প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো

বাতায়ন/ আতঙ্ক / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ২য় সংখ্যা/১ ৭ই বৈশাখ ,   ১৪৩৩ আতঙ্ক | সম্পাদকীয়   সাগর না কুয়ো "যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটি...

Saturday, December 9, 2023

পরকীয়া | শাস্তি | জনা বন্দ্যোপাধ্যায়

বাতায়ন/পরকীয়া/ছোটগল্প/১ম বর্ষ/২৬তম সংখ্যা/২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩০

পরকীয়া | ছোটগল্প
জনা বন্দ্যোপাধ্যায়

শাস্তি


আজ বুটিকের দোকান থেকে মার্কেটিং করে ফ্ল্যাটে ফিরে আসে রোহিণী ও সারস্বত। সারস্বত পুজোয় রোহিণীকে তিনটে দামি শাড়ি দিয়েছে, সঙ্গে একটি স্লিক ও সুন্দর ডিজাইনের নেকলেস। কলকাতার এই ফ্ল্যাট তাদের নিরাপদ আশ্রয়। রোহিণী তার স্বামী প্রিয়তোষকে জানিয়ে দিয়েছে আজ আর বাড়ি ফিরবে না, এক বান্ধবীর বাড়ি থাকবে। প্রিয়তোষ কিছু জিজ্ঞাসা করেন না।

রোহিণী ও সারস্বতের প্রায় দুবছরের সম্পর্ক। সারস্বত মফস্‌সল শহরে মানুষ, ব্যাচেলর, পৈতৃক ব্যবসার সূত্রে এখন বেশ ধনী।

রোহিণীও একটি ওষুধ কোম্পানিতে উঁচু পোস্টেই চাকরি করে। সাজগোজ সফিষ্টিকেশনে বয়স কমিয়ে রাখলেও পঞ্চাশ পেরিয়েছে। প্রায় একুশ বছরের বিবাহিত জীবন। আঠারো বছরের ছেলে হোস্টেলে পড়াশোনা করে। তাদের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, দুটো গাড়ি-- প্রিয়তোষের সঙ্গে বয়সের তফাৎ হলেও তিনি স্ত্রীর সব আবদার মেনে নেন। এরকম অতি ভাল মানুষ স্বামীকেও হয়তো মহিলাদের একঘেয়ে মনে হয়।

সারস্বতের সঙ্গে রোহিণীর পরিচয় একজন কমন ফ্রেন্ডের মাধ্যমে। ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা ও সম্পর্কের সূত্রপাত।

প্রিয়তোষ একটি বড় মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানির চিফ এক্সিকিউটিভ। অফিস থেকে ফিরতে বেশ রাত হয় তাঁর। বাড়িতে সর্বক্ষণের কাজের লোক রমলাদি থাকে। আজ প্ৰিয়তোষের পছন্দের মেনু বোনলেস চিলি চিকেন বানিয়ে ফ্রিজে রেখে এসেছে রোহিণী। রমলাদি রুটি বানিয়ে দেবে।

“মুন, তুমি নিজের সংসার আর আমাকে দুদিকই কী সুন্দর ম্যানেজ করো, সত্যি তোমার প্রশংসা করতেই হয়!”

সারস্বত রোহিণীকে মুন বলে ডাকে। রোহিণী সারস্বতের বাহুতে ঘনিষ্ঠ হয়ে তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, “তোমার জন্য যে আমি সবই পারি ডিয়ার এটা বোঝো-না!” সারস্বত হেসে রোহিণীকে গভীর আলিঙ্গনে কাছে টেনে নেয়।

পরদিন বাড়ি ফিরে স্তব্ধ হয়ে যায় রোহিণী। প্রিয়তোষ ভোরবেলা ফ্যান থেকে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।” —এরকম একটি সুইসাইড নোটও লিখে গেছে। পুলিশের সঙ্গে ফর্মাল কাজ মিটলে রোহিণী দেখা করে সারস্বতের সঙ্গে। রোহিণীকে খুব ক্লান্ত দেখায়। সারস্বতকে বলে, “প্ৰিয়তোষ যে ডিপ্রেশনে গত দুমাস ধরে ভেতরে ভেতরে শেষ হয়ে যাচ্ছিল, সেটা বুঝতেই পারিনি। অফিসে একটা বড় টেন্ডার হাত ছাড়া হওয়ায় ওদের কোম্পানির খুব ক্ষতি হয়েছিল। তার দায় প্রিয়তোষের ওপর পড়ে।”

রোহিণী একটু থামে, তারপর কান্না ভেজা গলায় বলে, “আমার বানানো বোনলেস চিকেন প্রিয়তোষ খেত না। নিজের প্রতি অবহেলা শুরু করেছিল ডিপ্রেশনে। আমি সারাদিন নিজের অফিসে ব্যস্ত থাকতাম। ও অনেক রাত করে বাড়ি ফিরত। আমি ঘুমিয়ে পড়তাম। বুঝতেও পারিনি। রমলাদির থেকে সব জেনেছি। নিজের বুদ্ধির অহংকার চূর্ণ হয়ে গেছে। প্রিয়তোষ আশ্চর্যজনক ভাবে আমায় শাস্তি দিয়ে গেল!”

অনুশোচনা-দগ্ধ এক স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে ভীষণ অচেনা লাগে সারস্বতের। এই রোহিণীকে সে আগে কোনদিন দেখেনি!

 

সমাপ্ত


No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)