বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/পর্যালোচনা/৩য় বর্ষ/৪৪তম
সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি | পর্যালোচনা
কবিতা— মাছজন্ম
কবি— জয়িতা বসাক
পর্যালোচক— প্রদীপ কুমার দে
[কবির নাম না-জেনে
শুধু কবিতা ও শিরোনামের ভিত্তিতে এই পর্যালোচনা]
ভাঙা সেতুর নিচ দিয়ে এইমাত্র
পেরিয়ে এলাম
গঙ্গা পদ্মার মোহনা, ইছামতীর জোয়ার...
প্রতিটি ঢেউয়ের শরীরে এখনও লেগে বিষন্নতা,
পুঁতে রাখা কাঁটাতার আজও
ছায়া ফেলে হাঁটে
একই পলিমাটি, একই জলজ ফসলের ঘ্রাণ
আর পৌষের জলে ডুবে বনলতার নরম সুবাস
নদীর হাত ধরে কানে কানে বলে
এসেছি
একবার অন্তত মাছজন্ম লিখে দিও...
সুবর্ণরেখা পেরিয়ে গাঙনার নিভৃত স্রোতে
অমলিন ভেসে যাব পশ্চিম থেকে পুবে,
আরো পুবে, ছুঁয়ে আসব রক্তিম সূর্যের সবুজ দেশ
আর ভাসতে ভাসতে সোনালি পাখনায় এঁকে নেব
আদিগন্ত বাংলার চিরশাশ্বত অক্ষরমালা...
---------------------
আমাকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে
যে অংশটি সেটা হল...
"মাছজন্ম": এই রূপকটি অসাধারণ। মাছের কোনো দেশ নেই, পাসপোর্ট নেই। মাছ হয়ে জন্মালে অনায়াসেই "রক্তিম সূর্যের সবুজ দেশ" অর্থাৎ বাংলাদেশকে ছুঁয়ে আসা সম্ভব।
'মাছজন্ম' শব্দটির মধ্য দিয়ে
আপনি দেশভাগ, কাঁটাতার আর শিকড়ের যে টান
ফুটিয়ে তুলেছেন, তা সত্যিই
হৃদয়স্পর্শী। বিভাজন যেখানে মানুষের পায়ে বেড়ি পরায়, সেখানে মাছ বা নদীর কাছে কোনো সীমানা নেই—এই আর্তিটুকু কবিতায় খুব জোরালোভাবে
উঠে এসেছে।
গঙ্গা, পদ্মা, ইছামতী থেকে
সুবর্ণরেখা—এই নদীনামা কেবল মানচিত্র নয়,
বরং
একটি অখণ্ড চেতনার বহিঃপ্রকাশ। পশ্চিম থেকে পুবে ভেসে যাওয়ার এই যে আকাঙ্ক্ষা, তা আসলে হারানো ঘর বা অখণ্ড বাংলার প্রতি এক গভীর
নস্টালজিয়া।
আপনি যে বৈপরীত্য তৈরি করেছেন
তা চমৎকার। একদিকে "পুঁতে রাখা কাঁটাতার", আর অন্যদিকে "ইছামতীর জোয়ার"। মানুষের তৈরি কৃত্রিম দেয়াল যখন
দীর্ঘচ্ছায়া ফেলে, তখন পলিমাটি আর জলজ
ফসলের ঘ্রাণই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শেকড় আসলে একটাই।
"মাছজন্ম": এই রূপকটি অসাধারণ। মাছের কোনো
দেশ নেই, পাসপোর্ট নেই। মাছ হয়ে
জন্মালে অনায়াসেই "রক্তিম সূর্যের সবুজ দেশ" অর্থাৎ বাংলাদেশকে ছুঁয়ে
আসা সম্ভব।
"পৌষের জলে ডুবে বনলতার নরম সুবাস": এখানে জীবনানন্দের সেই চিরচেনা রূপসী বাংলার ছোঁয়া পাওয়া যায়।
শেষাংশে "সোনালি পাখনায়
এঁকে নেব আদিগন্ত বাংলার চিরশাশ্বত অক্ষরমালা"—এই পঙ্ক্তিটি
পুরো কবিতাকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। এটি কেবল ফেরার আকুতি নয়, বরং সংস্কৃতি ও ভাষার এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের জয়গান।
এই কবিতার দুর্বল দিক হল,
উপমার অতিব্যবহার 'বনলতা' বা 'অমলিন' শব্দগুলো বাংলা
কবিতায় এত বেশি ব্যবহৃত হয়েছে, নতুন কোনো শব্দবন্ধ
বা উপমা থাকলে কবিতাটি আরও সতেজ লাগত।
কবিতার শেষের দিকে
"চিরশাশ্বত অক্ষরমালা" অংশটি কিছুটা বেশি আলঙ্কারিক বা 'মেদযুক্ত' মনে হতে পারে। আধুনিক
কবিতায় সাধারণত আবেগটা একটু চেপে রাখা হয়,
এখানে
সেটা সরাসরি বলে দেওয়া হয়েছে।
অস্পষ্ট গতিপথে কবিতাটি
শুরু হয়েছিল 'ভাঙা সেতুর নিচ দিয়ে' আসার বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়ে, কিন্তু শেষ হয়েছে 'সোনালি পাখনায়
অক্ষরমালা আঁকা'র কল্পনায়। এই উত্তরণটা খুব বেমানান।
ক্ষণিকের অতিথি | পর্যালোচনা
কবিতা— মাছজন্ম
কবি— জয়িতা বসাক
পর্যালোচক— প্রদীপ কুমার দে
"মাছজন্ম": এই রূপকটি অসাধারণ। মাছের কোনো দেশ নেই, পাসপোর্ট নেই। মাছ হয়ে জন্মালে অনায়াসেই "রক্তিম সূর্যের সবুজ দেশ" অর্থাৎ বাংলাদেশকে ছুঁয়ে আসা সম্ভব।"
গঙ্গা পদ্মার মোহনা, ইছামতীর জোয়ার...
প্রতিটি ঢেউয়ের শরীরে এখনও লেগে বিষন্নতা,
একই পলিমাটি, একই জলজ ফসলের ঘ্রাণ
আর পৌষের জলে ডুবে বনলতার নরম সুবাস
একবার অন্তত মাছজন্ম লিখে দিও...
সুবর্ণরেখা পেরিয়ে গাঙনার নিভৃত স্রোতে
অমলিন ভেসে যাব পশ্চিম থেকে পুবে,
আর ভাসতে ভাসতে সোনালি পাখনায় এঁকে নেব
আদিগন্ত বাংলার চিরশাশ্বত অক্ষরমালা...
---------------------
"মাছজন্ম": এই রূপকটি অসাধারণ। মাছের কোনো দেশ নেই, পাসপোর্ট নেই। মাছ হয়ে জন্মালে অনায়াসেই "রক্তিম সূর্যের সবুজ দেশ" অর্থাৎ বাংলাদেশকে ছুঁয়ে আসা সম্ভব।
"পৌষের জলে ডুবে বনলতার নরম সুবাস": এখানে জীবনানন্দের সেই চিরচেনা রূপসী বাংলার ছোঁয়া পাওয়া যায়।

No comments:
Post a Comment