প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

ক্ষণিকের অতিথি | আতঙ্কবাদ ও আতঙ্কগ্রস্ত

বাতায়ন / ক্ষণিকের অতিথি /সম্পাদকীয়/ ৩য় বর্ষ/৪৪তম সংখ্যা/২৩শে   ফাল্গুন ,   ১৪৩২ ক্ষণিকের অতিথি  |  সম্পাদকীয়     আতঙ্কবাদ ও আতঙ্কগ্রস্ত ...

Sunday, March 8, 2026

কবিতা— স্বপ্নের হাতবদল | কবি— অজয় দেবনাথ | পর্যালোচক— তৈমুর খান

বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/পর্যালোচনা/৩য় বর্ষ/৪তম সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি | পর্যালোচনা
কবিতা— স্বপ্নের হাতবদল
কবি— অজয় দেবনাথ
পর্যালোচক— তৈমুর খান

"জীবনানন্দ-পরবর্তী আধুনিক কবিতার যে নিরাসক্ত অথচ গভীর সুর আমরা শুনি, 'স্বপ্নের হাতবদলকবিতাটিতে তার একটি চমৎকার প্রতিফলন ঘটেছে।"

 
[কবির নাম না-জেনে শুধু কবিতা ও শিরোনামের ভিত্তিতে এই পর্যালোচনা]
 
আগুন নিভে গেলে
পিটপিট চেয়ে থাকে
অসমর্থ কিছু আগুনের কণা…
বুকে তার অপূর্ণ স্বপ্ন, বেদনার্ত স্মৃতিভার।
তিল তিল পুড়িয়ে জীবন
পড়ে আছে ছাই,
আর সে আগুন হতে পারবে না
অদম্য জেদে দুর্দমনীয় হবে না কোনদিন।
 
পিটপিট চেয়ে থাকা তবু…
বারুদের স্তূপ হাতে, এলে কেউ
ঘটাবে বিস্ফোরণ নিভে আসা কণা।
 
###############
 
জীবনানন্দ-পরবর্তী আধুনিক কবিতার যে নিরাসক্ত অথচ গভীর সুর আমরা শুনি, 'স্বপ্নের হাতবদল' কবিতাটিতে তার একটি চমৎকার প্রতিফলন ঘটেছে। কবিতাটির একটি সংক্ষিপ্ত কাব্যিক সমালোচনা নিচে তুলে ধরা হলো:
কাব্যিক সমালোচনা: স্বপ্নের হাতবদল
 
১. মূলভাব ও রূপক নির্মাণ:
কবিতাটি মূলত উত্তরাধিকার এবং রূপান্তরের এক সার্থক আখ্যান। এখানে 'আগুন' এবং 'নিভে আসা কণা' কেবল দহন নয়, বরং একটি প্রজন্মের শেষ পর্যায়ের প্রতিনিধি। জীবনের সমস্ত দহন শেষে যখন কেবল ছাই পড়ে থাকে, তখন সেখানে হতাশা থাকার কথা ছিল। কিন্তু কবি দেখিয়েছেন, এই স্তিমিত হয়ে আসা কণাগুলোর মধ্যেও একটি 'অসমর্থ' জেদ বেঁচে থাকে।
 
২. চিত্রকল্পের ব্যবহার:
কবি অত্যন্ত শক্তিশালী কিছু চিত্রকল্প ব্যবহার করেছেন:
'পিটপিট চেয়ে থাকা': এটি নিভে যাওয়া আগুনের শেষ মুহূর্তের অসহায়ত্ব এবং একইসঙ্গে এক ধরণের নীরব অপেক্ষাকে ফুটিয়ে তোলে।
'তিল তিল পুড়িয়ে জীবন': এখানে জীবনের ক্ষয়িষ্ণুতাকে অত্যন্ত সংবেদ্যভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
'বারুদের স্তূপ হাতে কেউ': এটি কবিতার 'ক্লাইম্যাক্স'। ব্যক্তি যখন নিজে আর জ্বলে উঠতে পারে না, তখন সে অন্য কোনো বারুদ বা নতুন প্রাণশক্তিতে নিজের শেষ স্ফুলিঙ্গটুকু সঁপে দিয়ে একটি বড় পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে।
 
৩. ছান্দসিক ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য:
কবিতাটি গদ্যছন্দের আশ্রয়ে রচিত হলেও এর ভেতরে একটি চমৎকার অন্ত্যমিল ও ভাবের গতিময়তা রয়েছে। প্রথম স্তবকে যে ক্লান্তি এবং দীর্ঘশ্বাস (বেদনার্ত স্মৃতিভার), দ্বিতীয় স্তবকে তা আকস্মিক এক বারুদ-সম্ভাবনায় বিস্ফোরিত হয়েছে। শব্দের নির্বাচন সংক্ষিপ্ত কিন্তু ভারবাহী।
 
৪. দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি:
কবিতাটির শিরোনাম 'স্বপ্নের হাতবদল' সার্থক হয়েছে শেষ পঙক্তিতে এসে। ব্যক্তিগত অক্ষমতাকে যখন বৃহত্তর কোনো শক্তির (বারুদ) সাথে মিলিয়ে দেওয়া হয়, তখন তা আর ব্যর্থতা থাকে না, বরং এক নতুন সূচনার বারতা হয়ে ওঠে। এটি নিছক ধ্বংসের কথা বলে না, বরং পুনর্জন্মের ইঙ্গিত দেয়।
 
"স্বপ্নের হাতবদল" কবিতাটি বিষণ্ণতা দিয়ে শুরু হলেও একটি ইতিবাচক ও বিপ্লবী সম্ভাবনায় শেষ হয়। ক্ষয়িষ্ণু অস্তিত্বের মধ্যেও যে ভবিষ্যতের বীজ লুকিয়ে থাকে, কবি অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সাথে তা তুলে ধরেছেন।


 

No comments:

Post a Comment

ফিরতে হবে ঘরে~~~


Popular Top 9 (Last 7 days)