বাতায়ন/সাপ্তাহিক/ধারাবাহিক/২য়
বর্ষ/৪র্থ সংখ্যা/২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১
ধারাবাহিক গল্প
ডঃ নিতাই ভট্টাচার্য
গন্ধ বদলে যায়
[১ম পর্ব]
"তপন দা, এইদিকে আসুন"
সামনে তাকায় তপন। রাস্তার ওপাশের প্রতীক্ষালয়ে বসে রয়েছে মৌসুমী। আজ মৌসুমীর সঙ্গে একই বাসে বর্ধমান ফিরবে তপন। তপনের সারাদিনের ইচ্ছেটা অধীর হয়ে ওঠে মুহূর্তে, ডানা ঝাপটায়। চারপাশের বাতাস ভরে ওঠে সুগন্ধে। ব্যস্ত - ইচ্ছে স্তিমিত করবার চেষ্টা করে তপন। রাস্তার এই পার থেকেই মৌসুমীকে একবার দেখে। মনে মনে ভয় পায় বেশ। অধীরতায় লাগাম টেনে তাকিয়ে দেখে চারপাশ, কারোর নজর তপনের উপর আছে কিনা। 'কারও' মানে অফিসের দত্তবাবু, দাসবাবু, রায়বাবু, সাহাবাবু বা আরো যারা যারা থাকে। সোজা কথায় রোজ অফিসে এসে মৌসুমীর উপর যাদের নজর ঝুলে থাকে।
সামনে তাকায় তপন। রাস্তার ওপাশের প্রতীক্ষালয়ে বসে রয়েছে মৌসুমী। আজ মৌসুমীর সঙ্গে একই বাসে বর্ধমান ফিরবে তপন। তপনের সারাদিনের ইচ্ছেটা অধীর হয়ে ওঠে মুহূর্তে, ডানা ঝাপটায়। চারপাশের বাতাস ভরে ওঠে সুগন্ধে। ব্যস্ত - ইচ্ছে স্তিমিত করবার চেষ্টা করে তপন। রাস্তার এই পার থেকেই মৌসুমীকে একবার দেখে। মনে মনে ভয় পায় বেশ। অধীরতায় লাগাম টেনে তাকিয়ে দেখে চারপাশ, কারোর নজর তপনের উপর আছে কিনা। 'কারও' মানে অফিসের দত্তবাবু, দাসবাবু, রায়বাবু, সাহাবাবু বা আরো যারা যারা থাকে। সোজা কথায় রোজ অফিসে এসে মৌসুমীর উপর যাদের নজর ঝুলে থাকে।
মৌসুমী আর তপন
একই সময়ে বাস স্ট্যান্ডে রয়েছে ব্যাপারটা এদের যে-কারো চোখে পড়লেই হলো। গল্পের
চরিত্র হয়ে উঠবে তপন, আস্ত সরস কাহিনি রচনা করে ফেলবে সাহাবাবু। টেবিলে টেবিলে
ঘুরে রসসিক্ত হবে সেই কল্পকাহিনি আরো। তারপর আদিরসে জারিত হয়ে করুণরসের ক্ষরণ
ঘটাবে তপনের মনে। তাই সাবধানের মার নেই, চারপাশে নজর ফেলে তপন। না, কেউ নেই। এইবার
প্রতীক্ষালয়ের দিকে এগিয়ে যেতে নিশ্চিন্তে সামনে পা ফেলে। বাসে ওঠার আগে পর্যন্ত
মৌসুমীর পাশে বসে দু-চারটি কথা বলবে। আর, আর মৌসুমীর গায়ের পারফিউমের সুগন্ধে বিভোর
হয়ে উঠবে তপন।
মৌসুমী বোলপুরে যাবার বাস ধরে রোজ, তপন ফেরে বর্ধমান, পুরো উল্টো দিকে। আজ মৌসুমী বর্ধমান যাবে, পিসতুতো বোনের বিয়ে। গতকাল বলেছিল তপনকে, "আপনার সঙ্গে একই বাসে যাব তপনদা, বসতে দেবেন তো বাসে। অত রাস্তা দাঁড়িয়ে..."। তারপর থেকে এক অদ্ভুত ভাল লাগা ঘুরঘুর করেছে তপনের চারপাশে। মনের হাজারো প্রকোষ্ঠ সুগন্ধে ম-ম করেছে।
আজ অফিসে এসে থেকে দত্তবাবুকে খুশি রেখেছে তপন, একটু আগে ছুটি চাই, তাই। দত্তবাবুকে চটালেই চটকে যাবে সব। রোজ ছুটির সময় বাস ধরবার তাড়া থাকে তপনের। ঠিক তখনই হাজার কাজ মনে পড়ে যায় দত্তবাবুর। "তপন, তেরো নম্বর আলমারির মাঝের তাকের ডান দিকের নীল ফাইলটা নিয়ে আয়।"
কাঁধের ব্যাগ নামিয়ে রেখে নীল ফাইল এনে দেয় তপন। ফাইল খুলে দুই একটা কাগজ নাড়াচাড়া করে সিলিং-এর দিকে তাকিয়ে বলে, "আরে না না। এইটা নয়। সেই বাঁশ পাতা রঙের ফাইলটা। দেখ-তো সাহার টেবিলে আছে কিনা। সেখানে না পেলে একবার দাসের টেবিলে দেখবি।" অফিসের এই মাথা থেকে ওই মাথা সব টেবিল দেখে তপন বলে, "পেলাম না স্যার।"
"ওহ্! থাক থাক। এখানেই ছিল। পেয়েছি। তুই বরং নীল ফাইলটা তুলে রাখ।" বলে দত্তবাবু।
ততক্ষণে তপনের বাস চলে যায়। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে তপন। দত্তবাবু বলে, "অত বাড়ি বাড়ি করিস কেন তপন! এই বয়সে স্বামী-স্ত্রী হলো ভাই-বোন। সংসার হল আশ্রম আর তুই..."। তারপর বাসে দত্তবাবুর পাশে বসে ঘামের উৎকট গন্ধ নাকে নিয়ে বর্ধমান ফেরে তপন।
আজ অফিসে এসেই সময় মতো দত্তবাবুর কাছে সুপারিশও পেশ করে রেখেছে তপন, "আজ একটু আগে ছুটি দেবেন স্যার।"
"কেন রে?"
"বিয়ের নিমন্ত্রণ আছে।"
"আজ আমি নিজের গাড়িটা নিয়ে এলাম। ভাবলাম তোকে নিয়েই বর্ধমান ফিরব। আর তুই বলছিস আগে কাটব। যাক গে, বিয়ে বাড়ি কি বর্ধমানে?" জিজ্ঞাসা করে দত্তবাবু।
"না না স্যার। গ্রামে, আমার বাড়ির পাশেই।" কথাটা আগেই সাজিয়েই রেখেছিল তপন।
কালচে দাঁতে খিলখিল হাসি ভাসিয়ে দেয় দত্তবাবু। বলে, "বুঝিরে তপন সবই বুঝি। মৌসুমীরও আজ বিয়ে বাড়ি যাবে। তোরও বিয়ের নিমন্ত্রণ। মৌসুমী বর্ধমান যাবে। একই বাসে তুইও যাবি সঙ্গে। তাই-তো?" বলে আবার হাসতে থাকে দত্তবাবু।
মৌসুমী বোলপুরে যাবার বাস ধরে রোজ, তপন ফেরে বর্ধমান, পুরো উল্টো দিকে। আজ মৌসুমী বর্ধমান যাবে, পিসতুতো বোনের বিয়ে। গতকাল বলেছিল তপনকে, "আপনার সঙ্গে একই বাসে যাব তপনদা, বসতে দেবেন তো বাসে। অত রাস্তা দাঁড়িয়ে..."। তারপর থেকে এক অদ্ভুত ভাল লাগা ঘুরঘুর করেছে তপনের চারপাশে। মনের হাজারো প্রকোষ্ঠ সুগন্ধে ম-ম করেছে।
আজ অফিসে এসে থেকে দত্তবাবুকে খুশি রেখেছে তপন, একটু আগে ছুটি চাই, তাই। দত্তবাবুকে চটালেই চটকে যাবে সব। রোজ ছুটির সময় বাস ধরবার তাড়া থাকে তপনের। ঠিক তখনই হাজার কাজ মনে পড়ে যায় দত্তবাবুর। "তপন, তেরো নম্বর আলমারির মাঝের তাকের ডান দিকের নীল ফাইলটা নিয়ে আয়।"
কাঁধের ব্যাগ নামিয়ে রেখে নীল ফাইল এনে দেয় তপন। ফাইল খুলে দুই একটা কাগজ নাড়াচাড়া করে সিলিং-এর দিকে তাকিয়ে বলে, "আরে না না। এইটা নয়। সেই বাঁশ পাতা রঙের ফাইলটা। দেখ-তো সাহার টেবিলে আছে কিনা। সেখানে না পেলে একবার দাসের টেবিলে দেখবি।" অফিসের এই মাথা থেকে ওই মাথা সব টেবিল দেখে তপন বলে, "পেলাম না স্যার।"
"ওহ্! থাক থাক। এখানেই ছিল। পেয়েছি। তুই বরং নীল ফাইলটা তুলে রাখ।" বলে দত্তবাবু।
ততক্ষণে তপনের বাস চলে যায়। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে তপন। দত্তবাবু বলে, "অত বাড়ি বাড়ি করিস কেন তপন! এই বয়সে স্বামী-স্ত্রী হলো ভাই-বোন। সংসার হল আশ্রম আর তুই..."। তারপর বাসে দত্তবাবুর পাশে বসে ঘামের উৎকট গন্ধ নাকে নিয়ে বর্ধমান ফেরে তপন।
আজ অফিসে এসেই সময় মতো দত্তবাবুর কাছে সুপারিশও পেশ করে রেখেছে তপন, "আজ একটু আগে ছুটি দেবেন স্যার।"
"কেন রে?"
"বিয়ের নিমন্ত্রণ আছে।"
"আজ আমি নিজের গাড়িটা নিয়ে এলাম। ভাবলাম তোকে নিয়েই বর্ধমান ফিরব। আর তুই বলছিস আগে কাটব। যাক গে, বিয়ে বাড়ি কি বর্ধমানে?" জিজ্ঞাসা করে দত্তবাবু।
"না না স্যার। গ্রামে, আমার বাড়ির পাশেই।" কথাটা আগেই সাজিয়েই রেখেছিল তপন।
কালচে দাঁতে খিলখিল হাসি ভাসিয়ে দেয় দত্তবাবু। বলে, "বুঝিরে তপন সবই বুঝি। মৌসুমীরও আজ বিয়ে বাড়ি যাবে। তোরও বিয়ের নিমন্ত্রণ। মৌসুমী বর্ধমান যাবে। একই বাসে তুইও যাবি সঙ্গে। তাই-তো?" বলে আবার হাসতে থাকে দত্তবাবু।
দত্তবাবুর হাসির তালে দুরদুর করে তপনের বুক। দত্তবাবু কি অন্তর্যামী! মনের কথা বলে
দেয়! নিজেকে বিন্যস্ত রেখেই তপন বলে," কী জানি স্যার। সে সব তো বলতে পারব
না।"
ফ্যাক ফ্যাক করে হেসে ওঠেন দত্তবাবু। "গতকাল আমি নিজের কানে শুনেছি রে, মৌসুমী তোকে বললে বর্ধমানে বিয়ে বাড়ি…"।
ফ্যাক ফ্যাক করে হেসে ওঠেন দত্তবাবু। "গতকাল আমি নিজের কানে শুনেছি রে, মৌসুমী তোকে বললে বর্ধমানে বিয়ে বাড়ি…"।
ক্রমশ…

No comments:
Post a Comment