প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নবান্ন | আমরা ভাল, ওরা খারাপ

  বাতায়ন/নবান্ন/ সম্পাদকীয় /৩য় বর্ষ/৩৬তম সংখ্যা/১৬ই পৌষ ,   ১৪৩২ নবান্ন | সম্পাদকীয়   আমরা ভাল, ওরা খারাপ "স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, বাংলা ...

Thursday, January 1, 2026

বরবুদুর স্তূপ, বিশ্বের সর্বোচ্চ বৌদ্ধমন্দির | অঞ্জনা মজুমদার

বাতায়ন/নবান্ন/ভ্রমণ/৩য় বর্ষ/৩৬তম সংখ্যা/১৬ই পৌষ, ১৪৩২
নবান্ন | ভ্রমণ
অঞ্জনা মজুমদার
 
বরবুদুর স্তূপ, বিশ্বের সর্বোচ্চ বৌদ্ধমন্দির

"বরবুদুর স্তূপ ইন্দোনেশিয়ার মধ্য জাভায় বিশাল মহাযান মন্দির। বিশ্বের বৃহত্তম বৌদ্ধ মন্দির। এটি নবম শতাব্দীতে শৈলেন্দ্র রাজবংশের শাসনকালে তৈরি।"

 
ইতিহাসের পাতায় বরবুদুর স্তূপ-এর কথা পড়েছি। আর গুগলের সুবাদে জেনেছি বরবুদুর বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মন্দির। সুপ্ত বাসনা ছিল একবার দেখার। তাই যখন ইন্দোনেশিয়া যাবার কথা হল, ঠিক হল প্রথমেই বরবুদুর দর্শন তারপর ইন্দোনেশিয়ার বাকি ভ্রমণ করব ঠিক হল। সেই মতো দমদম এয়ারপোর্ট থেকে এয়ার এশিয়ার বিমানে কুয়ালালামপুর পৌঁছলাম। সেখান থেকে থাই লায়নে যোগাকার্তা এয়ারপোর্টে। এখানেই বরবুদুর। মন্দিরের কাছাকাছি কলকাতা থেকে ঠিক করা একটা হোমস্টেতে পৌঁছে গেলাম। এখানে আবহাওয়া গরম। সুসজ্জিত ঘরে এয়ার কন্ডিশন আছে কিন্তু কোনও পাখা নেই।
মন্দির-এর ছবি
 
চারপাশ আমাদের শহরতলির মতো, কিন্তু খুব পরিচ্ছন্ন। এখানের মানুষজন মোটামুটি ভাল ইংরেজি বলতে ও বুঝতে পারেন। আমাদের মন্দিরে প্রবেশের অনুমতিপত্র পরেরদিনের কলকাতা থেকে অনলাইন কেনা। সকাল সাড়ে-নটায় সময়। আমাদের হোমস্টের মালকিনের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা পৌনে-নটায় মন্দিরের প্রবেশদ্বারে উপস্থিত। সেখানে অনেক নিয়মকানুন। টিকিট দেখিয়ে হাতে একটা করে ব্যান্ড পরতে হল। সিকিউরিটি চেক তো আছেই।
 
তারপর একটা বিশাল পাদুকালয়। সেখানে পায়ের সাইজ অনুযায়ী প্রত্যেককে একটা করে ঘাসের নতুন চটি দেওয়া হল। এটির মূল্য টিকিটের সাথেই ধরা আছে। আমাদের একটা করে নরম কাপড়ের ব্যাগও দেওয়া হল নিজের ব্যবহৃত জুতো বহন করার জন্য। নতুন চটি পরে এরপর মন্দির কতৃপক্ষের বাসে করে মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বারের কাছে এলাম। দ্বার থেকে বেশ কিছু দূরে মন্দির। প্রাঙ্গনে জলাশয়ে পদ্মফুল ফুটে আছে। আরো কিছু শোভাবর্ধক ফুল গাছ আছে। মন্দির কতৃপক্ষের ঠিক করা গাইড সাথে চললেন।
বরবুদুর মন্দিরের উপরের স্তূপগুলি যার ভেতরে একটি করে বুদ্ধ মূর্তি আছে 
 
বিশাল মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে বিশ্ময়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেই হয়। বরবুদুর স্তূপ ইন্দোনেশিয়ার মধ্য জাভায় বিশাল মহাযান মন্দির। বিশ্বের বৃহত্তম বৌদ্ধ মন্দির। এটি নবম শতাব্দীতে শৈলেন্দ্র রাজবংশের শাসনকালে তৈরি। এটি নয়টি স্তরে নির্মিত, যার মধ্যে ছয়টি বর্গাকার এবং তিনটি বৃত্তাকার প্ল্যাটফর্ম এবং এটির চূড়ায় একটি শঙ্কু আকৃতির গম্বুজ আছে। বৃত্তাকার প্ল্যাটফর্মগুলির চারপাশে ৭২ টি ছিদ্রযুক্ত স্তূপ আছে এর প্রত্যেকটির ভেতরে একটি করে বুদ্ধের মূর্তি আছে। মন্দিরগাত্রে ২৬৭২ টি খোদাই করা চিত্র আছে যাতে বিভিন্ন কাহিনি বর্ণিত আছে। বেশির ভাগই বুদ্ধের জীবনের কথা। আর মোট ৫০৪ টি বুদ্ধমূর্তি আছে।
আমি অঞ্জনা মজুমদার 
 
গাইড আমাদের বৌদ্ধ ধর্মের মুদ্রা যা বিভিন্ন বুদ্ধমূর্তিতে আছে তার ব্যাখ্যা করে বোঝালেন। ১৪ শ শতাব্দীতে জাভা জাতি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে বরবুদুর পরিত্যক্ত হয়। পরে নানা সময়ে বরবুদুর সংস্কার হয়ে বর্তমানে ইউনেস্কো স্বীকৃতি পেয়েছে। এখানে প্রচুর বিদেশি পর্যটক আসেন। আমাদের দুজনের শাড়ি দেখে অনেকেই ছবি তুলতে আগ্রহী হলেন। ফ্রান্সের কযেকজন পর্যটকের সঙ্গে পরিচয় হল।
নীচের প্রাঙ্গন থেকে পূর্ণ মন্দির 
 
তিনটি স্তরের প্রতিটিতে উঠতেই বেশ অনেকগুলো করে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। আমি আঙ্কোরভাট দেখেছি। তার চেয়ে এটি বেশি ভাল সংরক্ষণ করা হয়েছে। আমাদের সময় ছিল দেড় ঘন্টা। তারপর গাইড বললেন, মূল মন্দিরের বাইরে বাগানে আমরা যতক্ষণ খুশি থাকতে পারি।
 
ইন্দোনেশিয়ায় অনেক মন ভাল করা সমুদ্র সৈকত দেখেছি। আমাদের দেশের সুন্দর সুন্দর সমুদ্র সৈকতের সাথে তুলনা করব না। কিন্তু সত্যি বলতে কী, প্রথম দর্শনে বরবুদুর-এর সামনে মাথা নত হয়ে আসে। কেবল মনে হয় যখন টেকনোলজি অতটা উন্নত হয়নি তখন এমন আশ্চর্য সৌধ নির্মাণ করেছেন যে মানুষেরা তাদের কর্মকৌশল, কারিগরি দক্ষতা কতখানি উন্নত ছিল। কোনও ধর্মের জন্য নয়, পুরোনো স্থাপত্য আমাকে মানুষের আশ্চর্য দক্ষতার জন্য অবাক করে আর আকর্ষণ করে। বরবুদুরকে বিদায় জানিয়ে ফেরার পথে এগিয়ে চললাম।
 
~~০০~~

No comments:

Post a Comment

২০২৬-এর নতুন সূর্য


Popular Top 10 (Last 7 days)