বাতায়ন/নারী না পুরুষ/হলদে খাম/৪র্থ
বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩
নারী না পুরুষ
হলদে খাম
অর্চনা দাস
অনুকে বকুল
"উফ্ সে কী প্রেম। অবশ্য সবই ওয়ান সাইডেড। একদিন আশা পারেখ ওরফে লীলাদি আমাকে বলেছিল, ওই না বেটা না বেটিটা আমাকে জ্বালিয়ে মারল। কোনদিন দেব নোড়া দিয়ে মুখ থেঁতলে। লীলাদির কোথায় যেন বিয়ে হয়ে গেছিল।"
শ্রী
মা
বীণাপাণি
ভদ্র
(বকুল)
মা
মনসা রোড
চিত্তপুর, নদিয়া
১৯.৪.২০২৬.
প্রিয়
অনু,
প্রথমে
তোকে জানাই আমার একবুক ভালোবাসা প্রীতি ও শুভেচ্ছা। কেমন আছিস বল। আমাকে চিনতে
পারছিস তো। নাকি ভুলেই বসে আছিস। মনে আছে স্কুলে তোকে আমরা ভুলনদি বলে খ্যাপাতাম।
কারণ তোর একটা ভুলে যাবার বাতিক ছিল। টিফিনের সময় আমরা প্রায়ই মনুদাদুর দোকান
থেকে চারআনার আচার কিনে খেতাম। তোর উপরে যেদিন লবন আনার ভার পড়ত সেদিন আমাদের
চেটেপুটে আচার খাবার মজাটাই হত পণ্ড। কারণ
কোথায় লবন। তুই তো ভুলেই বসে আছিস। এখনও কি তোর সেই ভুলে যাবার বাতিকটা রয়ে গেছে? ডালের বদলে তেল ঢেলে দিস না
তো তোর বুড়ো বরটার পাতে। দেখতে দেখতে আমরাও বুড়োর দলে পড়ে গেলাম রে। তোদের ফুলনগরের
বাড়ির কথা খুব মনে পড়ে। কত গেছি সেই বাড়িতে। কী আনন্দই না করতাম তখন। আর মনে
আছে রাত হলেই সে কী ভুতের ভয়। তোদের কুয়োপাড়ের রাস্তার ওপাশে একটা বিশাল কদম গাছ
ছিল না? ওই গাছে নাকি ভূত
থাকত। নালূমামা নাকি একবার ভূতের
কবলে পড়েছিল। কী সব ইনিয়েবিনিয়ে গল্প বানাত নালূমামা। আমরা তন্ময় হয়ে সেসব
শুনতাম। নালূমামার খবর কী রে। তোর মুখেই শুনেছিলাম উনি নাকি আন্দামানে কী সব
রিসোর্ট-ফিসোর্ট
খুলে বসেছেন। এসব কী করে হলো রে। ওনার একটা মেয়েলি স্বভাব ছিল না? হাঁটাচলা কথা বলা, চিবিয়ে চিবিয়ে পান খাওয়া।
মেয়েদের সঙ্গই তিনি বেশি পছন্দ করতেন। তোদের পাশের বাড়ির আশা পারেখের কথা মনে
আছে?
তোর
নালূমামার আশা পারেখ। উফ্ সে কী প্রেম। অবশ্য সবই ওয়ান সাইডেড। একদিন আশা পারেখ
ওরফে লীলাদি আমাকে বলেছিল,
ওই না
বেটা না বেটিটা আমাকে জ্বালিয়ে মারল। কোনদিন দেব নোড়া দিয়ে মুখ থেঁতলে। লীলাদির
কোথায় যেন বিয়ে হয়ে গেছিল। তারপর থেকেই তো নালূমামা ঘরছাড়া। আচ্ছা, তুই কি আন্দামানে গেছিস কখনো? আমার খুব যাবার ইচ্ছে ছিল।
কিন্তু কিছুই আর হলো না। ও যে এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে বুঝতেই পারিনি। সামান্য জ্বর
আর পেট ব্যথা যে একটা লোকের চলে যাবার হেতু হতে পারে তা আর কে জানত বল। থাক এসব
কথা।
তোর
খবর কী?
চিঠিতে বিস্তারিত জানাস। মেসোমশাই-মাসিমার কথা খুব মনে পড়ে। তোর এক পিসিমা ছিলেন না? ওনাকে আমরা ভর্তা বিশারদ
বলতাম। কুলের ভর্তা কাঁচা আমের ভর্তা আমরুল পাতার ভর্তা আমড়া পোড়া ভর্তা আরো
কতকিছু দিয়ে না উনি ভর্তা বানাতেন। দুধের পুরু সর দিয়ে কাঁচা আমের ভর্তার স্বাদ
এখনো মুখে লেগে আছে। এখন আর এসব কোথায়। আজ এটুকুই থাক। তুই খুব ভালো থাকিস। চিঠির
উত্তর দিস কিন্ত। আবার একবুক ভালোবাসা জানিয়ে শেষ করছি।
ইতি—
তোর
প্রানের ফুল
বকুল
অনুপমা
সরকার
প্রযত্নে-কাঞ্চন
সরকার
ফুলবাহারি
রোড
শিলচর, আসাম
No comments:
Post a Comment