বাতায়ন/দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা/গল্পাণু/৪র্থ
বর্ষ/২০তম সংখ্যা/১০ই কার্ত্তিক, ১৪৩৩
দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা | গল্পাণু
অদিতি চ্যাটার্জি
নিঃসঙ্গ
দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা | গল্পাণু
অদিতি চ্যাটার্জি
নিঃসঙ্গ
সারাজীবন পার্থর বাবা আমার হাত ধরে রেখেছিল, এই রাতটাই তো আমাদের শেষ, তাই একা ওঁকে ছাড়তে পারছি না।
রাতের
অন্ধকার আরও গাঢ় হয় যন্ত্রণার তীব্রতায়, চোখের সামনে দেখি আইসিইউ-র বেড নম্বর ফাইভের স্ত্রীকে কান্নায়
ভেঙে পড়তে। প্রায় প্রৌঢ়ত্বের শেষ সীমা ছুঁতে চলা মহিলাটি এখন শান্ত, দুচোখে অপরিসীম ক্লান্তি, কেজো স্বরে বলি,
—বাড়িতে খবর দিন এবার।
তিনি মাথা নীচু করে বসে থাকেন ফাঁকা করিডরে। বিরক্ত লাগে, আবারও ডাকি,
—ম্যাডাম...
—ছেলে-মেয়েরা বাইরে, দেওরকে খবর দিয়েছি, সকালে আসবে।
কাগজপত্র রেডি করতে হবে, আমি এগিয়ে যেতে গিয়ে দাঁড়িয়ে যাই, ভদ্রমহিলা হাতটা চেপে ধরেন, একবার কি ওঁর কাছে যাওয়া যায়? কী তীব্র আকুতি! না বলার মতো পাষাণী তো এখনো হতে পারিনি।
ভদ্রমহিলা
মৃতদেহের মুখে পরম মমতায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। হঠাৎ বলেন,
—আরও একটু থাকতে দেবেন?
কথাটা
কানের পাশে খামোখাই পাক খেতে থাকে। বললাম,
—থাকুন।
আপনমনেই বললেন,
—সারাজীবন পার্থর বাবা আমার
হাত ধরে রেখেছিল, এই রাতটাই তো আমাদের
শেষ, তাই একা ওঁকে ছাড়তে
পারছি না।
তিনি মাথা নীচু করে বসে থাকেন ফাঁকা করিডরে। বিরক্ত লাগে, আবারও ডাকি,
—ছেলে-মেয়েরা বাইরে, দেওরকে খবর দিয়েছি, সকালে আসবে।
কাগজপত্র রেডি করতে হবে, আমি এগিয়ে যেতে গিয়ে দাঁড়িয়ে যাই, ভদ্রমহিলা হাতটা চেপে ধরেন, একবার কি ওঁর কাছে যাওয়া যায়? কী তীব্র আকুতি! না বলার মতো পাষাণী তো এখনো হতে পারিনি।
আপনমনেই বললেন,
শহরের
আকাশে ফিকে চাঁদ, নীল রঙের গায়ে সাদা রং
মিশছে একটু একটু করে, শ্মশানের শান্তি
বিরাজমান। আইসিইউ-র ঘরে সাদা কাপড়ে ঢাকা মৃতদেহের দিকে আবারও তাকাই— আমাদের
যাবতীয় সাফল্য, ব্যস্ততা, অহঙ্কার কী তুচ্ছ এখন না?
~~000~~

No comments:
Post a Comment