বাতায়ন/দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা/গল্পাণু/৪র্থ বর্ষ/২০তম সংখ্যা/১০ই
কার্ত্তিক,
১৪৩৩
দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা | গল্পাণু
মনিকা চট্টোপাধ্যায়
একদিনের রাজা
কাঠুরিয়া রাজসিংহাসনে বসে প্রথমেই ঘোষণা করল, —কোনো দরিদ্র মানুষ যেন অনাহারে না থাকে। রাজ্যের ধন থেকে তাদের সাহায্য করতে হবে। কৃষকদের জন্য সেচের জলের ব্যবস্থা করতে হবে এবং অতিরিক্ত কর আদায় বন্ধ করতে হবে।
রাজা
ভানু প্রতাপের রাজ্যটি ছোট্ট হলেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু। তিনি প্রজাদের খুব
ভালবাসতেন। একদিন রাজা শিকারে বেরিয়ে বনের গভীরে চলে গেলেন আর পথ হারিয়ে ফেললেন।
তখন সন্ধ্যা হয়ে এসেছিল, জঙ্গলের মধ্যে ঘুরতে
ঘুরতে রাজা একটি ছোট্ট কুঁড়েঘর দেখতে পেলেন। সেখানে এক দরিদ্র কাঠুরিয়া বাস করত।
কাঠুরিয়া রাজাকে চিনতে পারেনি। তবু সে অতিথি মনে করে রাজাকে ঘরে আশ্রয় দিল আর
নিজের যে অল্প খাবার ছিল সেখান থেকেই রাজার সাথে ভাগ করে খেলো। কাঠুরিয়ার এই
ব্যবহারে রাজা খুবই খুশি হলেন।
পরদিন
কাঠুরিয়া তাকে পথ দেখিয়ে জঙ্গলের বাইরে পৌঁছে দিল। রাজপ্রাসাদে ফিরে রাজা সেই
কাঠুরিয়াকে পাইক পাঠিয়ে দরবারে ডেকে পাঠালেন। কাঠুরিয়া অত্যন্ত ভয় পেয়ে গেল, সে কাঁপতে কাঁপতে রাজদরবারে
উপস্থিত হল।
রাজা
বললেন,
—তুমি আমাকে না চিনেও নিজের
সামান্য খাবার ভাগ করে নিয়েছিলে। তোমার মতো দয়ালু মানুষের জন্য আমি কী করতে পারি?
কাঠুরিয়া
বলল,
—মহারাজ, আমার নিজের জন্য কিছু চাই না।
শুধু আমার গ্রামের মানুষ যেন সুখে থাকে, সেই ব্যবস্থা করুন।
রাজার
চোখ আনন্দে ভরে উঠল। তিনি কাঠুরিয়ার বুদ্ধি ও নিঃস্বার্থ মন দেখে মুগ্ধ হলেন।
তিনি ঘোষণা করলেন,
—আজ থেকে তুমি একদিনের জন্য এই
রাজ্যের রাজা হবে। তুমি যা ন্যায়সঙ্গত মনে করবে, তা-ই আদেশ করবে।
কাঠুরিয়া
রাজসিংহাসনে বসে প্রথমেই ঘোষণা করল,
—কোনো দরিদ্র মানুষ যেন
অনাহারে না থাকে। রাজ্যের ধন থেকে তাদের সাহায্য করতে হবে। কৃষকদের জন্য সেচের
জলের ব্যবস্থা করতে হবে এবং অতিরিক্ত কর আদায় বন্ধ করতে হবে।
রাজা
কাঠুরিয়ার সব আদেশ মেনে নিলেন। একদিনের রাজা কাঠুরিয়া প্রজাদের ভালবাসা অর্জন
করল। পরদিন কাঠুরিয়া আবার নিজের গ্রামে ফিরে গেল। কিন্তু তার সেই একদিনের শাসন
রাজ্যের মানুষের জীবন অনেকটাই বদলে দিল। কাঠুরিয়া প্রমাণ করে গেল মানুষের প্রকৃত
মহত্ত্ব তার ক্ষমতায় নয়,
তার
দয়া, সততা ও নিঃস্বার্থ
কাজে প্রকাশ পায়।
~~000~~
No comments:
Post a Comment