প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নারী না পুরুষ | সাম্য

বাতায়ন/নারী না পুরুষ / ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ , ১৪৩৩ নারী না পুরুষ সম্পাদকীয় সাম্য "একে অন্যের পরিপূরক হয়ে ...

Saturday, August 15, 2026

চাবিওয়ালা [১ম পর্ব] | রানা জামান

বাতায়ন/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১১ম সংখ্যা/৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩
ধারাবাহিক গল্প
রানা জামান
চাবিওয়ালা
[২য় পর্ব]

"অ্যাণ্টিকরাপশনের ডরে ডিআইজি সাব ব্যাংকে বেতনের টাকা ছাড়া অন্য টাকা রাখত না। ঘুষের সব টাকা এই ঘরের চার দেয়ালে লুকায়া রাখছে। মানুষের রক্ত চুইষা টাকা কামাই করছে এই ঘুষখোর পুলিশ অফিসার।"

 
পূর্বানুবৃত্তি
 
জহিরের প্রতিক্রিয়ায় রুবেল প্রথমে ভ্যাবাচ্যাকা খেলেও সামলে নিয়ে এক চিলতে নিস্প্রাণ হেসে বলল,
-আমাকে চিনতে পারলেন না? আমি রুবেল, গতকাইল রাইতে একটা চাবি বানানো নিয়া কথা বলছিলাম।
সিগারেটে একটা টান দিয়ে জহির বলল,
-ও!
রুবেল জহিরের হাত থেকে সিগারেটটা নিয়ে এক টান দিয়ে বলল,
-চলেন জহির ভাই।
সিএনজিতে ওঠে ওরা এলো নিকুঞ্জে। এখানে অধিকাংশ বাড়ি দোতলা; কিছু বাড়ি তেতলা ও চৌতলা; একক প্রাচীর ঘেরা।
তখন একটা বিমান উড্ডয়ন হলে বিস্ময়ে বিমানটা দেখতে দেখতে জহির বলল,
-কত্ত বড়ো বিমান! এত কাছ থাইকা দেখা যায়!
রুবেল বলল,
-চলো জহির ভাই। একটু পরে পরে তুমি প্লেন দেখতে পারবা।
কয়েকটা গলি পেরিয়ে একটি বাড়ির গেটের সামনে এসে দাঁড়াল রুবেল। বাড়িটা দোতলা বাংলোবাড়ির মতো; দোচালা স্টাইলে ছাদটা টালির; দোচালা টালির ছাদ করা হয় শীতপ্রধান দেশে, যাতে ছাদে তুষার না জমে। নামফলকে মালিকের নাম লেখা আছে: সাফিনা লজ; মালিকের নাম-রুবাইয়াৎ আলম; অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি অব পুলিশ।
বানান করে নামটা পড়ে জহির বলল,
-বাড়িটা তো রুবাইয়াত আলম নামের একজন পুলিশের ডিআইজির। স্যার বাসায় আছে না?
-ভিত্রে গেলে সব বুঝতে পারবা জহির ভাই! আসো।
ভেতরে ঢুকে রবেল জহিরকে নিয়ে গেল সরাসরি দোতলায়। মাস্টার বেডরুমে ঢুকলে অবাক হয়ে চারিদিকে তাকিয়ে দেখতে থাকল। এত্ত সুন্দর করে  সাজানো ঘর এর জীবনে কখনো দেখে নাই! বাঘের মাথা, হরিণের শিংওয়ালা মাথা, ছোটো কার্পেট! আরো কতকিছু! কক্ষের মাঝখানে একটা ডাবল খাট; পরিপাটি নরম তুলতুলে বিছানা। খাটের পায়ের দিকে একটি রকিং চেয়ার এবং মাথার দুপাশে দুটো টানা টানা ড্রেসিং টেবিল। আর কোনো আসবাবপত্র নেই কক্ষটায়; খাটের পায়ের দিকের দেয়ালে একটা ঢাউস পোট্রেট-অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজির।
-জহির ভাই!
রুবেলের ডাকে জহির চমকে পেছনে তাকালে রুবেল জিজ্ঞেস করল,
-কী দেখছ দুই চোখ বড়ো করে?
জহির বলল,
-এই ঘরে আনছেন ক্যান আমারে? এখানে তো তালা নাই!
রুবেল পোট্রেটটা নামিয়ে দেয়ালে সাঁটানো একটা সিন্দুক দেখিয়ে বলল,
-এই সিন্দুকের চাবি বানায়া দিতে হবে।
জহির কাছে গিয়ে সিন্দুকটা দেখে বলল,
-এই সিন্দুকের তো কম্বিনেশন লক আছে। চাবি বানায়া কী হইবো। আমি কম্বিনেশন লক খুলতে পারি না।
-আমি এই কম্বিনেশন লকের পাসওয়ার্ড জানি!
-কীভাবে জানলেন?
-কায়দা করে জেনে নিছি।
জহির দুই কদম সরে বলল,
-আপনার মতলব টের পাইছি! আমি চুরি করার জন্য চাবি বানাই না! আমারে ক্ষমা করবেন!
রুবেল দেয়ালটায় টোকা দিয়ে বলল,
-অ্যাণ্টিকরাপশনের ডরে ডিআইজি সাব ব্যাংকে বেতনের টাকা ছাড়া অন্য টাকা রাখত না। ঘুষের সব টাকা এই ঘরের চার দেয়ালে লুকায়া রাখছে। মানুষের রক্ত চুইষা টাকা কামাই করছে এই ঘুষখোর পুলিশ অফিসার। এএসপি থাইকা আমি এর সাথে আছি। আমি হের আগামাথা সব জানি!
-এত বছর উনার সাথে থাইকা উনার নুন খাইয়া অহন নেমহারামি করতাছেন ক্যান?
-অর্ধেক জীবন কাটায়া ফালাইছি এই লোকটার সাথে। ওই লোভী লোকটা কয়েটা মাসিক বেতন ছাড়া আর কিছু দেয় নাই। এখন সুযোগ পাইছি ওর ধনভাণ্ডার লুটের।
-এই সম্পদ লুট করে কী আফনে লুকায়া থাকতে পারবেন? দেশের পুরা পুলিশরে আফনের পিছনে লাগায়া দিবো না?
-ঘুষের টাকা লুট হয়ে গেলে কাউরে কিছু কইবো না!
-আমার দ্বারা এই কাম হইতো না। আমি গেলাম!
রুবেল জহিরের পথরোধ করে বলল,
-কী বলছেন আপনি? সবকিছু জেনে আপনি চলে যেতে পারেন না! আপনাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা, না না এক লাখ টাকা দেব!
জহির রুবেলের চোখে চেয়ে বলল,
-আমি গরিব মানুষ। চাবি বানায়া টাকা কামাই। কোনোদিন কামাইও হয় না। তাই বলে অসৎ পথে কোনো টাকা কামাই করি না।
রুবেল রুঢ় কণ্ঠে বলল,
-বুঝছি! সোজা আঙুলে ঘি উঠব না! আঙুল বেঁকা করার ব্যবস্থাও কইরা রাখছি।
তখন জহিরের বড় মেয়ে আছিয়াকে কোলে নিয়ে রুবেলের বয়সি এক যুবক কক্ষে ঢুকলে জহির হয়ে গেল অবাকসে ওদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-আমার মা, তুমি এইখানে আইলা ক্যামনে? এই, তুমি কেডা? আমার মাইয়াডারে এইখানে আনছ ক্যান? মা, তুমি এই লোকটার সাথে আইলা ক্যান?
আছিয়া বলল,
-এই চাচ্চু আমারে ললিপপ দিলো যে। এত্তগুলা!
রুবেল ওদের কাছে এসে বলল,
-নাসিম আমার লোক। তোমার মেয়েকে কিডন্যাপ করছি! এই তালার চাবি বানায়া না দিলে তোমার মেয়েকে বিক্রি কইরা দিবো! ঝামেলা না করে চাবিটা বানায়া দেও; পাঁচ লাখ টাকা দিবো।
তখন জহির আছিয়াকে কোলে নিয়ে দুই কদম পিছিয়ে বলল,
-আমি এই অসৎ কাম করুম না। পারলে আমার কোল থাইকা আমার মাইয়ারে লয়া যাও!
রুবেল দরজার দিকে তাকিয়ে কণ্ঠ উঁচিয়ে বলল,
-ভাবি, এবার ভিত্রে আসুন!
ছোটো ছেলে জুয়েলকে কোলে নিয়ে আবেদাকে ঢুকতে দেখে ছানাবড়া হয়ে গেল জহিরের চোখ।
খুশিতে আছিয়া ' মা আইছে!' চিৎকার দিয়ে বাবার কোল থেকে নেমে ছুটে গেল মায়ের দিকে।
জহির মনে করল শয়তান রুবেল আছিয়াকেও কিডন্যাপ করেছে। সে ভয় পেল এবার। ভয়ার্ত কণ্ঠে তোতলিয়ে বলল,
-তু-তুমি আ-আইলা ক্যান? তো-তোমাকেও কি কি-কিডন্যাপ করছে?
আবেদা উচ্ছল কণ্ঠে বলল,
-আমাকে কিডন্যাপ করবো ক্যান? আমি সব জাইন্যাই আইছি!
জহির আরো বিস্মিত হয়ে বললে,
-মানে?
এবার রুবেল হাসিমুখে বলল,
-আমি ভাবিকে সব বলছি।
সাথে সাথে আবেদা বলল,
-হ। সারা জীবন চাবি বানায়া তুমি পাঁচ লাখ টাকা কামাই করতে পারবা না। চাবিটা বানায়া দাও।
 

~~000~~

No comments:

Post a Comment

নাবিকের খোঁজে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)