প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নারী না পুরুষ | সাম্য

বাতায়ন/নারী না পুরুষ / ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ , ১৪৩৩ নারী না পুরুষ সম্পাদকীয় সাম্য "একে অন্যের পরিপূরক হয়ে ...

Saturday, August 15, 2026

রং | মানালী হোড়

বাতায়ন/নারী না পুরুষ/গল্পাণু/৪র্থ বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩
নারী না পুরুষ
গল্পাণু
মানালী হোড়
রং

"ভরসা করতে ভয় লাগে। অনেক পুরনো কথা মনে পড়ে যায়। তা চাকরি না দেওয়া হোক বা কয়েক বছর চাকরি করার পর যোগ্যদের চাকরি হারিয়ে পথে দাঁড়ানো হোক। ধর্ষকের বিচার না করে"

 
দেখতে দেখতে তিন বছর কেটে গেল। ২৫ ফাল্গুন, আজ আমার বাবা আমাকে ছেড়ে চলে গেছিল। শত চেষ্টা করেও চিকিৎসার অভাবে বাঁচতে পারিনি তাকে। আর্থিকভাবে কোনদিনই সচ্ছল ছিল না আমার পরিবার। বর্তমানে বাবাকে হারিয়ে মা এবং ছোট ভাইকে নিয়ে আমরা বসিরহাটের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকি।
পশ্চিমবঙ্গের এই নির্মম দুর্দশার দিনে সরকারি চাকরি পাওয়া আমাদের মতো সামান্য ঘরের মেয়েদের আকাশের চাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যাকে দূর থেকে দেখতে সুন্দর হলেও ছুঁতে পারা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়াও ইদানিং যাবত মায়ের শরীরটা একদম ভেঙে যাওয়ায় মা বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াতে পারছে না। অতএব মায়ের ওষুধ খরচা-সহ ভাইয়ের পড়াশোনা এবং আমাদের তিনজনের পেট চালানোর দায়িত্বের ভার এসে পড়েছে আমার মাথায়।
ছোটোবেলা থেকে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। মানুষের সেবা করার জন্য আমার মন কাতরাত। ফলে বাবার তিলে তিলে জমানো কিছু টাকা দিয়ে আমাকে ডাক্তারি পড়িয়েছিল মা। কিন্তু ৯ আগস্ট ২০২৪ সালে আরজিকর-এ যে ঘটনাটা ঘটল তারপর আমার মা আমাকে নিয়ে খুব চিন্তায় থাকে। কিন্তু ভয় পেয়ে তো আর ঘরে বসে থাকলে পেট চলবে না। এছাড়াও বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে সরকারি ভাবে কিছু করতে পারাটা আমার মতো ঘরের মেয়েদের এক না ছুঁতে পারা স্বপ্নের তালিকায় নথিভুক্ত হয়েছে। তাই আমাদের বাড়িতে ছোটো একটা ঘরে একটা ডাক্তারির চেম্বার খুলে বসেছি।
এক সপ্তাহ হল বিধানসভার ভোটের রেজাল্ট বেরিয়েছে। এবারে ভোটের ফলাফলে সকল মানুষ আনন্দিত। কারণ সরকার বদলেছে। বহু প্রতিশ্রুতি, বহু আন্দোলন, বহু বিক্ষোভের মাধ্যমে আজ নতুন সরকার এসেছে। তাদের নতুন নিয়ম, কত রকমের নতুন পথ তারা বের করছে উন্নয়নের জন্য। তবে কেন জানিনা ভারতবর্ষের সাথে উন্নয়ন শব্দটা বর্তমান যুগে আর মিল খায় না।
ভরসা করতে ভয় লাগে। অনেক পুরনো কথা মনে পড়ে যায়। তা চাকরি না দেওয়া হোক বা কয়েক বছর চাকরি করার পর যোগ্যদের চাকরি হারিয়ে পথে দাঁড়ানো হোক। ধর্ষকের বিচার না করে আমাদের দেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ধর্ষিতার চরিত্রকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন। টাকার প্রলোভন হোক বা অনৈতিক মন্তব্য সকল ভাবে হেনস্থা হতে হয়েছে ধর্ষিতার পরিবারকে। তাকে নিজের কর্মস্থলে শিকার হতে হয়েছিল কয়েকটা লোভী মানুষ রূপী নেকড়ের। কিন্তু আজও সে বিচার পায়নি। বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অনেকে। তাই প্রতিশ্রুতি রাখলে দেখা যাবে গোটা ভারতবর্ষের নারীদের স্বাধীনতার আলো, আর না রাখলে হয়তো আবার রং বদলে যাবে।
 

~~000~~

No comments:

Post a Comment

নাবিকের খোঁজে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)