বাতায়ন/চৈতি
হাওয়া—নববর্ষ/পর্যালোচনা/৪র্থ বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ, ১৪৩৩
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | পর্যালোচনা
কবিতা— গুরুত্ব
কবি— শ্রীময়ী চক্রবর্তী
পর্যালোচক— উজ্জ্বল পায়রা
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | পর্যালোচনা
কবিতা— গুরুত্ব
কবি— শ্রীময়ী চক্রবর্তী
"বৃহত্তর জীবনের উত্তরণ-কাণ্ডের পেছনে যে দেশলাই কাঠির মতো বারুদ-অনুপ্রেরণা স্পর্শ ছুঁয়ে থাকে তা আমরা দেখতে পাই না বটে কিন্তু নির্দ্বিধায় মেনে নিতে পারি।"
দেশলাই কাঠিই যথেষ্ট
হ্যাঁ, আগুন...
দেশলাই কাঠি...
"মুখে আমার উসখুস করছে বারুদ
বুকে আমার জ্বলে উঠবার দুরন্ত উচ্ছ্বাস
আমি একটা দেশলাইয়ের কাঠি।"
কবি এঁকে গেছেন দেশলাই কাঠি আর আগুনের সংরাগ। আগুনের বিভীষিকা রূপের কারিগর যে সামান্য নগণ্য তুচ্ছ ক্ষুদ্র এক বারুদ স্পর্শ তা বলে দিতে হয় না। বৃহত্তর জীবনের উত্তরণ-কাণ্ডের পেছনে যে দেশলাই কাঠির মতো বারুদ-অনুপ্রেরণা স্পর্শ ছুঁয়ে থাকে তা আমরা দেখতে পাই না বটে কিন্তু নির্দ্বিধায় মেনে নিতে পারি।
সূর্য ডোবার আগেও
শেষ আলোটা ছড়িয়ে যায়
ছায়াও জানে
ঠিক কখন
ছেড়ে যেতে হয়
"নিজের ছায়া মস্ত করে
অস্তাচলে বসে বসে
আঁধার করে তোল যদি
জীবনখানা নিজের দোষে"
"তাহার পরে আঁধার ঘরে
প্রদীপখানি জ্বালিয়ে তোলো"
কখনও একান্তে
নিজেকে নিয়ে গর্ব হলে
সমুদ্রের সামনে গিয়ে দাঁড়াই
'একটা নুড়ি কুড়াতে পেরেছি মাত্র' সেখানে সাধারণ মানুষ হয়ে আমরা কত-না গর্বে মাতি নিজেকে নিয়ে! সম্ভব-অসম্ভবের ঠিকানা বদল করে গর্বে উৎফুল্ল হয়ে হয়তোবা অন্ধের মতো তুচ্ছতাচ্ছিল্যে আহত করে ফেলি অন্যকে। "বিপুলা পৃথিবীর কতটুকুইবা জানি!" -এ উপলব্ধি আনাতে মাঝেমধ্যে সমুদ্রকে সাক্ষী মানতে হয়; একথা তুলে ধরে এই লেখনী। তবে নামকরণটি 'দর্পচূর্ণ' না হয়ে যদি শুধুই 'দর্প' হত তবে বোধহয় বেশি মানিয়ে যেত বলে আমার মনে হয়েছে।

No comments:
Post a Comment