বাতায়ন/নারী না পুরুষ/গল্পাণু/৪র্থ
বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩
নারী না পুরুষ
গল্পাণু
অর্পিতা দাস
টান
"উত্তাল নদীর গর্জন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে। সবাই আত্মরক্ষার জন্য ছুটে পালাচ্ছে। বঙ্কুর সারা ঘর জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বিছানা ছুঁই ছুঁই করছে। জলের ছোঁয়া পেতেই সম্বিৎ ফেরে বঙ্কুর। লক্ষ্মীকে ঠেলে দিয়ে, 'পালা বউ, এক্ষুনি পালা...'"
খিলখিল
করে হেসে চলেছে আকাশ। যেন কতদিনের রাগ অভিমান দুঃখ ভুলে সহজ আনন্দে লুটিয়ে পড়ছে।
বঙ্কুর মন আনচান করতে থাকে। সেই কত দিনের অভ্যেস। মেঘ গুড়গুড় শুনলেই মাথার ভিতর এক
উন্মাদনা পেয়ে বসে। রাতবিরেতে ছুটে যায় জলের কাছে। জলই তো জীবন, জলের সাথে তার আজন্ম সখ্যতা।
টেঁটা
বের করে ঝপাঝপ শোল মাগুর বাম ভরে ওঠে হাঁড়ি। কড় কড় কড়াৎ কইগুলো মনের আনন্দে
লাফালাফি করে। দুহাতে শক্ত করে ধরে মাছের শরীর। বাদলার এই ক’টা দিনই ভরসা।
কড়কড়ে ক’টা
নোটের দেখা মেলে। কোনো মতে গঞ্জে পৌঁছাতে পারলেই পোয়াবারো। ছেলেপুলে নিয়ে নিশ্চিতে
দিনগুলো কাটে, জল ফুরিয়ে গেলেই আবার
কাজের জন্য এদিক-ওদিক
করে কোনো রকমে দিন গুজরান করা।
আবার ফরসা
হয়ে উঠল আকাশটা। দেয়ার ডাকে কান পাতা ভার। বিছানা ছেড়ে উঠতে গিয়ে থমকে যায়
বঙ্কু। লক্ষ্মী হ্যারিকেনের আলোটা উসকে দিয়ে,"সব ঠিক হয়ে যাবে। কয়েকদিন বিশ্রাম নেও।"
অথর্বের মতো বসে থাকে বঙ্কু। তাহলে সে কী আর... সংসারে তার কোনো ভূমিকা নেই। লোকে ঠিকই বলে, ‘পা ছাড়া মানুষ কতখানিই আর
মানুষ থাকে।’
লক্ষ্মী
প্রবোধের সুরে বলতে থাকে, "অ্যাক্সিডেন্টের পর
সবাই কইছিল তুমি নাকি বাঁচবা না,
সেই
যমের দুয়ার থাইকা যহন ফিরা আইস,
পা
দুইখানও ঠিক হইব। আমার কথাডা তুমি মিলাইয়া নিও..."
বাজি
ফাটার মতো আওয়াজ বঙ্কুকে অস্হির করে তোলে। নিশপিশ করে হাত। সমস্ত বর্ষা যেন বঙ্কুর
হৃদয়ে বাসা বেঁধেছে।ধীরে
ধীরে অসার শরীরটা বিছানায় এলিয়ে দেয়।
উত্তাল
নদীর গর্জন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে। সবাই আত্মরক্ষার জন্য ছুটে পালাচ্ছে। বঙ্কুর
সারা ঘর জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বিছানা ছুঁই ছুঁই করছে। জলের ছোঁয়া পেতেই সম্বিৎ ফেরে
বঙ্কুর। লক্ষ্মীকে ঠেলে দিয়ে,
"পালা
বউ, এক্ষুনি পালা..."
লক্ষ্মী
বঙ্কুর দিকে তাকিয়ে,
"আর
তুমি?"
বঙ্কু
নিশ্চল ভাবে, "জল আমারে ডাক
দিছে..."
~~000~~
No comments:
Post a Comment