প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নবান্ন | আমরা ভাল, ওরা খারাপ

  বাতায়ন/নবান্ন/ সম্পাদকীয় /৩য় বর্ষ/৩৬তম সংখ্যা/১৬ই পৌষ ,   ১৪৩২ নবান্ন | সম্পাদকীয়   আমরা ভাল, ওরা খারাপ "স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, বাংলা ...

Tuesday, December 23, 2025

কালো কাল | যে আসে লঙ্কায় সে-ই হয় রাবণ


 

বাতায়ন/কালো কাল/সম্পাদকীয়/৩য় বর্ষ/৩৫তম সংখ্যা/৭ই পৌষ, ১৪৩২
কালো কাল | সম্পাদকীয়
 
যে আসে লঙ্কায় সে-ই হয় রাবণ

"বিক্ষোভ, হাঙ্গামা এত বিধ্বংসী আকার নেয় কী করে? কী করে এত ব্যাপক হারে লুটপাটের সাহস পায় সাধারণ মানুষ? প্রশাসক কোটি কোটি টাকা খরচ করে টক্কর লাগানো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কি তামাশা দেখে?"

 
অন্তঃসারশূন্য মানবতাহীন ক্ষমতাসীন লোভী মানুষ সাত-পাঁচ না ভেবেই শুধু মাত্র নিজের ভোগের জন্য ছুটে বেড়ান। ভান করেন তিনি যেন সবজান্তা। কেবল মাত্র একটা দেশে নয় পৃথিবীর যে-কোনো প্রান্তে, যে-কোনো দেশেই এমন মানুষ দেখা যায়। কিন্তু গোল বাধে তখনই যখন তার হাতে বহু মানুষের ভাগ্য জড়িয়ে থাকে। আর যদি তিনি অন্য কারোর দ্বারা চালিত হন, হয়তো তিনি নিজে জানতেও পারেন না আসলে তিনি একজন ক্রীড়নক ছাড়া কিছুই নন। কিন্তু তার মধ্যেই একটা দেশের, একটা জাতির জীবনে চরম বিপদ নেমে আসে।
 
একদম প্রথমে মানুষ অজ্ঞতা বশত যা কিছু দমন করতে পারেনি বা অসম শক্তির কাছে মাথা নুইয়েছে। তা হতে পারে কোন পশু, গাছ বা প্রাকৃতিক শক্তি। ক্রমে তা বিভিন্ন দেবতার রূপ ধরে বা নিরাকার রূপে ধর্মে রূপান্তরিত। কিন্তু কোনও ধর্ম মানুষের ক্ষতির কথা, হিংসার কথা বলে কি? কিছু ধুরন্ধর মানুষ নিজের বা নিজ গোষ্ঠীর স্বার্থে ধর্মকে বর্মের মতো কাজে লাগিয়ে আপামর সাধারণ মানুষের ওপর কর্তৃত্ব ফলাচ্ছে না কি? নিজের একান্ত ভাবনার পরিসরে মানুষের তলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
 
এ তো গেল মুষ্টিমেয় স্বার্থান্বেষীর কথা, কিন্তু জনগণ কী করছেন? কিছু নেতার ইঙ্গিতে ওঠা-বসা চলাফেরা, বিনিময়ে সাময়িক কিছু দয়াদাক্ষিণ্য। অধিকাংশ নেতারাই নিজেদের আখের গুছিয়েই রাখেন। জনগণ দাবার বোড়ে তাদের যা হয় হোক।
 
নইলে যে-কোনো বিক্ষোভ, হাঙ্গামা এত বিধ্বংসী আকার নেয় কী করে? কী করে এত ব্যাপক হারে লুটপাটের সাহস পায় সাধারণ মানুষ? প্রশাসক কোটি কোটি টাকা খরচ করে টক্কর লাগানো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কি তামাশা দেখে? শুধু আজকের বাংলাদেশেই নয় পৃথিবীর যে-কোনো দেশেই কোন-না-কোন সময়ে একই চিত্র।
 
দেশনায়ক বা তার একান্ত অনুগামীদের বাদ দিলে পড়ে থাকে বিপুল জনসমুদ্র। এই জনসমুদ্রই ফারাক গড়ে দেন। তারাই একবার এর কথায়, একবার ওর কথায় নাচানাচি করেন, অসভ্যতা করেন, অমানবিক আচরণ করেন। তাদের মগজে মানবতার পক্ষে ভাবার এতটুকু রসদ নেই!
 
আয়েশার মতো, দীপু দাসের মতো ঘটনা ঘটে! মানবসভ্যতাকে যা স্তব্ধ করে দেয়। সংখ্যালঘুর ওপরে নানারকম অবমাননাও এই ঘটনায় শিউরে ওঠে। আবারও জানতে ইচ্ছা করে সেইসব জনসমুদ্রের কাছে কোন ধর্ম তাদের এই অধিকার দিয়েছে?
 
মানুষ কী করে এতটা অমানবিক হতে পারে! ভাবলেও স্তম্ভিত হতে হয়। সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘…পূর্বপুরুষ অনুপস্থিত রক্তে…’ প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে, জানতে ইচ্ছা করে যারা এইসব ঘটনা নিরন্তর ঘটাচ্ছেন, ঘটিয়ে চলেছেন বা মদত দিচ্ছেন তারা মানবসন্তান কি না তারা কি তা আদৌ জানেন?
 
আসলে সময় এসেছে নিজেদের শুদ্ধ করে সমাজের মাথায় বসে মজা দেখা এইসব মানুষদের মিথ্যে বড়াই বন্ধ করে পাহাড়ের চূড়া থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেবার। অবশ্য কথায় আছে— যে আসে লঙ্কায় সে-ই হয় রাবণ।
 

1 comment:

  1. আসলে ভুল পথে মানুষকে চালনা করবার নেতার অভাব নেই। যোগ্য নেতৃত্বের অভাব পড়েছে এ যুগে।

    ReplyDelete

২০২৬-এর নতুন সূর্য


Popular Top 10 (Last 7 days)