বাতায়ন/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১১ম সংখ্যা/৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩
ধারাবাহিক গল্প
রানা জামান
চাবিওয়ালা
[২য় পর্ব]
ধারাবাহিক গল্প
রানা জামান
চাবিওয়ালা
[২য় পর্ব]
"অ্যাণ্টিকরাপশনের ডরে ডিআইজি সাব ব্যাংকে বেতনের টাকা ছাড়া অন্য টাকা রাখত না। ঘুষের সব টাকা এই ঘরের চার দেয়ালে লুকায়া রাখছে। মানুষের রক্ত চুইষা টাকা কামাই করছে এই ঘুষখোর পুলিশ অফিসার।"
সিগারেটে একটা টান দিয়ে জহির বলল,
রুবেল জহিরের হাত থেকে সিগারেটটা নিয়ে এক টান দিয়ে বলল,
সিএনজিতে ওঠে ওরা এলো নিকুঞ্জে। এখানে অধিকাংশ বাড়ি দোতলা; কিছু বাড়ি তেতলা ও চৌতলা; একক প্রাচীর ঘেরা।
তখন একটা বিমান উড্ডয়ন হলে বিস্ময়ে বিমানটা দেখতে দেখতে জহির বলল,
রুবেল বলল,
কয়েকটা গলি পেরিয়ে একটি বাড়ির গেটের সামনে এসে দাঁড়াল রুবেল। বাড়িটা দোতলা বাংলোবাড়ির মতো; দোচালা স্টাইলে ছাদটা টালির; দোচালা টালির ছাদ করা হয় শীতপ্রধান দেশে, যাতে ছাদে তুষার না জমে। নামফলকে মালিকের নাম লেখা আছে: সাফিনা লজ; মালিকের নাম-রুবাইয়াৎ আলম; অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি অব পুলিশ।
বানান করে নামটা পড়ে জহির বলল,
ভেতরে ঢুকে রবেল জহিরকে নিয়ে গেল সরাসরি দোতলায়। মাস্টার বেডরুমে ঢুকলে অবাক হয়ে চারিদিকে তাকিয়ে দেখতে থাকল। এত্ত সুন্দর করে সাজানো ঘর এর জীবনে কখনো দেখে নাই! বাঘের মাথা, হরিণের শিংওয়ালা মাথা, ছোটো কার্পেট! আরো কতকিছু! কক্ষের মাঝখানে একটা ডাবল খাট; পরিপাটি নরম তুলতুলে বিছানা। খাটের পায়ের দিকে একটি রকিং চেয়ার এবং মাথার দুপাশে দুটো টানা টানা ড্রেসিং টেবিল। আর কোনো আসবাবপত্র নেই কক্ষটায়; খাটের পায়ের দিকের দেয়ালে একটা ঢাউস পোট্রেট-অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজির।
-জহির ভাই!
রুবেলের ডাকে জহির চমকে পেছনে তাকালে রুবেল জিজ্ঞেস করল,
রুবেল পোট্রেটটা নামিয়ে দেয়ালে সাঁটানো একটা সিন্দুক দেখিয়ে বলল,
জহির কাছে গিয়ে সিন্দুকটা দেখে বলল,
-আমি এই কম্বিনেশন লকের পাসওয়ার্ড জানি!
-কীভাবে জানলেন?
জহির দুই কদম সরে বলল,
রুবেল দেয়ালটায় টোকা দিয়ে বলল,
-এত বছর উনার সাথে থাইকা উনার নুন খাইয়া অহন নেমহারামি করতাছেন ক্যান?
-এই সম্পদ লুট করে কী আফনে লুকায়া থাকতে পারবেন? দেশের পুরা পুলিশরে আফনের পিছনে লাগায়া দিবো না?
-আমার দ্বারা এই কাম হইতো না। আমি গেলাম!
রুবেল জহিরের পথরোধ করে বলল,
জহির রুবেলের চোখে চেয়ে বলল,
রুবেল রুঢ় কণ্ঠে বলল,
তখন জহিরের বড় মেয়ে আছিয়াকে কোলে নিয়ে রুবেলের বয়সি এক যুবক কক্ষে ঢুকলে জহির হয়ে গেল অবাক। সে ওদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,
রুবেল ওদের কাছে এসে বলল,
তখন জহির আছিয়াকে কোলে নিয়ে দুই কদম পিছিয়ে বলল,
রুবেল দরজার দিকে তাকিয়ে কণ্ঠ উঁচিয়ে বলল,
ছোটো ছেলে জুয়েলকে কোলে নিয়ে আবেদাকে ঢুকতে দেখে ছানাবড়া হয়ে গেল জহিরের চোখ।
খুশিতে আছিয়া ' মা আইছে!' চিৎকার দিয়ে বাবার কোল থেকে নেমে ছুটে গেল মায়ের দিকে।
জহির মনে করল শয়তান রুবেল আছিয়াকেও কিডন্যাপ করেছে। সে ভয় পেল এবার। ভয়ার্ত কণ্ঠে তোতলিয়ে বলল,
জহির আরো বিস্মিত হয়ে বললে,
সাথে সাথে আবেদা বলল,
~~000~~

No comments:
Post a Comment