বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক/গদ্য/২য় বর্ষ/৯ম/অমিতাভ গুপ্ত সংখ্যা/১৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১
অমিতাভ গুপ্ত সংখ্যা | গদ্য
মণিপদ্ম
দত্ত
এ শহরে
"এদের জোগান হ্রাসের আশু সম্ভাবনাও নেই। কে না জানে বিকশিত ভারতের নব্বুই শতাংশ জেল কয়েদিই একদম প্রতিবিম্বহীন বনেদি গরিব! সুতরাং আদমশুমারির তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য এ ব্যাপারে সন্দেহ থাকছেই।"
এ
শহরে মানুষের থেকে বেশি প্রতিবিম্ব বাস করে। কথাটা কিছুই তেমন জটিল নয় মোটেই। ভয়
পাওয়ারও কিছু নেই। কারণ কায়া প্রতি ছায়া একটি নয় এবং এক সাইজেরও নয়। আলোর স্তরভাগে
এক একটা রূপ। তার পরও কথা থাকে।
ছায়ার অসুখবিসুখ ইত্যাদির উপরেও অনেকটাই নির্ভর করে। আবার যে শহরে যত
বেশি কাচ তত বেশি প্রতিবিম্ব জমে। কে না জানে আমার শহর ভীষণ আয়না ভালবাসে। আয়নার
ব্যবহার ও উৎপাদন দুটোই আজকাল খুব বেড়ে গেছে। প্রযুক্তি এমন আয়নাও বাজারে ছাড়ছে
যাতে পছন্দমতো ছায়া দেখা যায়। বেশ কিছু প্রতিবিম্ব ব্যাজার
মুখে পার্কে বাজারে সময় কাটায়। অফিস কাছারি স্কুল কলেজ বিশেষত শপিং মলের বাইরে
এদের বড্ড ভিড় প্রায় সকলেই অন্য ছায়া হয়ে অন্দরে ঢুকতে পছন্দ করে। এতে কিছু মজাও
হয়। কোন কোন ছায়া খানিক ভাড়া খেটে রোজগারও করে নেয়। তবে পুলিশ কিছু বিপাকে পড়েছে।
সনাক্তকরণের সমস্যা বেড়েছে। তবে বেশ কিছু প্রতিবিম্বহীন জনতা প্রতি শহরেই থাকে।
কাজের লোক থেকে প্রাইভেট সিক্যুরিটি স্টাফ, হাজারো রোদে ভাজা
ডেলিভারিম্যান ইত্যাদিদের থেকে তুলে নিয়ে কাজ চালাচ্ছে। এরা নামহীন; ফলে প্রতিবিম্বের বিলাসিতা পোষায় না। এদের জোগান
হ্রাসের আশু সম্ভাবনাও নেই। কে না জানে বিকশিত ভারতের নব্বুই শতাংশ জেল কয়েদিই
একদম প্রতিবিম্বহীন বনেদি গরিব! সুতরাং
আদমশুমারির তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য এ
ব্যাপারে সন্দেহ থাকছেই। তবে সমাজবিজ্ঞানী ও গবেষকরা এটাকে ধর্তব্যের মধ্যেই আনেন
না কারণ তাঁদের পরিসংখ্যান নিয়ে কারবার। আর পরিসংখ্যান ও প্রতিবিম্বের মধ্যে যে
ঝামেলা নেই বরং বেশ বোঝাপড়াই আছে এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশই বা কোথায়?
***

এতো চমৎকার বিশ্লেষণ! তারচে ঢের বেশি কবিতা।যা বাস্তবের বারুদ ঘষে ঘষে লেখা। উফ! আপনার গদ্যতো কবিতারও বাড়া! তবে এ কবিতায় বাস্তবের মাটি,জল আর বনেদী দারিদ্র্যের পলিতে সারযুক্ত
ReplyDeleteসত্যিই তো তাই ।
ReplyDelete