বাতায়ন/শারদ/গল্পাণু/৩য় বর্ষ/২২তম সংখ্যা/১লা আশ্বিন, ১৪৩২
শারদ | গল্পাণু
কেয়া নন্দী
বেমানান
"ক্লাস টুয়েলভের পর অত্রি যখন পড়তে কলকাতায় আসবে তখন শিউলি বলেছিল, ভুলে যাবে না তো অত্রি-দা...?"
পুজোয় জয়ীকে নিয়ে অত্রি যাবে গ্রামের বাড়িতে। এবছর তাদের একশো বছর, মহা ধুমধাম।
ট্রেনে যেতে যেতে অত্রির চোখে
ভিড় করে, শৈশবের মহালয়া শোনা… চণ্ডীপাঠ, দেবীর বোধন, কলাবউ স্নান,
অষ্টমীর অঞ্জলি, সন্ধিপুজো, ধুনুচি নাচ, ঠাকুর ভাসান। ছোট অত্রির দায়িত্বে থাকত পুজোর ফুল জোগাড় করা। সে আর
শিউলি ঝুড়ি ভরে ফুল জোগাড় করে আনত। শিউলির বাবা নারায়ণ জেঠা ছিলেন তাদের বাড়ির
পুরোহিত, সাংঘাতিক মন্ত্রপাঠ এখনও যেন কানে বাজে।
আর ক' মাস পরেই সম্পর্কে সিলমোহর পড়বে। অত্রি ভাবে, শত বছরে আত্মীয়স্বজন আসবে অগুণতি। জয়ীর সঙ্গে সকলের
পরিচয় করানোর এটাই সঠিক সুযোগ।
গ্রামে ঢুকতেই দেখে অনেক
পরিবর্তন! ভাবে, নারায়ণ জেঠা অনেকদিন
হলো মারা গেছেন,
শিউলিও নিশ্চয়ই এখন গুছিয়ে, জমিয়ে সংসার করছে।
চণ্ডী মণ্ডপে ঢুকতে গিয়ে
দেখে কলাবউ স্নান করিয়ে আসছে। নতুন পুরোহিতের পেছনে শিউলি,
চোখ-মুখ বিধ্বস্ত। জয়ীকে শিউলির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়
অত্রি। মনে মনে ভাবে শিউলি, নামকরণেই নয় প্রকৃতই
সে জয়ী, মানানসই।
অত্রি দেখে, শৈশবের মতোই আজও শিউলি সকলের হাতে অঞ্জলির ফুল দেয়। হঠাৎই
পাড়ার সুভা কাকিমা শিউলিকে বলে,
-হ্যাঁ রে, এত সকালেও শিউলি
ফুলগুলো ঝিমিয়ে পড়েছে কেন রে?
নিরুত্তর শিউলি!
অত্রির মনে পড়ে যায়… ক্লাস
টুয়েলভের পর অত্রি যখন পড়তে কলকাতায় আসবে তখন শিউলি বলেছিল,
-ভুলে যাবে না তো অত্রি-দা...?
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment