প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Thursday, August 7, 2025

আলোর স্বপ্ন [৩য় পর্ব] | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/ধারাবাহিক গল্প/৩য় বর্ষ/১তমসংখ্যা/৬ই ভাদ্র, ১৪৩২
ধারাবাহিক গল্প
পারমিতা চ্যাটার্জি
 
আলোর স্বপ্ন
[৩য় পর্ব]

"আমার স্ত্রী অদিতিআমার সবচেয়ে প্রিয় ছাত্রী ছিলআজ আমার সহধর্মিণী শুধু নয় সহকর্মীও বটেআমার প্রত্যেকটা গানের সুর ও কথায় ওর অবদান অসীম।"


পূর্বানুবৃত্তি কী দেখছে সে! তার নাম তো কোথাও নেই, না কথায়, না সুরে। তার জায়গায় নাম রয়েছে বম্বের সেই বিশিষ্ট সুরকারের। হতাশ হয়ে বসে পড়ল সে। তারপর…
 

আজ অদিতির কথায় সে হঠাৎ চাঙ্গা হয়ে বসে বলল,

-তুমি ঠিক বলেছ, জগতে সবাই একরকম হয় না, কালই একজন ছবির পরিচালক আমায় ফোন করে এই কথা বলেছেন, ওঁর সিনেমায় সংগীত পরিচালনার ভার আমাকে নিতে, এরকম প্রায় প্রতিদিন কারও-না-কারও ফোন আসে, তারা বলে কলকাতা আজও তোমার অপেক্ষায় আছে অরুণ, মনে জোর নিয়ে ফিরে এস, এতবড় প্রতারণার প্রতিশোধ নেবে না! আমি কালই ওদের সাথে যোগাযোগ করব।
বহুদিন পর অরুণকে আবার আগের মতন দেখে অদিতি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। শুরু হল অরুণ সেনের আবার সংগীত জীবন। অন্তরে যার সংগীত আছে তাকে কি কেউ থামিয়ে রাখতে পারে! কিছুদিনের মধ্যেই ফিরে পেল সে নিজের জায়গাটা। সুখে, আনন্দে ভরে উঠল তাদের ঝিমিয়ে পড়া সংসার। অদিতির হাত ধরে বলল,
-তুমিই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সংগীত দিতি, তুমি পাশে না থাকলে আমি কিছুতেই নিজেকে ফিরে পেতাম না।
তিন বছরের মাথায় বিখ্যাত এক বাংলা সিনেমার মিউজিক ডাইরেক্টর হিসেবে অরুণ সেন পেল তার জীবনের হারানো সেই পুরস্কার। স্টেজে উঠে পুরস্কার নেবার সময় সে অদিতিকে ডেকে নিয়ে বলল,
-আমার স্ত্রী অদিতি, আমার সবচেয়ে প্রিয় ছাত্রী ছিল, আজ আমার সহধর্মিণী শুধু নয় সহকর্মীও বটে, আমার প্রত্যেকটা গানের সুর ও কথায় ওর অবদান অসীম। তাই আজ এই পুরস্কার আমি ওর হাতে তুলে দিলাম, এ পুরস্কার ওরই প্রাপ্য। আর অসীম কৃতজ্ঞতা জানাই আমার কলকাতার সব বন্ধু ও সহকর্মীদের যারা আমাকে আবার গানের জগতে ফিরিয়ে আনার ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে গেছেন, এ পুরস্কার তাদেরও প্রাপ্য। কিছুদিন আগে চিত্র পরিচালক অজয় মিত্র বলেন, “এভাবে গর্তে ঢুকে থাকলে হবে! এতবড় প্রতারণার প্রতিশোধ নিতে হবে না!" যা, আমার মনে মন্ত্রের মতন কাজ করেছিল সেদিন। তাই আজ আমি আমার সেই বন্ধুদেরও ডেকে নিয়ে এই আনন্দ ভাগ করে নিতে চাই।
স্টেজে তখন বেশ কিছু নক্ষত্রের সমাবেশ, সবাই অরুণকে একটা গান গাইতে অনুরোধ করল, অরুণ বলল,
-আজ আমি না, আজ অদিতি গাইবে।
সবার জোর হাততালির মধ্যে অদিতি গান আরম্ভ করল কোন সে আলোর স্বপ্ন নিয়ে যেন আমায়, কে ডাকে আয় চলে আয়।
 
সমাপ্ত

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)