প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

তূয়া নূর সংখ্যা | জিরাফের গলা

বাতায়ন/ তূয়া নূর সংখ্যা/ সম্পাদকীয়/ ৩য় বর্ষ/ ৪০ তম সংখ্যা/ ২৪শে মাঘ,   ১৪৩২ তূয়া নূর সংখ্যা | সম্পাদকীয়   জিরাফের গলা "সম্পূর্ণ ভাবে ...

Friday, February 6, 2026

কবিতা— সুন্দর এসেছে আজ | কবি— তৈমুর খান | পর্যালোচক— মণিপদ্ম দত্ত

বাতায়ন/তূয়া নূর সংখ্যা/পর্যালোচনা/৩য় বর্ষ/৪০তম সংখ্যা/২৪শে মাঘ, ১৪৩২
তূয়া নূর সংখ্যা | পর্যালোচনা
কবিতা— সুন্দর এসেছে আজ
কবি— তৈমুর খান
পর্যালোচক— মণিপদ্ম দত্ত

"এই উচ্চারণমালাকে কেউ বলতেই পারেন বিলাস। কিন্তু এই বুড়ি পৃথিবীটা তো আজও বেঁচে আছে রাজার বাড়ির অন্বেষণ জারি  আছে ব’লে! জন্মদিন ও মৃত্যুদিন একাসনে দোঁহে বসে আছে। কবিতাটি যেন ঐ কথাটাই জানায়"


[কবিকে না-জেনে শুধু কবিতার শরীর ও শিরোনামের ভিত্তিতে এই পর্যালোচনা]
 
সুন্দর এসেছে আজ
আমাদের মৃত্যুর পাশে
সুন্দর এসেছে—
 
কান্নাগুলি তুলে রাখ
জীবন যেদিন হেসেছিল
সেই হাসি দেখাব ওকে
 
পর্দা সরিয়ে দাও
আলো নিভে যাক
আমরা অনন্ত হয়ে শুয়ে থাকব
চিরন্তন আকাশে উঠুক আজ চাঁদ।
 
** বিভাগটি প্রথমে ‘মূল্যায়ন’ ভাবা হলেও পরে তা ‘পর্যালোচনা’ করা হয়, বাতায়ন পরিবার
 
 
কবিতা নিয়ে মূল্যায়ন শব্দটিতে আমার খানিক আপত্তি আছে। প্রথমটা অধিকারের প্রশ্নে। মুল্যায়নের আমি কে? আমি বড়জন একজন পাঠক। পাঠকের ভাল লাগতেও পারে, নাও লাগতে পারে। এই ভাল লাগা না-লাগা দিয়ে কবিতার বিচার চলে না। মনে করুন সেই অজানা হতভাগ্য সম্পাদকদের যাঁরা জীবনানন্দ দাশের কবিতা ছাপতে আগ্রহ দেখাননি। তাঁদের মতো সজ্ঞানে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ইচ্ছে আর কারই-বা হয়। অন্তত আমার হয় না। দ্বিতীয়টা আরও বেশ জটিল। কবিতার মুল্যায়ন কি সম্ভব? সাহিত্যের অধ্যাপকবন্ধুদের কৌতুহলী হয়ে প্রশ্ন করেছি, ক্লাসে কবিতার আলোচনা কীভাবে করা হয়। উত্তরগুলো খুব পরিচ্ছন্ন লাগেনি। আবার ঐ জীবনানন্দের সমারূঢ় কবিতার অক্ষম পিচুটি মাখা অধ্যাপকের কথাটাই মনে পড়ে গেছে। এই দুটি আপত্তির কথা মাথায় রেখে, আমি প্রদত্ত কবিতাটির উপর সামান্য দু-একটি প্রতিক্রিয়ার কথা বলব। সম্পাদকের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে।
সুন্দর এসেছে আজ’ আমার প্রথম পাঠেই বেশ ভাল লেগেছে। কবিতাটি পড়ার পর থেকেই একটি আবেশ আমাকে খানিকটা আচ্ছন্ন করেই রেখেছে বলা যায়। পরিচ্ছন্ন মিতবাক একটি কবিতা। কবিকে আমার জানা নেই। একটি বিচ্ছিন্ন কবিতা পড়ে তাঁর সম্পর্কে ও তাঁর কবিতা সম্পর্কে মন্ত্যব্য করাটা খুব বাস্তবসম্মত নয়। কবিকে ও তাঁর কাব্যকৃতিকে জানাটা প্রাথমিক একটি শর্ত বলেই জানি। রবীন্দ্রনাথই তো বলে গেছেন, রামের আসল জন্মভূমি কবি মনে। সুতরাং…
এই কবিতাটির গঠন ও শব্দ প্রয়োগ এক কথায় অনবদ্য। অযথা অলঙ্কারভারে আড়ষ্ট নয়। নির্ভার সৌন্দর্য। কবির এই সুন্দরের জন্য প্রতীক্ষার ও তার অবসানের উচ্চারণ নিবিড় ও আন্তরিক। কবিই তো সুন্দরকে যথাযোগ্য আহ্বানের অধিকারী। বরণ করে নেবারও। এই সুন্দর কবির অনুভবের। তাঁর কল্পবিশ্বের। অশ্রু প্লাবিত জীবনের পথে সুন্দর আসবেই। আসতে তাকে হবেই। অশ্রুগুলোকে তুলে রাখার দায়িত্ব তো আমাদের। অথবা অন্যভাবে বললে, অশ্রুকে আনন্দে রূপান্তরকরণের কাজটাও তো কবির ওপরেই বর্তায়। এই আগমন চৈতন্যের। এ তো আসা নয়,  আবির্ভাব। সুন্দরকে চিনে নেওটাও তো কবির কাজ। এই চৈতন্যের আকাশে চাঁদ উঠবার প্রতীক্ষা করেন কবি। কান্নাও কবি তাই লিখতে পারেন
কান্নাগুলি তুলে রাখ
জীবন যেদিন হেসেছিল
সেই হাসি দেখাব ওকে
 
এই উচ্চারণমালাকে কেউ বলতেই পারেন বিলাস। কিন্তু এই বুড়ি পৃথিবীটা তো আজও বেঁচে আছে রাজার বাড়ির অন্বেষণ জারি  আছে ব’লে! জন্মদিন ও মৃত্যুদিন একাসনে দোঁহে বসে আছে। কবিতাটি যেন ঐ কথাটাই জানায়, শঙ্খ ঘোষের প্রতিধ্বনি করে বললে,
বেঁচে থাকবো, সুখে থাকবো,
সে কি কঠিন ভারি
সকালও যার মুখ দেখে না
বিকেল করে আড়ি!
জীবনের নিত্য পিতল-বর্ণ আলোয়, এই অন্বেষণটুকুই আমাদের গতিপথ।
আমার কাছে কবিতাটি এ ভাবেই এসেছে।
 
 

No comments:

Post a Comment

সূর্যাস্ত গঙ্গার বুকে


Popular Top 10 (Last 7 days)