প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

চৈতি হাওয়া—নববর্ষ

বাতায়ন/চৈতি হাওয়া—নববর্ষ/ সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ , ১৪৩৩ চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | সম্পাদকীয়   চৈতি হাওয়া—নববর্ষ "দুগ্ধপোষ্য...

Wednesday, April 8, 2026

কবিতা— গুরুত্ব | কবি— শ্রীময়ী চক্রবর্তী | পর্যালোচক— উজ্জ্বল পায়রা

বাতায়ন/চৈতি হাওয়া—নববর্ষ/পর্যালোচনা/৪র্থ বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ, ১৪৩৩
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | পর্যালোচনা
কবিতা— গুরুত্ব
কবি— শ্রীময়ী চক্রবর্তী
পর্যালোচক— উজ্জ্বল পায়রা

"বৃহত্তর জীবনের উত্তরণ-কাণ্ডের পেছনে যে দেশলাই কাঠির মতো বারুদ-অনুপ্রেরণা স্পর্শ ছুঁয়ে থাকে তা আমরা দেখতে পাই না বটে কিন্তু নির্দ্বিধায় মেনে নিতে পারি।"

[কবির নাম না-জেনে শুধু কবিতা ও শিরোনামের ভিত্তিতে এই পর্যালোচনা]
 
গুরুত্ব
 
আগুনের গুরুত্ব বোঝাতে
দেশলাই কাঠিই যথেষ্ট
 
হ্যাঁ, আগুন...
দেশলাই কাঠি...
"মুখে আমার উসখুস করছে বারুদ
বুকে আমার জ্বলে উঠবার দুরন্ত উচ্ছ্বাস
আমি একটা দেশলাইয়ের কাঠি।"
কবি এঁকে গেছেন দেশলাই কাঠি আর আগুনের সংরাগ। আগুনের বিভীষিকা রূপের কারিগর যে সামান্য নগণ্য তুচ্ছ ক্ষুদ্র এক বারুদ স্পর্শ তা বলে দিতে হয় না। বৃহত্তর জীবনের উত্তরণ-কাণ্ডের পেছনে যে দেশলাই কাঠির মতো বারুদ-অনুপ্রেরণা স্পর্শ ছুঁয়ে থাকে তা আমরা দেখতে পাই না বটে কিন্তু নির্দ্বিধায় মেনে নিতে পারি।
 
চরিত্র
 
সূর্য ডোবার আগেও
শেষ আলোটা ছড়িয়ে যায়
 
কথায় আছে- প্রদীপ নেভার আগে জ্বলে ওঠে। তেমনটাই প্রকৃতির বুকে যখন সূর্য ডোবার ক্ষণে তার শেষ আলো মনোরম মধুর হয়ে চারিপাশে কিরণ ছড়ায় যাকে আমরা গোধূলির ছটা বলি। গোধূলির হাসি এত উজ্জ্বল তার কারণ একটু পরে সে নিভে যাবে চিরতরে। জীবনের সূর্য ডোবার আগে কতিপয় মানুষও অনেক বেশি প্রভাব বিস্তার করে যান। যাকে দেখে কোনভাবে বোঝার উপায় থাকে না কিছু সময় অবস্থান মাত্র তার সবার মাঝে। তাই তিনি নিংড়ে দিয়ে যান নিজেকে।
 
ছায়া
 
ছায়াও জানে
ঠিক কখন
ছেড়ে যেতে হয়
 
সব সম্পর্ক চিরস্থায়ী হয় না। আবার কোনো কোনো সম্পর্ক জোড়াতালি দিয়ে কোনরকম টিকে থাকে। যেমন আলো ও ছায়ার সম্পর্ক। এই সম্পর্কের সমীকরণটা এতটাই বিজ্ঞানসম্মত যে আলোর মাপকাঠি হিসেবে ছায়ার ভূমিকা প্রখর। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন -
"নিজের ছায়া মস্ত করে
অস্তাচলে বসে বসে
আঁধার করে তোল যদি
জীবনখানা নিজের দোষে"
 
ঠিক বিপরীতে আলোকে যদি উস্কে দেওয়া যায় তবে  অন্ধকারটুকু পালাতে পথ পায় না। যেমন কবির কথায়-
"তাহার পরে আঁধার ঘরে
প্রদীপখানি জ্বালিয়ে তোলো"
 
 
দর্পচূর্ণ
 
কখনও একান্তে
নিজেকে নিয়ে গর্ব হলে
সমুদ্রের সামনে গিয়ে দাঁড়াই
 
সমুদ্র; অগাধ অবাধ, অতলতায় সীমাহীন, ব্যাপ্তিতে সমুজ্জ্বল। সেখানে নিজেকে তুচ্ছ বালুকণার অধিক কিছু মনে হয় না। এই উপলব্ধি কেবলমাত্র সমুদ্র সৈকতে দাঁড়ালে অনুভূত হয়। যেখানে দাঁড়িয়ে নিউটন বলতে পেরেছেন-
'একটা নুড়ি কুড়াতে পেরেছি মাত্র' সেখানে সাধারণ মানুষ হয়ে আমরা কত-না গর্বে মাতি নিজেকে নিয়ে! সম্ভব-অসম্ভবের ঠিকানা বদল করে গর্বে উৎফুল্ল হয়ে হয়তোবা অন্ধের মতো তুচ্ছতাচ্ছিল্যে আহত করে ফেলি অন্যকে। "বিপুলা পৃথিবীর কতটুকুইবা জানি!" -এ উপলব্ধি আনাতে মাঝেমধ্যে সমুদ্রকে সাক্ষী মানতে হয়; একথা তুলে ধরে এই লেখনী। তবে নামকরণটি 'দর্পচূর্ণ' না হয়ে যদি শুধুই 'দর্প' হত তবে বোধহয় বেশি মানিয়ে যেত বলে আমার মনে হয়েছে।
 
সবশেষে ধন্যবাদ জানাই কবিকে কবিতাগুলির মাধ্যমে পাঠকের দরবারে এমন সুন্দর সুন্দর বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
 

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 8 (Last 7 days)