মগজ ধোলাই
১
অনেক সময় আমাদের স্বভাব হয়ে ওঠে আমাদের প্রিয়তম
শত্রু। অভ্যাস ক্রমশই আমাদের আধুনিক অনুশাসনে
পরিণত হয়ে উঠলে, প্রাচীন কুসংস্কারের মতো সেটাও কিছু কম বাধার সৃষ্টি করে না। যেখানে
এর জন্ম, সেখানেই সে ডালপালা বিস্তার করে। সেটি খুবই বেদনার করুণ অঞ্চল, যা
মানুষের দুর্দশার প্রধান কারণ হয়ে উঠতে পারে সহজে এবং ভ্রান্তি ডেকে আনে মনের
ভিতর।
আজকাল অনেকেই সাময়িক আবেগের বশবর্তী হয়ে অনুগত হয়ে পড়েন স্বার্থের কাছে, প্রভাবশালীর প্রতিপত্তির কাছে, যদিও তা তার বিপত্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে, তবু সে মোহের বশে আর তা থেকে সহজে বের হয়ে আসতে পারেন না। তখন চাঁদের আলোয় ঘায়ের উপর মলম লাগায়, আত্মতৃপ্তির উপায় হিসাবে।
জীবনের একটা মৌলিক প্রবাহ থাকে, যার মধ্যে প্রতিদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষা আবছায়া ফেলে, তাই যতই চেষ্টা করা হোক না কেন, আমাদের অতৃপ্তির চোঁয়া ঢেকুর রোধে কোন হজমোলাই আর তেমন সুফল প্রদান করতে পারে না, বরং দিন দিন উদ্গিরণের পরিমাণ উত্তরোত্তর এত বৃদ্ধি পায় যে, সে এক সঙ্কটময় সময় উপস্থিত করে।
এর থেকে সহজে বের হবার কোন সুনির্দিষ্ট উপায় আজ পর্যন্ত বের হয়নি, তবে মানুষ আশাবাদী সে হাল ছেড়ে দিয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার পাত্র নয়, সুমেরু থেকে কুমেরু চষে ফেলছে সে। তা ফেলুক, আপত্তির কোন কারণ নেই, তবে মাঝে মাঝে মনে হয়, উপায় কী সত্যিই কোনদিন বের হবে? নাকি শুধু কলুর বলদ হয়ে ঘোরাই শেষ পর্যন্ত সার কথা হবে?
৩
সাহিত্য-শিল্প যদি সামাজিক বিপ্লবকে তরস্বী করে, তাহলে দারিদ্রের রূপরেখা প্রাচীরে মাথা ঠোকে, আর তার কান্না বাস্তবতার প্রতিধ্বনি হয়ে ফুটে থাকে মাত্র, তার বেশি কিছু নয়, এ-কথা যিনি বুঝতে পারেন, তিনি ভবিষ্যতের কথা ভেবে লেখেন তার চিন্তা চেতনা অতীতের দিকে খানিকটা ঝুঁকে থাকলেও অভিমুখ থাকে ভবিষ্যতের দিকে। ভাষা যদিও তার কাছে অবাধ্য, সে-কথা তার সঠিক জানা না থাকায়, ক্রন্দন এসে চুঁইয়ে জমা হয় মৃত্যুর নির্মম এক চূড়ান্ত পরিস্থিতির মধ্যে অসহায় ভাবে।
সেখানে তার অবস্থান থাকে এক অবিমিশ্র অবস্থায়, মৃত্যুর নান্দনিকতায় যদিও সফেদ দেওয়ালে নোংরা ছোপ লাগা ভাব অস্পষ্ট ভাবে কিছুটা ফুটে থাকে, তা মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করলেও, অবশ্য শেষপর্যন্ত আর কোন উপায় খুঁজে না পেয়ে গুমরে মরে একা কেঁদে, আর ভাব তাকে অনিশ্চিত এক চৈতন্যে ভাসিয়ে নিয়ে যায়, যেখানে কোন আশ্রয় মেলে না তার নিশ্চিত ভাবেই।
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment