বাতায়ন/নারী না পুরুষ/নাটক/৪র্থ
বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩
নারী না পুরুষ
নাটক
বীথিকা ঘোষ
দণ্ডদাতা
নারী না পুরুষ
নাটক
বীথিকা ঘোষ
দণ্ডদাতা
"মহারাজ আমি ছোটো থেকেই নৃত্য খুব ভালোবাসি। আমার ছোট মেয়ে একদিন এক সুন্দরী মহিলাকে নিয়ে আসে এবং সবাইকে বলে আমাদের স্কুলের নৃত্য ও সংগীত দিদিমণি। তিনি নাকি আমাদের বাড়িতে আসতে চেয়েছেন।"
সিংহাসনের পেছনের দুদিকে দুজন দেহরক্ষী দণ্ডায়মান, তাদের কোমরে ঝুলছে সুবিশাল তলোয়ার, গাম্ভীর্যের প্রকাশ দেখলে বুক আপনা-আপনি কেঁপে ওঠে। এর থেকে এগিয়ে দু'ধারে সার দেওয়া রাজকীয় চেয়ার পাতা, প্রথম দুদিকের চেয়ারে আসীন দেশের দুজন সেনাপতি, তাদের অবয়ব দেখলেই বোঝা যায় তারা কতটা শক্তিধর। তারপরের চেয়ারগুলোতে বিভিন্ন বয়সের ব্যক্তিরা এসে আসন গ্রহণ করলেন।]
মহারাজ:-- মাননীয় উত্তররাজ, একটি কথা আমায় ভাবাচ্ছে, একদিনের পরিচয়ে আপনি এত সম্পত্তি দান করে ফেললেন!
উত্তররাজ:-- না না মহারাজ অপরিচিত নয়, তিনি আমার পুত্রকে পড়াতেন প্রায় ছ'মাস।
দক্ষিণরাজ:-- আমার অভিযোগ বাঙ্ময়ী নারীর অভিনয়-এর বিরুদ্ধে। সে অবগুণ্ঠিতা হয়েও এমন নরম-বিনয়ী কন্ঠস্বরে আমায় প্রেম নিবেদন করেন। আমি তার গলার মিষ্টি সুরে আকৃষ্ট হয়ে তাকে অনেক ধন-সম্পদ দান করে বসি৷ সে সম্পদ পেয়ে খুশি হয়ে নৃত্য করতে করতে আমায় মিষ্টি পানীয় খেতে দেয়। ও-ই পানীয় খেয়ে আমি গভীর ভাবে ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুম ভাঙলে সেই নারীকে আর দেখতে পাইনি। সে যদি আমার কাছে নাই থাকবে তাহলে আমার সব ধন-সম্পদ ফেরত দিক।
মহারাজ:-- কী মুশকিল আপনারা এক একজন বড়ো বড়ো মহারথী। বিশাল বড়ো ভূখণ্ড সামলাছেন অথচ সামান্য নারীর কাছে আপনারা পরাস্ত হয়ে যাচ্ছেন! ভাবা যায় না, দেখা যাক কী করা যায়—
(তিনিও অভিবাদন জানিয়ে জ্ঞাপন করলেন)
পূর্বখণ্ডরাজ:-- মহারাজ আমি ছোটো থেকেই নৃত্য খুব ভালোবাসি। আমার ছোট মেয়ে একদিন এক সুন্দরী মহিলাকে নিয়ে আসে এবং সবাইকে বলে আমাদের স্কুলের নৃত্য ও সংগীত দিদিমণি। তিনি নাকি আমাদের বাড়িতে আসতে চেয়েছেন। আপনি জ্ঞাত আছেন, আমার স্ত্রী মারা গেছেন অনেক দিন হলো, আমার বড়ো কন্যাই সংসার পরিচালনা করে। সে বোনকে অনুমতি দেয় দিদিমণিকে নিয়ে আসতে। তারপর থেকে প্রতিদিন আমাদের বাড়িতে আসে এবং খুকিকে নৃত্য শেখায়। আমিও একদিন তার নৃত্য দেখে অভিভূত হই, তাকে বলি সন্ধ্যাবেলা এই সাতটা-সাড়ে সাতটার মধ্যে এসে নাচ দেখাতে পারবে? সে কেমন যেন বিস্ময়ে হাত নেড়ে কী যেন বলতে চাইল, আমি ভাবলাম গরিব মানুষ হয়তো টাকার কথা বলতে পারছে না। না-না আমি পারিশ্রমিক দেব, মনে মনে ভাবলাম স্ত্রীর গয়নাগুলো তো পড়েই আছে দু-একটি দিলে আর কী হবে? কিন্তু একটা একটা করে দিতে দিতে প্রায় বেশির ভাগই দিয়ে ফেলি, সেই সময় আমার বড়ো মেয়ে বলে বাবা মার গয়না আর দিতে পারবে না, আমাদের জন্য তো কিছু রাখবে, না কি সবই দিয়ে দেবে? আমাদের কথা চলাকালীন সেই সময় আর কেউ ছিল না অথচ দিদিমণি আর আসছে না। সে জানতে পারল কী করে, আমি আর গয়না দেব না! সে যদি আর নৃত্য নাই দেখাবে তাহলে সব গয়না ফেরত দিক।
মহারাজ:-- কী বলব আপনাকে বুঝতে পারছি না, তবে আপনি বড্ড কাঁচা কাজ করে ফেলেছেন। তাকে পাব কোথায়? মেয়ের স্কুলে আসে?
পূর্বখণ্ডরাজ:-- না মহারাজ সে চাকরি ছেড়ে চলে গেছে।
মহারাজ:-- হুম, (চিন্তিত মুখে) কিছুক্ষণের জন্য সভা স্থগিত থাক... একটু ভেবে দেখা প্রয়োজন কী করা যায়।
প্রাসাদ দেখাশোনা করার জন্য পুরুষ ও মহিলা মিলে দশ জনের মতো আছেন, তাদের কাজ ভাগ করা আছে। বাবা বেশ কিছুদিন হলো মাঝে মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন, তখন মন্ত্রীদের পরামর্শে আমাকে সিংহাসনে বসিয়ে তিনি অবসর নিলেন। বাতাসে খবর ছড়ায়, একদিন ওই মহীয়সী মহিলা এসে আমার সঙ্গে দেখা করতে চান।]
মহারাজ :-- নিয়ে এস তাকে।
মহিলা:-- তুমি ভালো আছো তো বাবা? তোমার বাবা কেমন আছেন? যদিও আমি শুনেছি তিনি খুবই অসুস্থ। (তার কথার মধ্যে আন্তরিকতার স্পর্শ।) সেই থেকে তিনি আমাদের বাড়িতেই আছেন।
অমাত্য:-- প্রধান অমাত্য ঘোষণা করলেন, মহারাজের বিশ্রাম হয়ে গেছে তিনি সভাস্থলে আসছেন। সবাই প্রস্তুত হন এবং সভায় আসন গ্রহণ করুন।
মহারাজ:-- (তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন তাড়াতাড়ি এক গ্লাস জল খেয়ে, সভায় প্রবেশ করলেন।) লজ্জিত মুখে বললেন, মাফ করবেন একটু দেরি হয়ে গেল। সভা শুরু হোক আর কার কী বক্তব্য আছে পেশ করুন।
সভাস্থল:-- প্রধান অমাত্য ঘোষণা করলেন কার কী অভিযোগ আছে এই সময় বলে নিন। পশ্চিমখন্ড রাজ এসেছেন হয়তো তার কথা আছে সুতরাং একে একে চলে আসুন। নগরের প্রান্তরে কিছু গরিব চাষাভুসো বাস করে তাদের কিছু অভিযোগ এবং পাওনা আছে, সেসব নিয়ে আলোচনা হলো। ওদের সন্তুষ্ট করে মহারাজ স্বয়ং উত্তরখন্ডরাজকে বললেন
-- আপনার কী বক্তব্য আছে নিবেদন করুন।
উত্তরখন্ডরাজ:-- (তিনিও একই ভঙ্গিতে অভিবাদন জানিয়ে তিনি প্রায় একই অভিযোগ করেন, সেই মহিলা বিষয়ক প্রসঙ্গ।) আপনারা সবাই জানেন পশ্চিম সীমান্তে আমাদের বেশ বড়ো একটা মাঠ আছে। অনুমতি নিয়েই একদল পুরুষ-নারী মাঝে মাঝে বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে ওখানে মেলা বসায় বহু দিন ধরেই। এবারও বসিয়েছিল নিজেদের হাতের তৈরি বিভিন্ন সূক্ষ্ম সূচি শিল্পে বিভিন্ন সম্ভার নিয়ে আসে যেমন বিছানার চাদর পুরোটা কারুকার্য করা, দুটো পিলো কভার ফ্রি। বিভিন্ন ধরনের উলের কাজ করা সামগ্রী সাজানো আছে। কুরুসেরও বোনা বিভিন্ন চাদর, টেবিল ডাকনা, গায়ের চাদর, বিভিন্ন ধরনের আসন, কার্পেট, বড়ো বড়ো আল্পনা দেওয়া বিছানার চাদর, পর্দা, সত্যি মহারাজ সবগুলোই দেখার মতো। আমি প্রায় রোজই যেতাম, ছেলেমেয়েরা বেশ আনন্দ করে এটা-ওটা দেখাচ্ছে শুধু একজন অবগুণ্ঠিত মহিলা মাঝে মধ্যে এসে একটি চেয়ারে বসে থাকেন। একদিন তিনি ঘোমটা সরিয়ে আমাকে বললেন, কী অপূর্ব সুন্দর মাঠটা--জানি না আপনি কে? তবে দেখলে বোঝা যায়, আপনি এখানকার রহিস আদমি আছেন। আপনি যদি কিছু সাহায্য করেন; তাহলে শহরের উপকন্ঠে একটি পার্মানেন্ট দোকান তৈরি করে দিতাম। তাহলে ওরা নিজেরা নিজেদের সংসার চালিয়ে নিতে পারত! আমি ভাবলাম এতে যদি ওদের উপকার হয় তাহলে অসুবিধার কী আছে, তাই না? আমি পঞ্চাশ হাজার টাকা অনুদান করলাম। ওমা ছেলেমেয়েরা কী খুশি, তারা একে একে এসে প্রণাম করতে লাগল। আমার খুব ভালো লাগল, আমি রাজ্যের সবাইকে বলব আপনাদের কাছ থেকে জিনিসপত্র কিনতে। কিন্তু আশ্চর্য এই ঘটনার তিন দিন পরে তারা দোকান ভেঙে কোথায় চলে যায়, কাউকেই কোন ঠিকানা দিয়ে যায়নি! এটা তো বিশাল বড়ো অন্যায় করা হলো, হ্যাঁ বলেছিল লাভের অংশ থেকে আমাকে কিছু কিছু করে টাকা দিয়ে মূল টাকা শোধ করে দেবে।
মহারাজ:-- এতক্ষণ মন দিয়ে শুনছিলেন সমস্ত কথা, তিনি বললেন এতগুলা টাকা যে দিলেন তার কোন রসিদ নিয়েছেন? এরা ভ্রাম্যমাণ, এই যে গেল আর করে আসবে তার ঠিক নেই। আপনারা দেখছি মহিলা দেখলেই জ্ঞান থাকে না। আপনি নিজে ভুল করেছেন, আর এখন নালিশ জানাতে এসেছেন কার বিরুদ্ধে যার নাম ঠিকানা কিছুই জানেন না। মুখে বললেন ঠিকই কিন্তু মনে মনে ভাবছেন (আমি যার গুণে মুগ্ধ তিনিও তো সর্ব গুণে শ্রেষ্ঠ। কিন্তু কোন সময় এমন কিছু চায়নি বা কোন ইঙ্গিত করেনি। না-না শুধু শুধু ভাবছেন তাছাড়া তিনি বহু দিন হলো আছেন যে নারী এত এত মহারাজদের কুপোকাত করে ফেলতে পারে, তাকে যোগ্য শাস্তি দিতেই হয়। এমন শাস্তি দেব আর কোন দিন মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না!)
[রাজাধিরাজ সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন, সবাইকে বিদায় দিয়ে বাড়ি ফিরে এসে দুঃশ্চিন্তায় ডুবে গেলেন। খানিক বাদে G. News - এর Control Room-এ ফোন করে জানালেন সমস্ত পরিস্থিতি এবং বললেন দুদিনের মধ্যে ও-ই রহস্যময়ী নারীকে অ্যারেস্ট করে রাজসভায় পেশ করুন।)
দ্বিতীয় অঙ্ক
G. News-এর ঘোষক:--ঠিক সেই সময় G. News-এর ঘোষক খবর পরিবেশন করতে লাগলেন— রাজ্যের শেষ সীমানায় প্রায় জঙ্গল বেষ্টিত ভূ-খণ্ডের ভেতরে একটি বিশাল বাগান বাড়িতে একজন বৃদ্ধাকে দেখা যায়, তবে তিনি একা নন তার সাথে অনেক বিভিন্ন বয়সের বালক-বালিকা, বিভিন্ন ধরনের মানুষ বসবাস করেন। অনেকেই বলছেন ও-ই বৃদ্ধ মহিলাই সেই রহস্যময়ী নারী, ইনি একেক মুহূর্তে একেক রকম রূপ ধারণ করতে পারেন। কখনো শিশু, কখনো যুবতী, কখনো বা বৃদ্ধ রমণীকে লাঠি ধরে ধরে খুঁট খুঁট করে অরণ্যের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ঘুরে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। মনে হয় কী যেন খুঁজে বেড়াচ্ছেন, তিনি কে? কেউ বলতে পারেন না। আবার অপর একজন বলে রাতের অন্ধকারে ঘোড়ার খুড়ের শব্দ পাওয়া যায়। অনুমান করা যায় সেই রহস্যময়ী ঘোড়া ছুটিয়ে কোথাও যান কিন্তু কখন ফেরেন সেটা জানা যায় না। সকলের একই প্রশ্ন— "কে এই রহস্যময়ী?" আমরা সময় চাইছি আরও অনুসন্ধান করতে, তবে কেউ নিরাশ হবেন না।
(সকলে ব্যর্থ মনোরথ নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন।)
এ-ই ঘটনার চার দিন পর রাজমহল থেকে ঘোষণা করা হলো। আজ সমস্ত রহস্য উদঘাটন হবে। যারা জানতে আগ্রহী তারা সভাস্থলে আসতে পারেন সন্ধ্যা ছয় ঘটিকায়।
তৃতীয় অঙ্ক
মন্ত্রী মহোদয় হাত তুলে সভাস্থ প্রজা বর্গকে শান্ত হয়ে বসতে অনুরোধ করলেন। রানিমা কিছু বলবেন, আপনাদের সমস্ত কৌতূহল মিটিয়ে দেবেন।
রানিমা:-- হাত তুলে সভাস্থ সবাইকে আন্তরিক আশীর্বাদ স্বরূপ অভিবাদন জানিয়ে বললেন, আপনাদের অনেক কৌতূহলের জিজ্ঞাসা আজ আমি মিটিয়ে দেব। আমার বিয়ে হয়েছিল আজ থেকে প্রায় তিরিশ বছর আগে, আমার শ্বশুর কুল শ্রদ্ধার সঙ্গে বলবার মতো কোনো সম্পদই রেখে যাননি। তিন পুরুষ ধরে একটানা মদ আর মেয়ে মানুষ নিয়ে হুল্লোড় করেছেন, এই প্রাসাদের অলিন্দে অলিন্দে লেখা আছে শুধু অসংযম আর অমর্যাদার কাহিনি।
বংশের প্রথম পুরুষের এক ব্রাহ্মণের সুন্দরী স্ত্রীর প্রতি কামনার দৃষ্টি পড়ে। তিনি বেশ কিছু সম্পদ দিয়ে ব্রাহ্মণের কাছ থেকে তার স্ত্রীকে কিনে নেন। পরদিন তার মৃতদেহ দিঘির জলে ভেসে উঠতে দেখা যায়। সবাই বলেন আত্মহত্যা, এমন অনেক ঘটনা তারা ঘটিয়েছেন। আমি আমার শ্বশুর-শাশুড়িকে পাইনি, এ বাড়ির ধাই-মা আমার হাত দুটো ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, "বউমা পারলে এই বংশটাকে রক্ষা করো। কয়েক দিনের মধ্যে বুঝতে পারলাম এদের কোন লাগাম নেই, আমি সময় বুঝে তাকে বোঝাবার চেষ্টা করতে লাগলাম, ফল স্বরূপ তিনি আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলেন। তখন আমি চার মাসের অন্তঃসত্তা, ধাই-মা সেটা জানতেন তার সাথে পরামর্শ করে মন্ত্রী মহোদয়ের বাড়িতে গিয়ে সমস্ত বুঝিয়ে বললাম।
মন্ত্রী মহোদয়:-- আপনি বসুন রানিমা, আমি অনেক ঘটনাই জানি মানে আমাদের জানতে হয়, বলুন কী বলতে চান। সব শোনার পর, দুজনের পরামর্শে ঠিক হলো কী কী করতে হবে! বাকিটা তো আপনারা জানেন, আমাদের পুরুষ মহিলা চর সমস্ত রাজ্যের খবরাখবর জোগাড় করে আনতেন। যারা অন্যায় করতেন তাদের বাড়িতে কায়দা করে কাজ নিয়ে সে বাড়ির সমস্ত খবর সংগ্রহ করে আনা হতো, একটু একটু করে সমস্ত রাজ্য আমাদের মুঠোয় চলে এলো। আমার কাজের সুবিধার জন্য জঙ্গলে ওই বাড়িটি তৈরি করে দেন মন্ত্রী মহোদয়। সেই বাড়িতেই আমার পুত্র সন্তান জন্ম নেয়, মানে আপনাদের বর্তমান মহারাজ!
সেনাপতির কাছে সমস্ত শুনে উনি আমাকে নিয়ে আসতে গিয়েছিলেন, তখন আমার ফিরে আসা সম্ভব ছিল না। দেখছেন তো এখানে কত কাজ অসহায় মেয়ে-পুরুষের বাস হয়ে উঠছে, খোকা একটু বড়ো হলে ধাই-মা সমেত ওকে আপনার কাছে পাঠিয়ে দেব। একদিকে পড়াশোনা অপর দিকে অপরাধীদের ধরে আনা, আমরা তাদের সমাজের উপযুক্ত করে ছেড়ে দিতাম। তাই আপনারা অনেক গুণ্ঠিত, অবগুণ্ঠিত মহিলার প্রতিকৃতি দেখতে পেতেন, তারা কেউ লোভী প্রতারক নয়, আপনাদের ভালোর জন্যই কাজ করেছে। এখন আর কেউ মদ বিক্রি করে না, তাই কেউ খেতেও পায় না।
যারা কোষাগার ফাঁকি দিয়ে নিজেদের আখের গুছিয়েছে তাদেরও শাস্তি দেওয়া হয়েছে। যারা অন্যায় ভাবে মেয়েদের ভোগ করতে চেয়েছে, তাদেরও উপযুক্ত আক্কেল দেওয়া হয়েছে। এখন রাজ্যে কোন গণ্ডগোল নেই সুতরাং আমার ছুটি, আমাকে নিয়ে আপনারা ভাববেন না। আমার জন্য আমার পিতামহ অনেক বড়ো বাড়ি দিয়ে গেছেন। সেখানেও এমন ভাবে অভাগাদের সামাজিক ভাবে তৈরি করা হচ্ছে, ভালো মানুষ তৈরি না হলে দেশের ও দশের মঙ্গল হবে কী করে? আপনারা ভালো থাকবেন, সবাইকে নমস্কার!
আর একটি কথা পুরুষ না মহিলা কার আধিপত্য কাম্য, এই কথার বিচার করা অত সহজ নয়! আমি অনেক কাজ করেছি বটে কিন্তু ভেবে দেখবেন, মন্ত্রী মহোদয় আর এই সাহসী বীর ও বীরাঙ্গনারা যদি আমায় সাহায্য না করতেন আমার পক্ষেও এত কাজ করা সম্ভব হতো না, আমি মনে করি মহিলা ও পুরুষ একজন আর একজনের পরিপুরক! আপনাদের উত্তর পত্রিকাকে জানাবেন!
যবনিকা

No comments:
Post a Comment