বাতায়ন/নারী না পুরুষ/হলদে
খাম/৪র্থ বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩
নারী না পুরুষ
হলদে খাম
সুজিত চক্রবর্তী
দেবাংশুকে সুজিত
"একটা কথা এখানে বলা দরকার যে পরিণত বয়সে এসে আমরা বুঝতে পারি যে নারী পুরুষ একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, পরিপূরক। আবার একই সঙ্গে এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে সেই বয়সে এই প্রতিযোগিতার আবহাওয়ারও কিছুটা প্রয়োজনীয়তা ছিল।"
প্রিয়
দেবাংশু,
আজ
কোনও এক কথাপ্রসঙ্গে সেই পুরনো বিতর্কের কথা মনে পড়ে গেল: সমাজে অথবা সংসারে কার
গুরুত্ব বেশি, নারীদের না পুরুষদের!
মনে পড়ে গেল আরও অনেক কথাও,
সেই যখন
আমাদের তখন বয়ঃসন্ধি। প্রাকৃতিক নিয়ম মেনে গোঁফ দাড়ি গজিয়েছে, মেয়েদের প্রতি কৌতূহল বাড়ছিল
আস্তে আস্তে আর সবকিছুকে ছাপিয়ে একটা আনন্দের স্রোত বয়ে যাচ্ছিল মনে মনে, যেটা সম্ভবত প্রাপ্তবয়স্ক
পুরুষ হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণের জন্যেই ছিল। তখন আমি আর তুই স্কুলের বেঞ্চে
প্রতিদিন পাশাপাশি বসে কত রকমের কথাবার্তা বলেছিলাম তার টুকরো টুকরো স্মৃতিও মনে
পড়ে যাচ্ছিল।
একটা
কথা এখানে বলা দরকার যে পরিণত বয়সে এসে আমরা বুঝতে পারি যে নারী পুরুষ একে অন্যের
প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, পরিপূরক। আবার একই
সঙ্গে এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে সেই বয়সে এই প্রতিযোগিতার আবহাওয়ারও কিছুটা প্রয়োজনীয়তা ছিল। কারণ, সেটা তো নিজস্ব বোধ আর চৈতন্য
জাগ্রত হওয়ার সময়। এই সময়ে নিজের মতো করে জগত সংসারকে বুঝতে না পারলে পরবর্তী
কালে মানুষ সফল হবে কীভাবে!
আজকের
দিনে আমাদের সমাজে দেখা যায় যে এমন কোনও কাজ নেই যা পুরুষ করতে পারে অথচ নারী
পারবে না। সে তালিকা ক্রিকেট থেকে শুরু করে সেনা বাহিনীর অফিসার অবধি বিস্তৃত, তাতে সন্দেহ নেই। তবে একটা লক্ষণীয়
তফাত এই যে নারী বাইরে যত কাজই করুক না কেন তার মন পড়ে থাকে ঘরে, নিজের সংসারে। সেখানে সে যেমন
নিজেকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার তাগিদ অনুভব করে ঠিক তেমনই চেষ্টা করে সংসারের
সবাইকেই স্নেহ, মমতা আর ভালোবাসার
বন্ধনে বেঁধে রাখতে। ছোটোবেলা থেকেই এই ব্যাপারে তুই আমার সঙ্গে একমত ছিলি, মনে আছে।
অবশ্য
তোর এমন ধারণার জন্ম হয়েছিল নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে, সে কথাও অস্বীকার করার উপায়
নেই। অল্প বয়সে বাবাকে হারানোর পর
তোদের ভাই-বোন দুজনের অভিভাবকের
দায়িত্ব একলা কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তোদের মা। তোর কাছেই শুনতাম কেমন করে একজন
নারী রোজগার করার জন্যে বাইরে যেতে বাধ্য হলেও, বাড়ি ফিরেই সংসারের কাজে হাত লাগাতেন আর তার সাথে মায়ের
মমতা দিয়ে নিজের সন্তানদের মানুষ করে তোলার কঠিন কাজে ব্যস্ত থাকতেন। আমি একে ‘ত্যাগ’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার
পক্ষপাতী নই, এসব তো অন্তরের তাগিদ
অনুভব না করলে করা যায় না রে!
যাইহোক,
একটা জরুরি কাজে আমাকে এখন বেরোতে হবে, তাই এ চিঠির এখানেই ইতি টানলাম। উত্তর চাই তাড়াতাড়ি।
ইতি—
সুজিত।
No comments:
Post a Comment