বাতায়ন/শারদীয়া/ছোটগল্প/৪র্থ বর্ষ/১৫তম সংখ্যা/৩১শে ভাদ্র, ১৪৩৩
শারদীয়া
ছোটগল্প
ভাস্কর সিনহা
সোনার সিংহাসনের রহস্য
বুদ্ধু আর চিন্ময় রাতে প্রাসাদে গেল। পূর্ণিমার রাত, চাঁদের আলোয় প্রাসাদ যেন মায়াবী। উত্তর দেওয়ালে তারা খুঁজতে লাগল পাথর। চিন্ময় বলল, "এই পাথরটার ছায়া বাম দিকে পড়ে!" তারা সেটা সরাতেই দেখা গেল এক ছোট গর্ত, তার ভেতর একটি তামার কুঞ্চি।
পশ্চিমবঙ্গের
এক গ্রাম, বল্লভপুর। গ্রামের
মোড়ে এক জীর্ণ প্রাসাদ, যার গায়ে লতাপাতা, ভেতরে শুধু ধুলো আর বাদুড়।
কিন্তু গ্রামের বুড়োরা বলেন,
এই প্রাসাদের
নিচে লুকিয়ে আছে এক সোনার সিংহাসন, যা এক রাজা লুকিয়ে রেখেছিলেন ব্রিটিশদের হাত থেকে বাঁচাতে। কেউ কখনো তা খুঁজে
পায়নি।
গ্রামের
যুবক বুদ্ধদেব, সবাই তাকে বুদ্ধু বলে
ডাকে, বুদ্ধু ও তার বন্ধু চিন্ময় ঠিক করল এই রহস্যের সমাধান
করবে। বুদ্ধুর বাবা ছিলেন পুরাতত্ত্ববিদ, মারা যাওয়ার আগে তিনি একটি ডায়েরি রেখে গিয়েছিলেন। ডায়েরিতে লেখা, "সোনার সিংহাসনের চাবি লুকানো
আছে প্রাসাদের উত্তর দিকের দেওয়ালে, যে পাথরে চাঁদের আলো পড়লে ছায়া হয় বাম দিকে।"
বুদ্ধু
আর চিন্ময় রাতে প্রাসাদে গেল। পূর্ণিমার রাত, চাঁদের আলোয় প্রাসাদ যেন মায়াবী। উত্তর দেওয়ালে তারা খুঁজতে
লাগল পাথর। চিন্ময় বলল,
"এই
পাথরটার ছায়া বাম দিকে পড়ে!" তারা সেটা সরাতেই দেখা গেল এক ছোট গর্ত, তার ভেতর একটি তামার কুঞ্চি।
কুঞ্চি
দিয়ে তারা প্রাসাদের মাঝের ঘরের মেঝেতে থাকা একটি পুরনো দরজা খুলল। নামল এক সিঁড়ি
বেয়ে নিচে। অন্ধকার, কেরোসিনের বাতি
জ্বালিয়ে দেখল, এক বিশাল কক্ষ, তার মাঝে একটি সোনার সিংহাসন!
সত্যি সোনার তৈরি, তাতে নানা রত্ন খচিত।
বুদ্ধু চিৎকার করে বলল,
"পেয়ে
গেছি!"
কিন্তু
সিংহাসনের সামনে একটি পাথরের ফলকে লেখা ছিল, "যে এই সিংহাসন স্পর্শ করবে, তার জীবনে ঘটবে বিপর্যয়।"
চিন্ময় বলল, "এটা কি অভিশাপ?" বুদ্ধু ভাবল, "নাকি রাজার ফাঁদ?"
বুদ্ধু
বাবার ডায়েরির শেষ পাতায় লেখা দেখল, "সোনার সিংহাসন আসলে একটি প্রতীক। যে এই সিংহাসন পায়, সে রাজা নয়, বরং তার কর্তব্য হয় এই
সিংহাসন গোপন রাখা।" বুদ্ধু বুঝল, সিংহাসনের আসল মূল্য তার সোনা নয়, তার গল্প।
তারা
সিংহাসন না সরিয়ে, সেটার ছবি তুলে
লুকিয়ে ফেলল। গ্রামে ফিরে সবাইকে জানাল, পেয়েছি সোনার সিংহাসন,
কিন্তু
সেটা অভিশপ্ত, তাই আমরা সরাইনি।
গ্রামের মানুষ প্রথমে হতাশ হলেও,
পরে
গর্বিত হল, কারণ তাদের গ্রামের
ইতিহাস লুকিয়ে আছে সেই সিংহাসনে।
বুদ্ধু
আজ গ্রামের স্কুলে সিংহাসনের গল্প শোনায়। ছাত্ররা জিজ্ঞেস করে, "স্যার, সোনার সিংহাসন সত্যি?" বুদ্ধু হাসে, "সত্যি, কিন্তু তার চেয়ে সত্যি হলো, ইতিহাস কখনো লুকানো যায়
না।"
গ্রামের
মানুষ এখন প্রাসাদটিকে ‘ঐতিহ্য‘ বলে গর্ব করে। আর বুদ্ধুর ডায়েরি হয়ে গেছে গ্রামের
মূল্যবান সম্পদ, কারণ তাতে আছে সেই
সোনার সিংহাসনের গল্প, যা কখনো চুরি হয়নি, কারণ তা ছিল এক রাজার শেষ
উপহার, ইতিহাসের কাছে
আত্মসমর্পণের শিক্ষা।
~~000~~
No comments:
Post a Comment