বাতায়ন/রম্যরচনা/৩য় বর্ষ/১৪তম/মণিজিঞ্জির সান্যাল সংখ্যা/২৩শে শ্রাবণ, ১৪৩২
মণিজিঞ্জির সান্যাল সংখ্যা | রম্যরচনা
উলন পাল রকি
বিয়ে
মানে কী?
মণিজিঞ্জির সান্যাল সংখ্যা | রম্যরচনা
উলন পাল রকি
"বউয়ের হাতে হাত দেওয়ার আগেই সে বুঝে গেছে— এই হাত ধরে এখন বাজার, বিল, মাসিক খরচ সব সামলাতে হবে।"
আমার বন্ধু রাহাত হঠাৎ একদিন
ফোন দিয়ে বলল,
আমি তখন মোবাইল ফেলে প্রায়
অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলাম। কারণ বিয়ে তো আর গার্মেন্টসের শার্ট না—চাইলে পরা যাবে, না চাইলে পালটে ফেলা যাবে!
আমি বললাম,
— তুই এতদিন প্রেম করে করে হাল ছেড়ে দিলি?
সে উত্তর দিল,
— না রে ভাই, এবার প্রেম করলেই হাল
ছাড়বে। বিয়েটাই করলাম, এখন প্রেম করতে পারব
না।
বিয়ের দিন গিয়ে দেখি, রাহাত একদম সিরিয়াস চেহারায় বসে আছে। মুখে যেন কেউ গোটা
এক বোতল লবণ মাখিয়ে দিয়েছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম,
— কী রে, এত চিন্তায় আছিস কেন?
সে কাঁদো কাঁদো মুখে বলল,
— দোস্ত, এখনও সময় আছে, পালিয়ে গেলে কি খুব খারাপ হবে?
বিয়ে মানেই নাকি সুখের গাথা।
কিন্তু নতুন বরের মুখ দেখে বোঝা গেল, এটা একটা ‘ভবিষ্যতের
দুঃখের ট্রেলর’। বউয়ের হাতে হাত দেওয়ার আগেই সে বুঝে গেছে— এই হাত ধরে এখন বাজার, বিল, মাসিক খরচ সব সামলাতে
হবে।
এক মাস পর দেখা করতে গেলাম।
দেখি, রাহাত আগের চেহারার অর্ধেক
হয়ে গেছে। আমি বললাম,
— কী রে, এত শুকিয়ে গেছিস কেন?
সে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বলল,
— ভাত খাই না, শুধু ঝাড়ি খাই!
উপসংহার:
বিয়ে একটি চমৎকার প্রতিষ্ঠান— তবে সেখানে প্রবেশ করার আগে ভাল ভাবে ভেবে দেখা উচিত। কারণ একবার ঢুকে গেলে, হাস্যরসই একমাত্র বাঁচার উপায়!
আমি বললাম,
বিয়ে একটি চমৎকার প্রতিষ্ঠান— তবে সেখানে প্রবেশ করার আগে ভাল ভাবে ভেবে দেখা উচিত। কারণ একবার ঢুকে গেলে, হাস্যরসই একমাত্র বাঁচার উপায়!
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment