বাতায়ন/দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা/কষ্টিপাথর/৪র্থ বর্ষ/২০তম সংখ্যা/১০ই
কার্ত্তিক,
১৪৩৩
দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা | কষ্টিপাথর
আলোচক— তৈমুর খান
কবিতা— প্রপাত
কবি— সৈয়দ হাসমত জালাল
দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা | কষ্টিপাথর
আলোচক— তৈমুর খান
কবিতা— প্রপাত
কবি— সৈয়দ হাসমত জালাল
এখানে রাত শুধু এক নির্জন সময় নয়, বরং উন্মোচিত বেদনার আকাশপ্রবাহ, যা ভালবাসার সহজাত বিষাদ ও অতলান্ত আকুলতাকে ধারণ করে আছে।
একটি প্রপাতের শব্দ ভেসে আসে
সুচিরকালের এক প্রণয়প্রপাত
জেগে থাকে স্তব্ধতার ভেতর
কত আলোকবর্ষ দূরের তারাদের আলো
জোনাকির মতো জ্বলে
সে আলোয় আঁকি তোমার মুখচ্ছবি
ঢেউয়ে ঢেউয়ে নিঃশর্ত শব্দ ও রেখার আকিঞ্চন
ঘন ও গহন হয়ে ওঠে রাত্রির প্রতিশ্রুতি
নীল পটভূমি
ক্রমশ উন্মোচিত বেদনার আকাশপ্রবাহ
প্রপাতের তল থেকে উঠে আসে ভোর
তোমার মুখের মতো
শান্ত রহস্যে ফুটে থাকা আরক্ত একটি গোলাপ
তার পাপড়িতে কার হৃৎস্পন্দন জেগে থাকে
তুমি টের পাও?
সম্ভাব্য শিরোনাম— প্রণয়প্রপাতের ভোর (বিকল্প হিসেবে: আলো ও আরক্ত গোলাপ)
এখানে রাত শুধু এক নির্জন সময় নয়, বরং উন্মোচিত বেদনার আকাশপ্রবাহ, যা ভালবাসার সহজাত বিষাদ ও অতলান্ত আকুলতাকে ধারণ করে আছে। তবে এই কবিতা কেবল বিরহ কিংবা অন্ধকারের স্তব্ধতায় থেমে থাকে না; অন্ধকারের গভীরতম প্রপাত থেকেই উন্মোচিত হয় ভোরের আলো। সেই রূপান্তরটি হঠাৎ এবং আশ্চর্য সুন্দর—প্রিয়জনের শান্ত রহস্যে ফুটে থাকা আরক্ত গোলাপের উপমায়। কবিতার শেষ পঙ্ক্তিটি এক অনুচ্চ, ব্যক্তিগত কিন্তু গভীর জিজ্ঞাসা ছুড়ে দেয় প্রিয়তমের অস্তিত্বের দিকে। পাপড়ির ভেতর স্পন্দিত সেই হৃৎস্পন্দন কেবল প্রণয়ের জীবন্ত উপস্থিতিকেই ঘোষণা করে না, বরং পাঠককেও এক শান্ত, সংবেদনশীল অনুভূতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।
~~000~~

No comments:
Post a Comment