প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Thursday, March 13, 2025

ওই বসন্ত এলো | সুশীল বসাক

বাতায়ন/রং/ছোটগল্প/২য় বর্ষ/৩২তম সংখ্যা/২৯শে ফাল্গুন, ১৪৩১
রং | ছোটগল্প
সুশীল বসাক
 
ওই বসন্ত এলো

"কিন্তু চোখ দুটো তার হৃদয়ের অন্তরতম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। মালবিকার সঙ্গে চলে এলেও জিৎ সকালে দেখা মিষ্টি মেয়েটাকে তার মানসপটে বারবার কল্পনা করতে থাকে। ক্লাস চলাকালীন অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে।"
 
মেঘমুক্ত আকাশের নীচে, বিশ্বভারতীর কলাভবনের সামনে জিৎ একমনে তার মানস প্রতিমাকে পাথরের উপর ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত, ঠিক এমন সময় তার কানে ভেসে এল একটি মিষ্টি কন্ঠে তার সেই প্রিয় গান আজি দখিন দুয়ার খোলা— এসো হে, এসো হে, এসো হেআমার বসন্ত এসো
 
গানের উৎস খুঁজতে খুঁজতে সে গিয়ে পৌঁছায় ঠিক একেবারে সংগীত ভবনের সামনে বিশাল জনারণ্যের মধ্যে যেখানে কৃষ্ণচূড়া গাছের তলায় বসে একমনে গান গাইছে ময়ূরকণ্ঠী রঙের শাড়ি পরিহিতা সদ্যযৌবনপ্রাপ্তা একটি মিষ্টি মেয়ে। জিৎ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে মেয়েটার দিকে, চোখ ফেরাতে পারে না
-জিৎ! আরে এই জিৎ!
নিজের নাম ধরে কেউ ডাকছে শুনে চমকে পেছন ফিরে দেখে দাঁড়িয়ে আছে মালবিকা
-কী ব্যাপার রে তুই যে ছবি হয়ে গেছিস একেবারে, কী কেস ঝেড়ে কাশ তো
মালবিকা মানে হল জিৎ-এর বেস্ট ফ্রেন্ড। ওরা একই হস্টেলে থাকে
 
এদিকে জগৎ তো মালবিকার গলা পেয়ে একেবারে আকাশ থেকে পড়ে আর কী!
-কী আর কেস হবে! কিচ্ছু না।
মালবিকা এবার খানিকটা আন্দাজ করে বলে,
-মেয়েটার নাম বিপাশা। বিপাশা সেন। দারুণ গান করে। একেবারে রবি ঠাকুরের আশীর্বাদধন্যা। এবার সংগীত ভবনের প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম হয়ে রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে বিএ পড়তে এসেছে।
এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে মালবিকা থামে। ততক্ষণে জিৎ পরিস্থিতি সামলে বলে ওঠে,
-তা তুই এই কথাগুলো আমায় বলছিস কেন?
ওদিকে বিপাশারও গান গাইতে গাইতে চোখ দুটো আটকে যায় একজোড়া শান্ত, সপ্রতিভ চোখের দিকে। তারপর সে ডুবে যায় গানের মধ্যে। কিন্তু চোখ দুটো তার হৃদয়ের অন্তরতম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। মালবিকার সঙ্গে চলে এলেও জিৎ সকালে দেখা মিষ্টি মেয়েটাকে তার মানসপটে বারবার কল্পনা করতে থাকে। ক্লাস চলাকালীন অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে। মালবিকা বারবার অন্যমনস্কতার কারণ জানতে চাইলে সে মেয়েটার কথা বলে। তা শুনে মালবিকা বলে,
-জানিস, বিপাশাকে আমি সেই ছোট্টবেলা থেকে চিনি, ও আর আমি একই পাড়ায় বড় হয়েছি। ওর আপন বলতে কেউ নেই। ছোট্টবেলা থেকে ও অনাথ আশ্রমে বড় হয়েছে। মেয়েটা খুবই দুঃখী রে। তাই তো আমি ওকে ছোট বোনের মতো স্নেহ করি। তবে বিপাশা ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী। সেইজন্য আজ ও এখানে।
 
কথাগুলো শুনে জিৎ মেয়েটার প্রতি আরো দুর্বল হয়ে পড়ে।
 
সমাপ্ত

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)