বাতায়ন/প্রেমের
Rush-লীলা/গল্পাণু/২য় বর্ষ/২৫তম সংখ্যা/০৬ই মাঘ, ১৪৩১
প্রেমের
Rush-লীলা | গল্পাণু
অঞ্জনা
মজুমদার
অমর প্রেম
"দাদু স্থবির। আমাদের দেখে বললেন, একটু খোকনকে ফোন করে দিবি ভাই আমার ফোন থেকে? আমরা সত্যকাকুকে ফোন করলাম। উনি খানিক চুপ করে থেকে বললেন, একটু বাবার খেয়াল রাখবে? আমি আসছি।"
সত্যকাকু আমেরিকায়
থাকে। মা-বাবা দমদমে। দাদু-দিদা রোজ দেখি বিকেলে
একসাথে বারান্দায় বসে চা খান।
দিদা চোখে কম দেখেন বলে রাস্তায় দাদু দিদার হাত কখনো ছাড়েন না। দিদাকে বই পড়ে শোনান। নিজেদের মধ্যে খুনসুটিও করতে দেখেছি। ছোটবেলার প্রেম। বাড়ির অমতে বিয়ে। দিদা স্কুলে আর দাদু কলেজে পড়াতেন। আমরা পাড়ার ছেলেমেয়েরা দাদু-দিদার কাছে সবসময় ছোটখাটো আবদার করে কখনোই ফিরে আসিনি।
হঠাৎই একদিন
শুনি ওঁদের সবসময়ের কাজের পিনুমাসির জোর কান্না। দিদা রাতে
ঘুমের মধ্যে চলে গেছেন। সকালে দাদু ডেকে আর সাড়া পাননি।
দাদু
স্থবির। আমাদের
দেখে বললেন, একটু
খোকনকে ফোন করে দিবি ভাই আমার ফোন থেকে?
আমরা
সত্যকাকুকে ফোন করলাম। উনি খানিক চুপ করে থেকে বললেন, একটু বাবার
খেয়াল রাখবে? আমি
আসছি।
দাদু বললেন, খোকন শুনেছে? তবে আর
চিন্তা নেই।
বলেই দাদু কাত হয়ে পড়ে গেলেন। আমরা ধরাধরি করে শুইয়ে দিলাম। পাড়ার ডাক্তারকাকা
দেখে বললেন, মেসোমশাই আর
নেই। পাশের বাড়ির কাকিমা বললেন, এমন প্রেম দেখা যায় না।
আমরা
দুজনকেই পিস হ্যাভেনে রেখে সত্যকাকুর অপেক্ষায় আছি। দাদুর খবরটা আর ওঁকে জানাইনি।
দিদা চোখে কম দেখেন বলে রাস্তায় দাদু দিদার হাত কখনো ছাড়েন না। দিদাকে বই পড়ে শোনান। নিজেদের মধ্যে খুনসুটিও করতে দেখেছি। ছোটবেলার প্রেম। বাড়ির অমতে বিয়ে। দিদা স্কুলে আর দাদু কলেজে পড়াতেন। আমরা পাড়ার ছেলেমেয়েরা দাদু-দিদার কাছে সবসময় ছোটখাটো আবদার করে কখনোই ফিরে আসিনি।
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment