প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা | সম্পাদকীয় | রাজতন্ত্র

বাতায়ন/দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা/ সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/২০তম সংখ্যা/১০ই কার্ত্তিক , ১৪৩৩ দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা সম্পাদকীয়   রাজতন্ত্র ...

Saturday, October 24, 2026

কবিতা— প্রপাত | কবি— সৈয়দ হাসমত জালাল | আলোচক— তৈমুর খান

বাতায়ন/দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা/কষ্টিপাথর/৪র্থ বর্ষ/২০তম সংখ্যা/১০ই কার্ত্তিক, ১৪৩৩
দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা | কষ্টিপাথর
আলোচক— তৈমুর খান
কবিতা— প্রপাত
কবি— সৈয়দ হাসমত জালাল

এখানে রাত শুধু এক নির্জন সময় নয়, বরং উন্মোচিত বেদনার আকাশপ্রবাহ, যা ভালবাসার সহজাত বিষাদ ও অতলান্ত আকুলতাকে ধারণ করে আছে।

 
[বাতায়নে প্রকাশিত কবিতার শিরোনাম ও কবির নাম ছাড়া শুধু মাত্র কবিতাটিকে ভিত্তি করে এই আলোচনা এবং পর্যালোচকের দৃষ্টিতে কবিতার সম্ভাব্য শিরোনাম।]
 
বহুদূর-দেশ থেকে অন্ধকারে
একটি প্রপাতের শব্দ ভেসে আসে
সুচিরকালের এক প্রণয়প্রপাত
                       জেগে থাকে স্তব্ধতার ভেতর
কত আলোকবর্ষ দূরের তারাদের আলো
জোনাকির মতো জ্বলে
 
সে আলোয় আঁকি তোমার মুখচ্ছবি
ঢেউয়ে ঢেউয়ে নিঃশর্ত শব্দ ও রেখার আকিঞ্চন
ঘন ও গহন হয়ে ওঠে রাত্রির প্রতিশ্রুতি
                                                   নীল পটভূমি
ক্রমশ উন্মোচিত বেদনার আকাশপ্রবাহ
 
প্রপাতের তল থেকে উঠে আসে ভোর
তোমার মুখের মতো
শান্ত রহস্যে ফুটে থাকা আরক্ত একটি গোলাপ
তার পাপড়িতে কার হৃৎস্পন্দন জেগে থাকে
তুমি টের পাও?
 
সম্ভাব্য শিরোনাম— প্রণয়প্রপাতের ভোর (বিকল্প হিসেবে: আলো ও আরক্ত গোলাপ)
 
​কবিতাটি নৈঃশব্দ্য, দূরত্ব এবং অন্তহীন অনুভূতির এক গভীর মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এক নিবিড় আত্মজৈবনিক উচ্চারণ। দূরবর্তী অন্ধকারের বুক চিরে ভেসে আসা এক ‘প্রণয়প্রপাত’-এর ধ্বনি দিয়ে পাঠের সূচনা হয়, যা ভৌগোলিক বাস্তবতার চেয়েও কবির অন্তর্জগতের এক চিরন্তন ও অবিরাম প্রেমপ্রবাহের প্রতীক। মহাজাগতিক দূরত্ব পেরিয়ে আসা আলোকবর্ষ দূরের ক্ষীণ তারার আলো আর জোনাকির আলো যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় কবির স্মৃতিপটে। সেই সামান্য আলোর বিন্দু দিয়েই কবি গড়ে তোলেন প্রিয়জনের এক কাল্পনিক রূপরেখা—যেখানে তরঙ্গায়িত রেখা ও নিঃশর্ত শব্দের আকুলতায় রচিত হয় নীল পটভূমির গভীর এক রাত্রি।
​
এখানে রাত শুধু এক নির্জন সময় নয়, বরং উন্মোচিত বেদনার আকাশপ্রবাহ, যা ভালবাসার সহজাত বিষাদ ও অতলান্ত আকুলতাকে ধারণ করে আছে। তবে এই কবিতা কেবল বিরহ কিংবা অন্ধকারের স্তব্ধতায় থেমে থাকে না; অন্ধকারের গভীরতম প্রপাত থেকেই উন্মোচিত হয় ভোরের আলো। সেই রূপান্তরটি হঠাৎ এবং আশ্চর্য সুন্দর—প্রিয়জনের শান্ত রহস্যে ফুটে থাকা আরক্ত গোলাপের উপমায়। কবিতার শেষ পঙ্‌ক্তিটি এক অনুচ্চ, ব্যক্তিগত কিন্তু গভীর জিজ্ঞাসা ছুড়ে দেয় প্রিয়তমের অস্তিত্বের দিকে। পাপড়ির ভেতর স্পন্দিত সেই হৃৎস্পন্দন কেবল প্রণয়ের জীবন্ত উপস্থিতিকেই ঘোষণা করে না, বরং পাঠককেও এক শান্ত, সংবেদনশীল অনুভূতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।
 

~~000~~

No comments:

Post a Comment

নাবিকের খোঁজে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)