বাতায়ন/নারী না পুরুষ/গল্পাণু/৪র্থ
বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩
নারী না পুরুষ
গল্পাণু
রানা জামান
বুভুক্ষু
নারী না পুরুষ
গল্পাণু
রানা জামান
বুভুক্ষু
"সাইফুদ্দিন আহমেদ ওর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মনে মনে বললেন: ওর মুখটা দেখতে কি আমার মতো লাগতাছে? কী সর্বনাশ!"
মা-টা বেহুঁশের মতো ঘুমিয়ে থাকায় কলমিলতা সেদ্ধর কাজটা ওকেই করতে হয়েছে। ওর মা বদ্ধ পাগল। এখানে-সেখানে শুয়ে ঘুমিয়ে থাকত রাত-বিরেতে। এই সুযোগ নিয়েছে অনেক কামুক পুরুষ। হয়ে যায় পোয়াতি। গ্রামের পোড়োবাড়িতে জন্ম নিলো শিশুটা। শিশুকে রোদবৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য পাগলি নিজেই এদিক-ওদিক থেকে ডাল-বাঁশ কুড়িয়ে তৈরি করেছে ছাপড়াটা। ওর কোনো নাম নেই- কে দেবে নাম? পাগলি নাম দেবার অবস্থায় থাকে না কখনো।
কাজের মেয়েটা বারান্দায় একটা ভাঙা থালায় ডাল-ভাত দিয়ে গেল। কুকুরটা খেয়ে যাচ্ছে ডাল-ভাত। আট বছরের ও নিঃশব্দে এগিয়ে গেল ডাল-ভাতের দিকে। ওকে আসতে দেখে খাওয়া অব্যাহত রেখে কুকুরটা একবার 'ঘরর' করে উঠল। ও এদিক-ওদিক তাকিয়ে বারান্দার নীচে পড়ে থাকা আধাপোড়া লকড়িটা তুলে ফের এগিয়ে গেল কুকুরের দিকে। লকড়ি দেখেও কুকুরটা না যাওয়ায় ও কুকুরের কোমরে আঘাত করল। কুকুরটা 'কুইকুই' শব্দ করে বারান্দা থেকে নীচে নেমে 'ঘেউঘেউ' করতে থাকল। ও লকড়িটা পাশে রেখে দুই হাতে খেতে শুরু করল ডাল-ভাত।
কুকুরের অবিরাম ডাক শুনে কাজের মেয়েটা বের হয়ে ওকে কুকুরের খাবার খেতে দেখে খেঁকিয়ে উঠল, এই বেজন্মা, তুই কুত্তার খাবার খাইতাছস ক্যান? যা এখান থাইকা!
ও কাজের মেয়ের খেঁকানোয় ভীত না হয়ে কাজের মেয়েটাকে একবার দেখে খেতে থাকল আগের মতোই।
কুকুরের ঘেউঘেউ ডাক এবং কাজের মেয়ের ধমকানো শুনে সাইফুদ্দিন আহমেদ ঘর থেকে বের হয়ে ওকে খেতে দেখে কাজের মেয়েকে বললেন,
-আইচ্ছা।
বলে কাজের মেয়ে চলে গেল ভেতরে। ওদিকে বাড়ির মালিককে দেখে কুকুরটা 'ঘেউঘেউ' ডাকা বাদ দিয়ে লেজ নেড়ে 'কুইকুই' করতে লাগল।
সাইফুদ্দিন আহমেদ ওর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মনে মনে বললেন: ওর মুখটা দেখতে কি আমার মতো লাগতাছে? কী সর্বনাশ!
~~000~~

No comments:
Post a Comment