটি আনতে আমার কাছ থেকে কোদাল চাইলে। তখন তোমার হাতের স্পর্শ আমার হাতে একটু লেগে ছিল। স্পর্শ সারা শরীরে শিহরণ জাগিয়েছিল। তোমার টানা টানা দুটি চোখ। আজও আমাকে অস্থির করে দেয়। বিয়ে আমার সত্যি হয়েছে। মনে মনে তোমাকে আমি আজও খুঁজি।
বলতে লজ্জা নেই আজকে, আমার সে কাঁচা বয়সেই মন ছুঁয়েছিলে তুমি আমার।
আজ রাত আমার হাতে আছে। সেই হাত আমাকে শিহরণ জাগায়নি। জানি না কেন। আমি যেন আজও অপেক্ষা করি। তোমার সেই স্পর্শটা। সিঁদুর দানের সিঁদুর আমার হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারেনি। সিঁদুর দানের সময় তোমার মুখটা ভেসে উঠেছিল। আমি তোমারও সঙ্গে বেঁধেছি আমার ঘর।
তোমার খোঁজ করেছি কিন্তু তোমার খোঁজ পেলাম না। এখন আমি ঘোর সংসারী। কাকুর সঙ্গে হঠাৎ দেখা হল। তাই তোমার ঠিকানাটা নেওয়া হলো। তোমাকে আমার মনের সুপ্ত অবস্থার কথা অকপটে বলে ফেললাম।
সবাই বলে পৃথিবী গোল। একদিন না একদিন দেখা হবেই। আমি তার অপেক্ষা না করেই তোমাকে পত্র লিখতে বসলাম। তাই লজ্জার মাথা খেয়ে কাকুর কাছ থেকে ঠিকানাটা নিয়ে নিলাম। আমার ভালবাসার সেই ঘরে তুমি আজও আছ। তোমাকে ভোলা হলো না। "আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে আছো তুমি হৃদয় জুড়ে।"
ইতি—
তোমার শুভ্রা

খুব সুন্দর
ReplyDelete