বাতায়ন/নবান্ন/গল্পাণু/৩য়
বর্ষ/৩৬তম সংখ্যা/১৬ই পৌষ, ১৪৩২
নবান্ন
| গল্পাণু
পুষ্প
সাঁতরা
ইঁদুরের
গর্ত
"বেহুলা শাবল নিয়ে মাটি খুঁড়তে থাকে এঁকেবেঁকে চলেছে ধান ভর্তি সুড়ঙ্গ, গোছা গোছা ধান। আনন্দে মা-ছেলের চোখ চকচক করে ওঠে!"
-অ মা… লবান্ন কবে গো, কার্তিক মাস তো শেষ
হতে চল্য...
-আরে ধান গুলান তো কাটা হোক…
মা আবেগের সুরে টান দেয়।
-কিন্ত মোদের
ত্য জমিই লাই, লোতুন ধান পাব
কুত্থেকে?
-মুঁই ঠিক ধান পেয়ে যাব, তুই আমার কাজের শেষে চৌপর বেলা ইস্কুল থেক্যা মাঠে চল্যা যাবি, শাবলটা সঙ্গে লিবি।
বেহুলা মাঠে চৌপরা কাজ করে, বাড়ি ফিরতে ফিরতে সেই তিনটা। দুপুরে বাড়ি থেকে আনা চাট্টি
পান্তা লঙ্কা পেঁয়াজ টাকনা দিয়ে খেয়ে নেয়, আমানিটুকুও চোঁ চোঁ করে খায়, কাল রাতে যতটুকু ভাত
ছিল ধানুকে দিয়েছে, পেটটা একেবারেই খালি।
রেশনের চালে মা-বেটার কুলোয় না। তবুও মিড-ডে মিলে একটু সুরাহা হয়, কিন্তু তারপর…
বেলা এখন মাথা থেকে নেমে
গেছে। অন্য ধানকাটানিরা পা বাড়ায় বাড়ির দিকে।
-আশা-দি তুমরা বাড়ি যাও আমি মাঠের শিষ গুড়াই।
বেহুলা এ কথা বলেই শিষ
কুড়োতে ব্যস্ত হয়। দূরে ধানু দাঁড়িয়ে।
-আয় রে ইদিকে, খুঁজতে খুঁজতে একটা ইঁদুরের গর্ত দেখছি, দে শাবল দে।
বেহুলা শাবল নিয়ে মাটি
খুঁড়তে থাকে এঁকেবেঁকে চলেছে ধান ভর্তি সুড়ঙ্গ, গোছা গোছা ধান। আনন্দে মা-ছেলের চোখ
চকচক করে ওঠে!
-ইবার বস্তায়
ধানশিষ ভরে নে, এ হল্য গিয়া সীতাশাল
ধানের শিষ।
ধানু বলে,
-কী সরু সরু লম্বা শিষ গো মা, আর ধানের গন্ধও।
বলে, মুঠো ধান শুঁকতে থাকে। দু বস্তা মাগনা ধান। চালের হিসেব করতে থাকে। দুজনেই…
দুয়ারে নবান্ন টোকা দিচ্ছে। রাতে
ধানু স্বপ্ন দেখে, দুধে ফুটছে চাল-গুড়, তাওয়ায় আসকে-পিঠে। ধানুর বিছানায় নরম রোদ ধাক্কা মারে, ধড়মড়িয়ে উঠে মাকে বলে,
-আমি তো এখন পিঠেতে কামড় দিচ্ছিল্যম।
-দুর বোকা, রাতে পিঠে হব্যে, নতুন চাল ভিজিয়ে
রেখেছি, পায়েস পিঠে সব হব্যে, ওঠ মন্দিরে
নবান্নের মকর দিত্যে হব্যে!
~~০০~~

No comments:
Post a Comment