বাতায়ন/দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা/অনুবাদ কবিতা/৪র্থ বর্ষ/২০তম সংখ্যা/১০ই
কার্ত্তিক,
১৪৩৩
দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা | অনুবাদ কবিতা
ভাষান্তর: ইলিয়াস মাহমুদ
মূল কবিতা— মার্গারেট অ্যাটউড
পোড়া বাড়ির সকাল
সেই
পোড়া বাড়িতে বসে আমি সকালে নাস্তা করছি
তুমি বুঝতে পারছ: সেখানে কোন বাড়ি নেই, কোন নাস্তাও নেই
তবুও আমি এখানে আছি
গলে যাওয়া চামচটি ঘষাঘষি করছে
সেই বাটিটির সাথে, যেটিও গলে গিয়েছিল
আর আশেপাশে নেই কেউ
তারা কোথায় গেছে, ভাই ও বোন
মা ও বাবা? হয়তো সমুদ্রের তীর ধরে
তাদের পোশাকগুলো এখনও হ্যাঙারে ঝোলানো
তাদের থালা বাসন সিঙ্কের পাশে স্তূপীকৃত
যা কাঠের চুলার পাশে রাখা
আর ঝুলকালি মাখা কেটলি
প্রতিটি খুঁটিনাটি স্পষ্ট,
টিনের
কাপ আর ঢেউ খেলানো আয়নাও
দিনটি উজ্জ্বল কিন্তু গানহীন, হ্রদনীল আর অরণ্য সর্তক
পূর্বদিকে মেঘের একটি দল
নীরবে উঠে এসেছে কালো রুটির মতো।
আমি টেবিল ক্লথের মোচড়ানো ভাঁজগুলো দেখতে পাচ্ছি
কাচের ক্রটি দেখতে পাচ্ছি
সেই ঝলক যেখানে রোদের আলো তাদের স্পর্শ করে
আমি আমার নিজের হাত-পা দেখতে পাচ্ছি না
কিংবা জানি না এটা ফাঁদ নাকি আশীর্বাদ
নিজেকে আবার এখানে ফিরে পেয়ে, যেখানে এই বাড়ির
সব কিছু অনেক আগে শেষ হয়েছে
কেটলি আর আয়না, চামচ আর বাটি,
আমার
নিজের শরীর-সহ
যে শরীরটা তখন আমার ছিল
যে শরীরটা এখন আমার আছে
যেমনটা আমি বসে আছি এই সকালের টেবিলে, একা এবং সুখী
দগ্ধ মেঝেতে শিশুর খালি পা
(আমি প্রায় দেখতে পাচ্ছি)
আমার জ্বলমান পোশাকে, সেই পাতলা সবুজ হাফ প্যান্ট
আর ময়লা হলুদ টি–শার্ট
যা ধরে রেখেছে আমার অঙ্গার হয়ে যাওয়া, অস্তিত্বহীন
জ্যোতির্ময় কায়া, ভাস্বর।
দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা | অনুবাদ কবিতা
ভাষান্তর: ইলিয়াস মাহমুদ
মূল কবিতা— মার্গারেট অ্যাটউড
পোড়া বাড়ির সকাল
তুমি বুঝতে পারছ: সেখানে কোন বাড়ি নেই, কোন নাস্তাও নেই
তবুও আমি এখানে আছি
গলে যাওয়া চামচটি ঘষাঘষি করছে
সেই বাটিটির সাথে, যেটিও গলে গিয়েছিল
আর আশেপাশে নেই কেউ
তারা কোথায় গেছে, ভাই ও বোন
মা ও বাবা? হয়তো সমুদ্রের তীর ধরে
তাদের পোশাকগুলো এখনও হ্যাঙারে ঝোলানো
তাদের থালা বাসন সিঙ্কের পাশে স্তূপীকৃত
যা কাঠের চুলার পাশে রাখা
আর ঝুলকালি মাখা কেটলি
প্রতিটি খুঁটিনাটি স্পষ্ট,
দিনটি উজ্জ্বল কিন্তু গানহীন, হ্রদনীল আর অরণ্য সর্তক
পূর্বদিকে মেঘের একটি দল
নীরবে উঠে এসেছে কালো রুটির মতো।
আমি টেবিল ক্লথের মোচড়ানো ভাঁজগুলো দেখতে পাচ্ছি
কাচের ক্রটি দেখতে পাচ্ছি
সেই ঝলক যেখানে রোদের আলো তাদের স্পর্শ করে
আমি আমার নিজের হাত-পা দেখতে পাচ্ছি না
কিংবা জানি না এটা ফাঁদ নাকি আশীর্বাদ
নিজেকে আবার এখানে ফিরে পেয়ে, যেখানে এই বাড়ির
সব কিছু অনেক আগে শেষ হয়েছে
কেটলি আর আয়না, চামচ আর বাটি,
যে শরীরটা তখন আমার ছিল
যে শরীরটা এখন আমার আছে
যেমনটা আমি বসে আছি এই সকালের টেবিলে, একা এবং সুখী
দগ্ধ মেঝেতে শিশুর খালি পা
(আমি প্রায় দেখতে পাচ্ছি)
আমার জ্বলমান পোশাকে, সেই পাতলা সবুজ হাফ প্যান্ট
আর ময়লা হলুদ টি–শার্ট
যা ধরে রেখেছে আমার অঙ্গার হয়ে যাওয়া, অস্তিত্বহীন
জ্যোতির্ময় কায়া, ভাস্বর।

No comments:
Post a Comment