বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক/ছোটগল্প/২য়
বর্ষ/৬ষ্ঠ/যশোধরা রায়চৌধুরী সংখ্যা/২১শে আষাঢ়, ১৪৩১
যশোধরা রায়চৌধুরী সংখ্যা | ছোটগল্প
নবী হোসেন নবীন
ভূতের বাচ্চা
"আরও কিছু দূর এগিয়ে যেতেই কে যেন পিছন দিক থেকে আমার শার্ট খামছে ধরেছে। আমি সজোরে টান মেরে শার্ট ছাড়িয়ে নিয়ে কয়েক কদম সামনে যেতে না যেতেই আমার ডান বাহুর শার্ট আবার খামছে ধরেছে। ডান দিক ছাড়ালে বাম দিক ধরে বাম দিক ছাড়ালে পিছনে ধরে।"
আমার বিয়ের সময় আমার ছোট শ্যালক শামিমের বয়স ছিল আট কিংবা নয়
বছর। বয়সের তুলনায় সে ছিল দুষ্টুমিতে অধিক পাকা। ফড়িং ধরা, পাখির ছানা ধরা, ঘুড়ি ওড়ানো,
রিং দৌড়ানো ইত্যাদি কাজগুলো তার দৈনন্দিন কার্যতালিকায় নিয়মিত থাকত। একবার পাখির
ছানা ধরতে গিয়ে সাপে তাড়া খেয়ে গাছ থেকে দ্রুত নামতে গিয়ে পড়ে পায়ে চোট পাওয়ার পর
এ নেশায় কিছুটা ভাটা
পড়লেও আর একটি নতুন নেশায় তাকে পেয়ে বসে। তা হলো ভূতের বাচ্চা
ধরে পোষা। একদিন আমি তাদের বাড়িতে বেড়াতে গেলে আমাকে বলল, দুলাভাই আপনাদের গ্রামের
গভীর গজারি বনের ভেতর ভূতের বাসা আছে। আমাকে ভূতের বাচ্চা ধরে এনে দিতে হবে।
বাস্তবে ভূত আছে কিনা তা নিয়েই যখন আমার মনে যথেষ্ট সন্দেহ আছে তখন ভূতে বাচ্চা
জন্ম দেয় কিনা তা নিয়ে আমার কোনো ধারণাই নেই। তাকে বিরত করার জন্য বললাম, ভূতের
বাচ্চা পালন করে কী হবে? সে বলল, ভূতের বাচ্চা বড় হলে সে নদী থেকে বড় বড় মাছ ধরে
এনে দেয়। বন থেকে পাখি, হরিণ, বনমোরগ ইত্যাদি ধরে এনে দেয়। বুঝলাম ভূতের জাত
সম্পর্কে সে পিএইচডি করা লোক তার সঙ্গে তর্ক করা বৃথা।
একদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় সে এসে আমার বাড়ি হাজির। তার হাতে বাঁশের তৈরি একটি পাখিপোষার সুন্দর খাঁচা। জিজ্ঞেস করলাম, এটা কেন? বলল, ভূতের বাচ্চা ধরতে যাব। আমার স্ত্রীকে খোঁচা দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম তোমাদের বংশে কোনো পাগলামির ছাট আছে নাকি? সে রাগে ফুঁসে উঠে বলল, কেন কী হয়েছে? আমি উত্তর না দিয়ে বললাম, তোমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে কেউ কি ভূত পুষত? তার রাগ আরও বেড়ে গেলে সে তার ভাইকে জিজ্ঞেস করল, এই কী হয়েছে শুনি। শামিম বলন, কই কিছুই তো হয়নি। সে কিছুটা দ্বিধান্বিত হলে আমি বললাম, তোমার ভাই ভূতের বাচ্চা ধরতে এসেছে, বুঝলে। শুনে সে কিছুটা অবাক হলেও মৃদু হেসে ভাইয়ের পক্ষ নিয়ে বলল একটা ভূতের বাচ্চাই তো চেয়েছে। টাকাপয়সা তো আর চায়নি। তা ঠিক, কিন্তু ভূতের বাচ্চা কোথায় পাব শুনি? কেন দেশে কি ভূতের অভাব? এবার আমার সত্যি সত্যিই রাগ হলো। বললাম, না ভূতের অভাব নাই, ঘরে ঘরে ভূতের খামার আছে। সে আর তর্ক না বাড়িয়ে বলল, বনের ধারে কিছু সময় ঘোরাঘুরি করে একটা পাখির ছানা ধরে দিলেও তো হয়। তা না করে উনি এসেছেন চোদ্দো গুষ্টি উদ্ধার করতে। তর্ক আর না বাড়িয়ে আমি বাজারে চলে গেলাম।
রাত দশটায় বাড়ি ফিরে খাবার টেবিলে শামিমকে বললাম তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও ভূতের বাচ্চা ধরতে যাব। সে না দুলাভাই আজ না কাল যেতে হবে। ভূতের বাচ্চা ধরতে হয় শনি কিংবা মঙ্গলবারে। জিজ্ঞেস করলাম, ভূতের বাচ্চা আনতে গেলে ভূত যদি আমাদের ঘাড় মটকায়? উত্তর দিলো, লোহা আর আগুন থাকলে ভূত মানুষকে স্পর্শ করতে পারে না। ভূত সম্পর্কে তার জ্ঞান-গরিমা দেখে আমার ভূতের গল্প পড়ার খুব আগ্রহ জন্মালো। পরের দিন অর্থাৎ শনিবার সারাদিন শামিমের সাথে আমার দেখা হলো না। সেই যে সকালে বেরিয়ে গেছে সারাদিন আর বাড়ি ফেরার নাম নেই। সন্ধ্যার কিছু আগে সে কোথা থেকে ফিরে এসে তার বোনের কাছে ভাত চেয়ে খেয়ে নিলো। তারপর আমরা দুজন বেরিয়ে গেলাম ভূতের বাচ্চা ধরতে। বনকা গ্রামের ঘন গজারি বনের কাছে যেতেই আমাদের রাত দশটা বেজে গেল। তারপর আমরা কাঠচোরদের যাতায়াতের ফলে সৃষ্ট সরু পায়ে চলা পথ ধরে সামনে এগিয়ে যেতে লাগলাম। প্রায় ত্রিশ-চল্লিশ মিনিট হাঁটার পর পথের চিহ্ন তো দূরের কথা কোনো পদচিহ্ন পর্যন্ত আর দেখা যাচ্ছে না। আমরা যত বনের গভীরে যাচ্ছি বনের ঘনত্বও তত বাড়ছে। রাতের আঁধার আর বনের আঁধার একাকার হয়ে আমাদেরকে গ্রাস করতে চাচ্ছে। তার উপর সূঁচালো কাঁটার বেতঝাড়, মনকাঁটার ঝোপ ও বুনোকুলের কাঁটা আমাদের এগিয়ে চলাকে দুঃসাধ্য করে তুলছে। তবু শামিম নির্বিঘ্নে এগিয়ে যাচ্ছে আর আমি তাকে অনুসরণ করে চলেছি। আরও কিছু দূর এগিয়ে যেতেই কে যেন পিছন দিক থেকে আমার শার্ট খামছে ধরেছে। আমি সজোরে টান মেরে শার্ট ছাড়িয়ে নিয়ে কয়েক কদম সামনে যেতে না যেতেই আমার ডান বাহুর শার্ট আবার খামছে ধরেছে। ডান দিক ছাড়ালে বাম দিক ধরে বাম দিক ছাড়ালে পিছনে ধরে। এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছি আমরা ভূতের বাসার দিকে। আরও কিছু দূর যাওয়ার পর আমি অনুভব করলাম আমার ঘাড়ের শার্টের কলারের উপরের খালি অংশের উপর দিয়ে যেন দু-তিনটি সাপ এক সাথে চলে গেল। সাথে সাথে আমার ঘাড় আগুনে পুড়ে যাওয়ার মতো জ্বালাযন্ত্রণা শুরু হয়ে গেল। বনের ভেতরে একটা ফাঁকা জায়গায় এসে দাঁড়িয়ে শামিম তার প্যান্টের পকেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো একটা পোঁটলা বের করে তার ভেতর হতে দুটি লোহার পেরেক, একটা ম্যাচ লাইটার ও কিছু শুঁটকি মাছ বের করে নিলো। তারপর একটা পেরেক আমার হাতে দিয়ে পাখির খাঁচার সঙ্গে বাঁধা একটা সাইকেলের চাকার শিক বের করে শুঁটকিগুলো তাতে গেঁথে নিয়ে কিছু শুকনো পাতা জড়ো করে আগুন ধরিয়ে শুঁটকি মাছগুলো সেঁকতে লাগল। জিজ্ঞেস করলাম কী হচ্ছে এসব? বলল, আমাদের পায়ের শব্দ শুনে ভূত দূরে চলে যেতে পারে। শুঁটকি মাচ্ছের গন্ধ পেলে ভূত আর দূরে চলে যাবে না। বুঝলাম আমরা ভূতের বাসার নিকটে চলে এসেছি।
ভূত দূরে চলে যাক-বা-না-যাক বিপত্তি আরও ঘনিয়ে এলো। পোড়া শুঁটকির গন্ধে বনের ঘুমন্ত প্রাণীরা সব জেগে উঠেছে। আমাদের মাথার উপর দিয়ে সাঁ সাঁ করে বাদুর, শকুনের মতো পাখিরা এমন ভাবে ওড়াউড়ি শুরু করে দিলো যেন আমাদের তুলে নিয়ে যাবে। আমি গাছের একটা ডাল ভেঙে হাতে নিলাম। বানর, শিয়াল, বুনো বিড়াল ও হনুমানের মতো প্রাণীরা আমাদের শুঁটকিসহ খেয়ে ফেলতে চাইছে। তবু অগ্রযাত্রা থেমে নেই। বিরক্তি আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে ফেলছে। তবু তীরে এসে তরী ডোবাতে পারলাম না। এভাবে মিনিট দশেক যাওয়ার পর গাছের উপর হতে একটা বুড়ো বানর লাফ দিয়ে এসে শামিমের ঘাড়ের উপর পড়ল। শামিম দুলাভাই বলে চিৎকার দিয়ে মাটিতে পড়ে গেল। আমি ম্যাচ লাইটার জ্বালিয়ে দেখলাম সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। এখন কী করা যায় কিছুই ভেবে না পেয়ে তাকে কাঁধে নিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করলাম। কিছু দূর আসার পর তার জ্ঞান ফিরে আসতেই সে জিজ্ঞেস করল ভূতের বাচ্চা কই? আমি তার গালে একটা থাপ্পর বসিয়ে দিয়ে বললাম, চলো আগে বাড়ি যাই। বাড়িতে এসে দেখি আমার ডান এবং বাম বাহু কাঁটার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে আর শার্ট ছিঁড়ে পরার সম্পূর্ণ অনুপোযোগী হয়ে গেছে। আর ঘাড়ের উপর তখনও বিছুটি লতার সুঙ আগুনের মতো জ্বলছে।
একদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় সে এসে আমার বাড়ি হাজির। তার হাতে বাঁশের তৈরি একটি পাখিপোষার সুন্দর খাঁচা। জিজ্ঞেস করলাম, এটা কেন? বলল, ভূতের বাচ্চা ধরতে যাব। আমার স্ত্রীকে খোঁচা দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম তোমাদের বংশে কোনো পাগলামির ছাট আছে নাকি? সে রাগে ফুঁসে উঠে বলল, কেন কী হয়েছে? আমি উত্তর না দিয়ে বললাম, তোমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে কেউ কি ভূত পুষত? তার রাগ আরও বেড়ে গেলে সে তার ভাইকে জিজ্ঞেস করল, এই কী হয়েছে শুনি। শামিম বলন, কই কিছুই তো হয়নি। সে কিছুটা দ্বিধান্বিত হলে আমি বললাম, তোমার ভাই ভূতের বাচ্চা ধরতে এসেছে, বুঝলে। শুনে সে কিছুটা অবাক হলেও মৃদু হেসে ভাইয়ের পক্ষ নিয়ে বলল একটা ভূতের বাচ্চাই তো চেয়েছে। টাকাপয়সা তো আর চায়নি। তা ঠিক, কিন্তু ভূতের বাচ্চা কোথায় পাব শুনি? কেন দেশে কি ভূতের অভাব? এবার আমার সত্যি সত্যিই রাগ হলো। বললাম, না ভূতের অভাব নাই, ঘরে ঘরে ভূতের খামার আছে। সে আর তর্ক না বাড়িয়ে বলল, বনের ধারে কিছু সময় ঘোরাঘুরি করে একটা পাখির ছানা ধরে দিলেও তো হয়। তা না করে উনি এসেছেন চোদ্দো গুষ্টি উদ্ধার করতে। তর্ক আর না বাড়িয়ে আমি বাজারে চলে গেলাম।
রাত দশটায় বাড়ি ফিরে খাবার টেবিলে শামিমকে বললাম তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও ভূতের বাচ্চা ধরতে যাব। সে না দুলাভাই আজ না কাল যেতে হবে। ভূতের বাচ্চা ধরতে হয় শনি কিংবা মঙ্গলবারে। জিজ্ঞেস করলাম, ভূতের বাচ্চা আনতে গেলে ভূত যদি আমাদের ঘাড় মটকায়? উত্তর দিলো, লোহা আর আগুন থাকলে ভূত মানুষকে স্পর্শ করতে পারে না। ভূত সম্পর্কে তার জ্ঞান-গরিমা দেখে আমার ভূতের গল্প পড়ার খুব আগ্রহ জন্মালো। পরের দিন অর্থাৎ শনিবার সারাদিন শামিমের সাথে আমার দেখা হলো না। সেই যে সকালে বেরিয়ে গেছে সারাদিন আর বাড়ি ফেরার নাম নেই। সন্ধ্যার কিছু আগে সে কোথা থেকে ফিরে এসে তার বোনের কাছে ভাত চেয়ে খেয়ে নিলো। তারপর আমরা দুজন বেরিয়ে গেলাম ভূতের বাচ্চা ধরতে। বনকা গ্রামের ঘন গজারি বনের কাছে যেতেই আমাদের রাত দশটা বেজে গেল। তারপর আমরা কাঠচোরদের যাতায়াতের ফলে সৃষ্ট সরু পায়ে চলা পথ ধরে সামনে এগিয়ে যেতে লাগলাম। প্রায় ত্রিশ-চল্লিশ মিনিট হাঁটার পর পথের চিহ্ন তো দূরের কথা কোনো পদচিহ্ন পর্যন্ত আর দেখা যাচ্ছে না। আমরা যত বনের গভীরে যাচ্ছি বনের ঘনত্বও তত বাড়ছে। রাতের আঁধার আর বনের আঁধার একাকার হয়ে আমাদেরকে গ্রাস করতে চাচ্ছে। তার উপর সূঁচালো কাঁটার বেতঝাড়, মনকাঁটার ঝোপ ও বুনোকুলের কাঁটা আমাদের এগিয়ে চলাকে দুঃসাধ্য করে তুলছে। তবু শামিম নির্বিঘ্নে এগিয়ে যাচ্ছে আর আমি তাকে অনুসরণ করে চলেছি। আরও কিছু দূর এগিয়ে যেতেই কে যেন পিছন দিক থেকে আমার শার্ট খামছে ধরেছে। আমি সজোরে টান মেরে শার্ট ছাড়িয়ে নিয়ে কয়েক কদম সামনে যেতে না যেতেই আমার ডান বাহুর শার্ট আবার খামছে ধরেছে। ডান দিক ছাড়ালে বাম দিক ধরে বাম দিক ছাড়ালে পিছনে ধরে। এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছি আমরা ভূতের বাসার দিকে। আরও কিছু দূর যাওয়ার পর আমি অনুভব করলাম আমার ঘাড়ের শার্টের কলারের উপরের খালি অংশের উপর দিয়ে যেন দু-তিনটি সাপ এক সাথে চলে গেল। সাথে সাথে আমার ঘাড় আগুনে পুড়ে যাওয়ার মতো জ্বালাযন্ত্রণা শুরু হয়ে গেল। বনের ভেতরে একটা ফাঁকা জায়গায় এসে দাঁড়িয়ে শামিম তার প্যান্টের পকেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো একটা পোঁটলা বের করে তার ভেতর হতে দুটি লোহার পেরেক, একটা ম্যাচ লাইটার ও কিছু শুঁটকি মাছ বের করে নিলো। তারপর একটা পেরেক আমার হাতে দিয়ে পাখির খাঁচার সঙ্গে বাঁধা একটা সাইকেলের চাকার শিক বের করে শুঁটকিগুলো তাতে গেঁথে নিয়ে কিছু শুকনো পাতা জড়ো করে আগুন ধরিয়ে শুঁটকি মাছগুলো সেঁকতে লাগল। জিজ্ঞেস করলাম কী হচ্ছে এসব? বলল, আমাদের পায়ের শব্দ শুনে ভূত দূরে চলে যেতে পারে। শুঁটকি মাচ্ছের গন্ধ পেলে ভূত আর দূরে চলে যাবে না। বুঝলাম আমরা ভূতের বাসার নিকটে চলে এসেছি।
ভূত দূরে চলে যাক-বা-না-যাক বিপত্তি আরও ঘনিয়ে এলো। পোড়া শুঁটকির গন্ধে বনের ঘুমন্ত প্রাণীরা সব জেগে উঠেছে। আমাদের মাথার উপর দিয়ে সাঁ সাঁ করে বাদুর, শকুনের মতো পাখিরা এমন ভাবে ওড়াউড়ি শুরু করে দিলো যেন আমাদের তুলে নিয়ে যাবে। আমি গাছের একটা ডাল ভেঙে হাতে নিলাম। বানর, শিয়াল, বুনো বিড়াল ও হনুমানের মতো প্রাণীরা আমাদের শুঁটকিসহ খেয়ে ফেলতে চাইছে। তবু অগ্রযাত্রা থেমে নেই। বিরক্তি আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে ফেলছে। তবু তীরে এসে তরী ডোবাতে পারলাম না। এভাবে মিনিট দশেক যাওয়ার পর গাছের উপর হতে একটা বুড়ো বানর লাফ দিয়ে এসে শামিমের ঘাড়ের উপর পড়ল। শামিম দুলাভাই বলে চিৎকার দিয়ে মাটিতে পড়ে গেল। আমি ম্যাচ লাইটার জ্বালিয়ে দেখলাম সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। এখন কী করা যায় কিছুই ভেবে না পেয়ে তাকে কাঁধে নিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করলাম। কিছু দূর আসার পর তার জ্ঞান ফিরে আসতেই সে জিজ্ঞেস করল ভূতের বাচ্চা কই? আমি তার গালে একটা থাপ্পর বসিয়ে দিয়ে বললাম, চলো আগে বাড়ি যাই। বাড়িতে এসে দেখি আমার ডান এবং বাম বাহু কাঁটার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে আর শার্ট ছিঁড়ে পরার সম্পূর্ণ অনুপোযোগী হয়ে গেছে। আর ঘাড়ের উপর তখনও বিছুটি লতার সুঙ আগুনের মতো জ্বলছে।
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment