বাতায়ন/তূয়া
নূর সংখ্যা/রম্যরচনা/৩য় বর্ষ/৪০তম সংখ্যা/২৪শে মাঘ, ১৪৩২
তূয়া
নূর সংখ্যা | রম্যরচনা
প্রদীপ
কুমার দে
দুষ্টু
বরের মিষ্টি বউ
ধারাবাহিক
রম্যঃ এক
"ইমা! তোমার প্যান্টের চেন খোলা কেন? তার মানে তুমি এখন একটা কচি মেয়ে নিয়ে পার্কে বসতে যাচ্ছ? তাই এত তাড়াতাড়ি? কী অসভ্য গো তুমি?"
নাম যে আমার দুষ্টু।
যেন একেবারেই বোকা
নতুন যে তার বউ বড়ই সুশ্রী
নামে কাজে সে যে বড় মিষ্টি।
দুষ্টু হাজারি। বেসরকারি
অফিসের নোকর আমি। ছোটবেলায় কুকর্মের ফলেই আমার এইরকম একটি চিরস্থায়ী নাম রয়ে
গেছে। সেই কথায় আছে না— স্বভাব যায় না মলে, ঠিক সেই রকমই। নাম আর কাজে মিল হয়ে গেছে। কৈশোর ছেড়ে সবে
পঁচিশের যুবক এই আমি। বিয়ে হয়েছে সবে মাত্র তিন মাস।
বউয়ের নাম মিষ্টি। দেখতেও
খাসা, অল্পবয়সি ব্যবহারও সুন্দর। এমএ পাশ। বাইশের এক
তন্বী। দেখেশুনে তাকে আমি বিয়ে করি। আমি আজ বেপরোয়া কিন্তু পড়লাম বেকায়দায়।
তাড়াতাড়ি করছি আর হল উল্টো ঝামেলা। ভাবলাম নতুন বউকে না জানিয়ে তাড়াতাড়ি আড্ডা
মারতে যাব। তিন মাস হল সবে বিয়ে হয়েছে এর মধ্যে আর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মারা হয়নি
তাই তাড়াতাড়ি করছিলাম লুকিয়ে বেরিয়ে যাব আর হল ঠিক তার উল্টো, সামনে বিপদ চলে এল।
আমার মিষ্টি দৌড়ে এল,
-ইমা! এই ভরদুপুরে তুমি কোথায় চললে?
-এখন দুপুর নয় ম্যাডাম,
এটা
সকাল।
-সে তো বুঝলাম। তা'বলে আমাকে না জানিয়ে
যাচ্ছ কোথায়?
মহা বিপদ। কী যে বলি?
-আরে কোথাও তেমন নয়। এই এখানেই।
-আচ্ছা যাও যাও,
আমি কেন
বাধা দেব, দাও দাও আমি তোমায় জামাটা পরিয়ে দিচ্ছি।
মিষ্টি সাহায্য করে জামা
পরিয়ে দিল। জামাটা ঠিক করে বোতামগুলি লাগিয়েও দিল।
-এই শোনো সবসময়ই জামা প্যান্টের মধ্যে গুঁজে পড়বে কিন্তু।
বেশ স্মার্ট লাগে। তুমি কিন্তু আমার স্মার্টম্যান!
বলেই মিষ্টি আমাকে খুব আদর
করে দিল, জামাটা প্যান্টে গুঁজতে গিয়েই
চিৎকার করে উঠল,
-ইমা! তোমার প্যান্টের চেন খোলা কেন? তার মানে তুমি এখন একটা কচি মেয়ে নিয়ে পার্কে বসতে যাচ্ছ? তাই এত তাড়াতাড়ি?
কী
অসভ্য গো তুমি?
আমি তো সব শুনে থ, এ যে আর এক পণ্ডিত। বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারতে যাচ্ছি আর
তাই একটু নতুন বউকে আড়াল করতে চাইছি আর এ পুঁচকে-বিচকে বউ বলে কী রে?
-তুমি আমার নতুন আর মিষ্টি বউ হয়ে এসব কী বলছ? আমি তাড়াতাড়ি করছি তাই... চেন লাগাতে ভুলে গেছি। তা বলে এই
কথা বলছ?
-ও হো! তুমি খুলে রেখে দেবে আমি দেখলে বললেই দোষ আমার?
কী মুশকিল হল। কী করে বোঝাই ওকে, হঠাৎই আমার মাথা কাজ
করল,
-আমি ভুল করেছি ঠিকই তা অন্যভাবে বলো, নিজেই চেন লাগিয়ে দাও,
কে মানা
করেছে? আচ্ছা কিন্তু তুমি এসব
নোংরামি কী করে জানলে? তুমি তো ভদ্র মেয়ে?
মিষ্টি মিটিমিটি হাসছে,
-কেন আমার অন্য বন্ধুরা এই রকম সব নোংরামি করত যে?
অবাক হলাম, এ আবার কী কথা? কায়দা করে বললাম,
-ও হো! তাই? আমি আবার খারাপ
ভাবছিলাম।
মিষ্টি চুপসে গেল,
-এই তুমি আমায় এই রকম ভাবতে পারলে? আমি না তোমার একারই একেবারে নতুন একটা বউ?
বলেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল
মিষ্টি।
আবারও বেকায়দায়। মিষ্টিকে ধরে
ওর চোখের জল মুছিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম,
-তুমি কী করে ভাবলে আমি অন্য মেয়ের সাথে মাঠে গিয়ে
বসব? আমি কি তাই?
মিষ্টি ম্যানেজ মাস্টার,
-তুমি তো যাচ্ছ তাহলে আমি একা একা কী করব এখন?
-যাও, পাশের বাড়ির বৌদির
সাথে গিয়ে গল্প করে এসো, কেমন?
বলে একটু আদর করে দিলাম
মিষ্টিকে। মিষ্টিও কম যায় না। আমার কড়ে আঙুল কামড়ে মাথায় থু-থু করে থুথু
ছিটিয়ে দিল।
আর সু্যোগ না দিয়ে দৌড়ে
একেবারে বাড়ির বাইরে চলে এলাম। দেখি মিষ্টি একটি ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে দিল আমার
উদ্দেশ্যে। আমিও চকাশ করে একটা চুমার আওয়াজ দিয়ে দিলাম কারণ আমি আবার এইসব
ছোঁড়াছুঁড়ি করতে পারি না, যা পারি তা করি যথা
যথাস্থানেই।
ক্রমশ

শুভকামনার বাতায়ন
ReplyDeleteখুব মজার। রোমান্টিক মজা পেলাম 👍
ReplyDeleteবেশ মজার !
ReplyDelete