বাতায়ন/ছোটগল্প/১ম বর্ষ/১৮তম সংখ্যা/২২শে ভাদ্র, ১৪৩০
ছোটগল্প
কল্যানী মন্ডল
নতুন জীবন
মিলি শেলীকে বলে, তোকে
আজ বেশ সুন্দর লাগছে নতুন শাড়িটায়। শেলী বলে, তুই তো আমার অবস্থা জানিস নতুন শাড়ি
কোথায় পাব? মাসির মেয়ে পুরোনো শাড়িগুলো দেয় ওগুলো ওয়াশ করে পড়ি, কয়েকটা টিউশনি
ধরেছি। এখন দুটো বাচ্চাকে পড়াই। ওরা এত বিচ্ছু, সবসময় থাকার জন্য বায়না করে।
— মানে!
— আরে ওই ভদ্রলোকের
স্ত্রী মারা গেছে, এক বয়স্ক মাসি আছে সারাদিন বাচ্চাগুলোর দেখাশুনা করে।
— খবরদার যেন বিয়ে করিস
না দুই ছেলের বাবাকে।
— আরে না না, বিয়ে করতে
যাব কেন? তবে ভদ্রলোক কম কথা বলে, ম্যাডাম বলেই সম্বোধন করে, শুধু বাচ্চাদের পড়ার
খোঁজ নেয়৷
বাড়িতে এসে ভাবতে থাকে, তাদের বাবা শিখিয়ে দেয়নি তো? সে-রকম হলে টিউশনটা ছেড়ে দিয়ে অন্য জায়গা খুঁজে নেবে। ওদিকে মা চিৎকার করে, স্নান খাওয়া কখন করবি?
কিছু না বলে এক সপ্তাহ পড়াতে যায়নি৷ একদিন ফোন এল,
— ম্যাডাম আপনি কি অসুস্থ?
বাচ্চারা বলছিল আসেননি?
— হ্যাঁ ওই আর কী একটু
সর্দিকাশি হয়েছিল।
কিন্ত বলা হয় না সে আর
যাবে না।
আবার যাতায়াত শুরু হল,
পড়াতে গিয়ে দেখে ছোট ছেলেটির খুব জ্বর৷ কিছুতেই তাকে ছাড়তে চায় না। মাথায় জলপট্টি
দেওয়া, ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া সবই করল৷ ভদ্রলোকের অফিসে জরুরি মিটিং পড়ে
যাওয়াতে থাকতে বলেছিল৷ দু’দিন ওখানেই ছিল, ভদ্রলোক ফিরে বললেন,
— ভাগ্যিস আপনি ছিলেন।
তিনি ৫০০০ টাকা দিতে চাইলেন৷
কিছুতেই নেবে না জানিয়ে দেয় শেলী৷ ভদ্রলোক বলেন,
— একটা কথা বলতে চাই,
আপনার যদি মত থাকে, এ বাড়িতে আপনাকে পাকাপাকি ভাবে থাকতে অনুরোধ করছি৷
— আমার সম্পর্কে আপনি
কিছুই জানেন না, আমি বিবাহিত ডিভোর্স হয়নি অত্যাচারিত হয়ে শ্বশুরবাড়ি ত্যাগ করি৷
একটি দু’ বছরের মেয়ে আছে ওখানে আছে, আমাকে দেয়নি। তার কোন খবর জানি না।
— সে সব আমি ম্যানেজ
করে নেব বাচ্চা ফিরে এলে মেনে নেব যদি আপনার মত থাকে৷
বাড়িতে মা-কে জানাতে মা
বলে, আর কত কষ্ট করবি মেনে-নে।
বাচ্চা দুটো খুব খুশি। কিন্ত
এক বছর পরে ভদ্রলোকের ক্যানসার ধরা পরে, অনেক ঝক্কি পুইয়ে সুস্থ
হন।
স্হিতিশীল হাত দুটো ধরে বলে,
— আমাকে আর আমার ছেলেদুটো
ছেড়ে যেও না।
— কেন যাব? ওরা তো আমারই ছেলে আমি এখানে এসে সব পেয়েছি আর কিছু পাওয়ার নেই৷
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment