প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো

বাতায়ন/ আতঙ্ক / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ২য় সংখ্যা/১ ৭ই বৈশাখ ,   ১৪৩৩ আতঙ্ক | সম্পাদকীয়   সাগর না কুয়ো "যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটি...

Saturday, December 9, 2023

পরকীয়া | ঈশ্বর / ভূমধ্য ও সমুদ্রভর্তি সুষুম্নারস / বিরজাক্ষেত্র | নিমাই জানা

বাতায়ন/পরকীয়া/গদ্য/১ম বর্ষ/২৬তম সংখ্যা/২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩০

পরকীয়া | গদ্য
নিমাই জানা

ঈশ্বর / ভূমধ্য ও সমুদ্রভর্তি সুষুম্নারস / বিরজাক্ষেত্র


শীতল অ্যানাস্থেসিয়া কক্ষ পাখিটির মতো হাওয়াহীন পিশাচদের দেহ নিঃসৃত ঋতবাক সন্তানেরা মধ্যরাতের দ্রাঘিমা ছিঁড়ে ছিঁড়ে পেরিয়ে যায় কুয়াশার মতো কঠিন কোনো কল্পান্তর কালো কালো হাড় ও হাড়ের টুকরো, মাথার খুলি ও কিছু সুষুম্না রসের জারক পোকাদের অভিনব অট্টহাসির যৌগিক রসায়ন স্নানাগার, আমি পচা ডিম মেশানো একটি কারখানায় আঙুল ডুবিয়ে খেতে থাকি এই জন্মের শেষ বীর্য রক্তের টুকরো,

পরাজগতের সব স্নানের পর ঈশ্বর দেখছেন সব উলঙ্গ নারীরা এ পৃথিবীর ষোলো কলার ও অক্ষর দেহ না সমর্পণ করে দাঁড়িয়ে আছে জলের তলায়, এখানেই কোন সমর্পণের শেষ মন্ত্র বিন্দু নেই, সব রিপুরা সমুদ্র ভর্তি সূর্যের নিষিক্ত উপাদানগুলোর উপর উপুড় করে দিতে হয় ঈশ্বরের দিকে মুখ করে, আয়ান নামক নপুংসক একটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস, তার ছায়া কোনো নামপদের মতো, আসলে আলোর দিকে নিয়ে যান তিনি ছায়াকে আরও একটা ছায়ার সাথে মিশে যেতে উদ্বুদ্ধ করছেন এই অন্ধকারের দিকে মুখ করে, ক্রমশ বিরোজা ক্ষেত্রে ছায়ার ঘনত্ব আরো গাঢ় হতে দেখেছেন তিনি বেজে উঠেছে বাঁশি বেজে উঠেছে শঙ্খর নিনাদ ভেসে উঠেছে চরম ও উত্তুঙ্গ প্রেমের নীল নীল জাতক কশেরুকা
সব অস্ত্রের মধ্যে বিষাক্ত অস্ত্রের বিভূতি নাম হোলো বজ্র, তিনি বিভূতি সমগ্র নিয়ে বসে থাকেন, সব সাপেদের শ্রেষ্ঠ বাসুকিকে তিনি নিয়ে বসে থাকেন, তিনি নারীদের সর্বশ্রেষ্ঠ নায়ক, অলৌকিক সমুদ্রের মতো ক্ষীরোদ সাগরে ভেসে থাকা দীর্ঘ নাগ হলো অনন্ত নাগ বা শেষ নাগ আসলে এইসব সম্পর্কগুলোই তৃতীয় পক্ষের মতো চটচটে রাসায়নিক নয়, রসায়ন অথচ এক অমৃত নগরের পরারসায়ন যেখান থেকে আলোর আর একটা অক্ষরেখা ছাড়িয়ে আরও একটি স্তরে নিয়ে যায় অনাবিল আনন্দময় অবিনশ্বর নিকেতনে অথচ তিনি বৈধ বৈধ আগুন দিয়ে কষ্টিপাথরের মতো পুড়িয়ে পুড়িয়ে গলায় দুলিয়ে দেন এক একটা কণ্ঠলগ্ন হার, খণ্ড খণ্ড সৌম্য তরবারি, বিভূতি ভূষণ চাঁদের জৈবিক জনপদ
সকলেই আপেলের টুকরো খাচ্ছে অথচ আপেলের মতো একটা বিভঙ্গ মূর্তির কাছে দাঁড়িয়ে মৃৎশিল্পীরা তাদের জন্ম লতিকা ভুলে যায় নগ্ন চোখের অ্যালজেব্রিক ক্ষণপদের উপর চড়ে বসে
প্রতিদিন মৃত মানুষদের মতো হাওয়া এসে নিয়ে যায় একটি সাপের সর্পিলাকার কুঞ্জের দিকে এখানে প্রতিদিন নন্দনকাননের একেকটা ভৈরবী মানুষ রিপু রিক্ত হতে হতে সব জলন্ধর অববাহিকায় হারিয়ে নেমে যায় আরো আরো একটা গভীর অভয়ারণ্যের দিকে, সেখানে ঈশ্বর প্রতিদিন দিব্য নৃত্য সেরে নিয়ে চলে যায় আর একটা বৈকুন্ঠপুরের দিকে, দেহহীন অবয়বহীন সঙ্গমহীন সম্ভোগহীন কামহীন অচিন্ত্য পরকীয়ায় আমাদের মাতিয়ে রাখেন প্রতিটি ব্রহ্মবেলা থেকে সুসুপ্তি অবধি, অবশ্য আমাদের দেহ মায়াভিমান ছেড়ে কর্তৃত্বাভিমান ছেড়ে শ্বেতাঙ্গ করে তোলেন আমাদের
আমাকে কেউ মাঝরাতের সশস্ত্র পেন্ডুলাম বাজিয়ে নীরব মিশরীয় পিরামিডের ভেতর থেকে দুই হাত উঁচিয়ে এখন ডেকে যায় সাদা ফরাস মেশানো ফসফরিক অ্যাসিডে গলে যাওয়া মামিফিকেশনের লাল নিশাচর রক্ষীদের তরল চন্দ্রবোড়াদের শীতকালীন প্রজনন কেন্দ্রের দিকে, আমি বাঁশি বাজিয়ে উন্মুক্ত মদের চটচট প্রোটনিক হাইজেনবার্গের নীল স্থিতিস্থাপক শ্মশানের পাশে গুঁড়ো গুঁড়ো হাড়ের অবিশুদ্ধ পরকীয়া শহরে বসে কঙ্কালসার ছায়াগুলোর চাটনি খেতে থাকি কাঁটা চামচ দিয়ে, ঈশ্বর ডাকেন রোজ দুইবেলায় ঈশ্বরী ডাকেন রোজ দুইবেলায় তার অনিষিক্ত ছায়ার ভিতর কোন গোপনাঙ্গের নীল ইঙ্গিত ও ইশারার ভূমণ্ডল দিয়ে
বরফ মেখে তেজস্ক্রিয় উতঙ্ক ঋষি বেরিয়ে আসলেন জহরত মোড়ানো মন্দির থেকে, রাতের প্রতিটি খাদ্য কণায় অগ্ন্যুৎপাতের নিষিদ্ধ কুঠুরি, শ্রীহীন অগ্নিকাণ্ড আর কোন দেশে নেই এই আত্মহত্যাকারীদের গোপনাঙ্গহীন পাখির নিষিদ্ধ রঙের কালো দানা দানা ঔষধের কারখানা থেকে, সারারাত মৃত নগরে ঘুরতে ঘুরতে দেখে ফেলছি এক একটা মৃত মানুষ নিজেদের কবর থেকে বেরিয়ে আরো অসংখ্য কবরের উপর সাদা রঙের চারা লাগিয়ে দিচ্ছে, ফুঁ দিচ্ছে, রক্ত দিচ্ছে, জল দিচ্ছে
সম্ভোগ পরবর্তী রতিক্রীড়াময় ছেঁড়া জিভের সদবিম্ব পাখিটি নিজেদের হারিয়ে ফেলবে এই মহাজাগতিক দ্বাপর যুগের শেষ সামুদ্রিক অভিঘাতে, প্রতিজন্মের শেষে আদিম পিতা তার খোলস দেওয়ালে টাঙিয়ে রেখে ফিরে যাবে আরও একটা মরচে মার্কা নীল দিব্যবিমানটির দিকে, মৃত্যু অসুখ আসলে বহু বীজপত্রের রং মেখে দাঁড়িয়ে অট্টহাস্য করে আমার জনন ছিদ্রহীন নিদ্রার ভেতর,
ঈশ্বর আমাকে হত্যা করো হত্যা করো আমার ভিতর আর একটা বিষাক্ত লোলুপ জৈবনিক শরীরকে
প্রতিটি মানুষদের একটি করে মৃত কাঠের আসবাবপত্র থাকে যার ভেতর দীর্ঘ চিৎকারের থেকেও আরও নীরব হাই ফ্রিকুয়েন্সির আলোর নীচের কুকুরীরা এই জন্মের নৃতাত্ত্বিক সঙ্গম রেখে মুখ দিয়ে বমি করতে করতে আরো একবার সাপেদের গর্তের ভিতর থেকে বের করে আনছে লাল আপেলের মতো এ জন্মের কিছু জন্মরোগ, ক্ষয়রোগ, পান্ডুরোগ,
  সন্ন্যাসরোগ
একটি কালো রঙের চা বিক্রেতা জানে সব মানুষদের একটি করে ভৌগোলিক সুখের কৃত্রিম জনপদ পেরিয়ে যাওয়ার স্বপ্নদোষের পরও স্ট্রবেরি রঙের নীল নীল বিষধর পরকীয়া ঘনত্বের বিছানার নীচে লম্বা নখগুলো দিয়ে জানালার ঘুলঘুলি বেয়ে পড়ে যায় স্বর্ণালংকার মেশানো আরো এক ঈশ্বরের দিকে, ছায়াহীন ভস্ম শ্মশানের অতিলৌকিক চতুর্ভুজ কণিকায় একটা চাদর গায়ে দিয়ে শীতকালীন পরকীয়া উপেক্ষা করি, বমি করি ঈশ্বরকে ডাকি দুই হাত উপরের দিকে তুলে কোন নারী নয় কোন পুরুষ নয় কোন উভয় লিঙ্গ নয় একটা লিঙ্গহীন অবয়ব দোলনার মতো দুলতে দুলতে একটা আলোর সূক্ষ্ম স্তর ভেদ করে উড়ে যাচ্ছে আর একটা কৃষ্ণগহ্বর ভোরের দিকে
তেজস্ক্রিয় অন্ধকারে লবণাক্তের সংপৃক্ত পোতাশ্রয়ে এসে একটা স্থিতিস্থাপক ব্রহ্মাস্ত্র বের করে নিজের গলার চারপাশে ধারালো ভ্রুণাক্ষ ছড়িয়ে লাল রঙের তুলসী পাতা ছড়িয়ে দিচ্ছেন, নিজেই রুদ্রাণী নিজের শিবানী ভয়ংকরী এক অপরাধ শক্তির মহাজাগতিক কক্ষপথ ভেঙে ভেঙে নিজেই তৈরি করে আনছেন সব লেলিহান জীবাণু সমগ্র, লাল রক্তের মতো জৈবনিক জবা ফুলের ভেতর থেকে বের করে আনে বদরক্তের অতীব প্রাচীন সম্ভোগ, আমি সব বিভূতি সব ব্রহ্মাণ্ড ফেলে আরেক বৃত্তীয় বলয়ের দিকে চলে যাচ্ছি সব অন্তর্বাস ছুঁড়ে দিয়ে এখানে সবাই নৃতত্বের গান গায় কালো কাঁকড়া বিছের মতো আমার মৃত্যুর দীর্ঘশ্বাসে নেমে যাবে জন্মের আসল পরিসংখ্যান যেখানে জন্ম নেই যেখানে মৃত্যু নেই শুধু একটা ছেঁড়াবিন্দু এসে লাল জিওমেট্রিক প্যারামিটারের উপর একটা বক্ররেখার সিফিলিস রেখে যায় মুখ দিয়ে বিশ্বরূপের রঙিন স্নেহধারায় দ্বারকাপুরী গড়ে তোলেন, আমাদের তখন চরম সম্ভোগ মুহূর্ত চলছে
শক্তিধর আবক্ষের চারপাশে এই মধু ভাণ্ডের নীল নিষিদ্ধ অমৃতের স্বাদ থেকে সব পিশাচেরা গলা কাটা উলঙ্গ অ্যালকোহলিক মৃদু দর্পণ যজ্ঞের পাশে বসে থাকে শঙ্খচূড়ের নীল অপ্সরাদের সাথে আমি একটা বস্ত্রের নীচে প্রায় উলঙ্গ স্নান করি প্রত্যক্ষ করি সব অপরাধ দৃশ্যের মৈথুনজাত পারলৌকিক দৃশ্য, দুই হাতে মোহন বাঁশি বাজান, হৈমী বাজান, সুষুপ্তি বাজান, নির্বিকল্প বাজান, কন্যাকুমারীকা বাজান তিনি গোমুখ বাজান তিনি হিমালয় বাজান তিনি কৈলাস বাজান তিনি রুদ্রপ্রয়াগ বাজান, তিনি ব্রহ্মকুণ্ড বাজান তুমি মথুরা বাজান
আমরা উভয়াবতল নৌকার তলদেশে বসে দেখেছি নারীদের মতো আরও এক অলৌকিক নারী উভয়লিঙ্গ ছায়ার ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে পোতাশ্রয় থেকে উড়ে যাচ্ছে নিশুতি টিলার দিকে,
সেখানে হৃৎপিণ্ডের মতো জমাট ইউস্টেচিয়ান ছিদ্র দিয়ে কালো কালো অপরাশক্তির রক্তের দানাগুলো বিন্দুর মতো অতি সূক্ষ্ম মহাশূন্যের দিকে উড়ে যাওয়ার আগে সব পাখিদের কাল্পনিক নেশাখোর তৈরি করে রেখেছি একদিন রাতে উঠে ঈশ্বরকে বিষাক্ত সোম্যক মদ খাওয়াবো বলে
দাঁতগুলো বের করে অট্টহাস্য করে সরীসৃপ, শ্মশান বিন্দুতে পৌঁছে নিজেই নিজেকে পোড়ানো জ্বলন্ত কাঠগুলোর উপর জল ঢালছি ভাঙা এক মাটির কলশি নিয়ে
ধারালো অস্ত্রের সৈনিক আয়ুধ, গোলার্ধ ছিন্নকারী পিশাচ, ঈশ্বর বিধ্বংসকারী আরও একটা অনিষিক্ত ঈশ্বর নিউক্লিয়াসের মতো আমার আয়ু পরমাণু জীবাত্মা আত্মা যজ্ঞ দীপক পুরোহিত ব্রহ্মা কুমার, সবাই সামতলিক ভূখণ্ড থেকে আরেকটা ভূখণ্ডে চলে যায় জলজ সেতু পেরিয়ে অথচ সেই অস্তিত্ব শিখরে নিয়ে যায় পরম চৈতন্যে নিয়ে যায়, তড়িদাহিত আলো নেমে আসছে
বাঁশি বেজে ওঠার সময় পবিত্র কামধেনুর মুখগহ্বর থেকে বেরিয়ে আসে একটি কল্পিত মহাজগৎ সেখানেই ঈশ্বর বুদ্ধ বিরাজ করেন তথাগতের মতো কিন্তু ইছামতীর মতো নীল নিরক্ষরেখায় নিয়ে যান চৈতন্যের বৈদিক বস্ত্র পরিয়ে
নির্জনে মন্ত্রঃপুত করে ভৌগোলিক কার্বনেটের দাঁতগুলো থেকে ঝলসে ওঠে ব্রহ্মার আদি কল্পস্তোত্রমালা, সৃজন ও উর্বর শঙ্খযোগ, জ্ঞানযোগ কর্মযোগ ভক্তিযোগ, জীব ও ব্রহ্ম ঐক্য
অতিপ্রোটনিক থেকেও আরো সূক্ষ্ম ও ধ্বংসপ্রাপ্ত কক্ষপথের ভেতরে তিনি ঘুরছেন লাল কৈলাস থেকে নেমে এসে তিনি কেশব ব্রহ্ম, বিষ্ণু-মহেশ্বরের তৃতীয় সৃষ্টির পেন্ডুলামের সরল দোলগতির পর্যায়ের বৃত্ত সংকল্প নিয়ে, এক রূপবতী অপ্সরার দেহ মিশ্রিত ভাষ্য পদার্থ দেখে আর বিচলন নেই, সব মাংসল অথচ সমগ্ৰ ছাই
ধারালো ব্লেডের মতো আমাদেরও সরস্বতী নদীর পাশে এসে ম্রিয়মান সাধনক্ষেত্রের অর্বুদাংশ থেকেও আরো সুখতম এক তন্ত্রসাধনায় মেতে উঠেছেন অভৈরবী নৃত্যমালার সাধন যোগীরা।
আশ্রমিক পাখিরা আজ অনন্ত যোগের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের নীল নিষিক্ত গর্ভকেশরে ঢুকে আকন্ঠ সংকীর্তনে মেতে আছে ভৈরবী ও পুষ্পক রথের উপর বসে থেকে লাল সুমিত থেকে পাণ্ডবেরা আরও একটা অদৃশ্য পুলক রাশির দিকে নেমে যাচ্ছেন পারলৌকিক পরকীয়ার সুদৃশ্য নৌকা বিহার সেরে। রাশি যোগে অমৃতত্বের স্বাদ পেলেন ঈশ্বর। ভূমা। জলধি। গোলার্ধ। বায়ুমণ্ডল ও কাশ্যপ। স্বেদ। প্রকাশ।

 

সমাপ্ত

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)