বাতায়ন/তূয়া
নূর সংখ্যা/ছোটগল্প/৩য় বর্ষ/৪০তম সংখ্যা/২৪শে মাঘ, ১৪৩২
তূয়া
নূর সংখ্যা | ছোটগল্প
সুশান্ত
গঙ্গোপাধ্যায়
সাধন
সঙ্গী
"দিন কুড়ি আগে এই তথাকথিত তান্ত্রিক বন্ধুটাকে পাকড়াও করে। ওর তখন খড়কুটো আঁকড়ে বাঁচার অবস্থা। সে বৌ নাকি সাত দিনে ঘরে ফিরে আসবে।"
ধুর এভাবে বাড়ি খোঁজা যায়! শুধু
নাম, ঠিকানা কিছু নেই। রানাঘাট
স্টেশনে নেমে এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে জিজ্ঞেস করলেই যে কোনো লোক বলে দেবে। এইটুকু
খবর নিয়ে এসেছি। কম করে দশজন লোককে প্রশ্ন করেছি। কোনো লাভ হয়নি। লোকটা আমার বন্ধুর
থেকে দশ হাজার টাকা নিয়েছিল। কেন?
না, বন্ধুর বৌ, যে তিন মাস আগে ঘর
থেকে চলে গেছে, মন্ত্রবলে সে আবার বন্ধুর
কাছে ফিরে আসতে বাধ্য হবে।
ওদের বিয়ে হয়েছে মাস সাতেক। সম্বন্ধ করে
বিয়ে। প্রথম থেকেই বৌটার চালচলন ভাল ছিল না। দুপুর দুপুর বেরিয়ে যেত। রাত দশটা
নাগাদ ফিরে আসত। বন্ধুর মা প্রথমদিকে খাবার ঢাকা দিয়ে বসে থাকত। তারপর আর পারেনি। কিন্তু
বন্ধুটা বসে থাকত। একটাও খবর না দিয়ে একদিন রাতে আর বাড়ি ফিরল না। সেই থেকে
থানাপুলিশ তো কম হয়নি।
দিন কুড়ি আগে এই তথাকথিত
তান্ত্রিক বন্ধুটাকে পাকড়াও করে। ওর তখন খড়কুটো আঁকড়ে বাঁচার অবস্থা। সে বৌ নাকি সাত
দিনে ঘরে ফিরে আসবে। আরও সাতদিন বাদেও না ফিরে আসায় বন্ধুটি আমাকে নিয়ে রানাঘাট
স্টেশনে এসেছে,
-এরকম একজন লোক আছে শুনেছি। কিন্তু সে তো একজন ঠগ। স্টেশনের বাইরে কদিন বসেছিল। লোকে মেরে তাড়িয়ে
দিয়েছে। লস্কর পাড়ায় দেখুন তো। শুনেছি সেখানে মিত্তির বাড়িতে কারবার খুলেছে।
লস্কর পাড়ায় পৌঁছে সে বাড়িতে
ঢুকেই বন্ধুটা বেরিয়ে এল।
-চল, আর দরকার নেই। ইরা এখন সে মহান্তর সাধন সঙ্গী।
বলা হয়নি, ইরা বন্ধুটার স্ত্রীর নাম।
~~০০~~

No comments:
Post a Comment