বাতায়ন/তূয়া
নূর সংখ্যা/পর্যালোচনা/৩য় বর্ষ/৪০তম সংখ্যা/২৪শে মাঘ, ১৪৩২
তূয়া নূর সংখ্যা | পর্যালোচনা
কবিতা— সুন্দর এসেছে আজ
কবি— তৈমুর খান
পর্যালোচক— মণিপদ্ম দত্ত
তূয়া নূর সংখ্যা | পর্যালোচনা
কবিতা— সুন্দর এসেছে আজ
কবি— তৈমুর খান
পর্যালোচক— মণিপদ্ম দত্ত
"এই উচ্চারণমালাকে কেউ বলতেই পারেন বিলাস। কিন্তু এই বুড়ি পৃথিবীটা তো আজও বেঁচে আছে রাজার বাড়ির অন্বেষণ জারি আছে ব’লে! জন্মদিন ও মৃত্যুদিন একাসনে দোঁহে বসে আছে। কবিতাটি যেন ঐ কথাটাই জানায়"
আমাদের মৃত্যুর পাশে
সুন্দর এসেছে—
জীবন যেদিন হেসেছিল
সেই হাসি দেখাব ওকে
পর্দা সরিয়ে দাও
আলো নিভে যাক
আমরা অনন্ত হয়ে শুয়ে থাকব
চিরন্তন আকাশে উঠুক আজ চাঁদ।
‘সুন্দর এসেছে আজ’ আমার প্রথম পাঠেই বেশ ভাল লেগেছে। কবিতাটি পড়ার পর থেকেই একটি আবেশ আমাকে খানিকটা আচ্ছন্ন করেই রেখেছে বলা যায়। পরিচ্ছন্ন মিতবাক একটি কবিতা। কবিকে আমার জানা নেই। একটি বিচ্ছিন্ন কবিতা পড়ে তাঁর সম্পর্কে ও তাঁর কবিতা সম্পর্কে মন্ত্যব্য করাটা খুব বাস্তবসম্মত নয়। কবিকে ও তাঁর কাব্যকৃতিকে জানাটা প্রাথমিক একটি শর্ত বলেই জানি। রবীন্দ্রনাথই তো বলে গেছেন, রামের আসল জন্মভূমি কবি মনে। সুতরাং…
এই কবিতাটির গঠন ও শব্দ প্রয়োগ এক কথায় অনবদ্য। অযথা অলঙ্কারভারে আড়ষ্ট নয়। নির্ভার সৌন্দর্য। কবির এই সুন্দরের জন্য প্রতীক্ষার ও তার অবসানের উচ্চারণ নিবিড় ও আন্তরিক। কবিই তো সুন্দরকে যথাযোগ্য আহ্বানের অধিকারী। বরণ করে নেবারও। এই সুন্দর কবির অনুভবের। তাঁর কল্পবিশ্বের। অশ্রু প্লাবিত জীবনের পথে সুন্দর আসবেই। আসতে তাকে হবেই। অশ্রুগুলোকে তুলে রাখার দায়িত্ব তো আমাদের। অথবা অন্যভাবে বললে, অশ্রুকে আনন্দে রূপান্তরকরণের কাজটাও তো কবির ওপরেই বর্তায়। এই আগমন চৈতন্যের। এ তো আসা নয়, আবির্ভাব। সুন্দরকে চিনে নেওটাও তো কবির কাজ। এই চৈতন্যের আকাশে চাঁদ উঠবার প্রতীক্ষা করেন কবি। কান্নাও কবি তাই লিখতে পারেন—
জীবন যেদিন হেসেছিল
সেই হাসি দেখাব ওকে
সকালও যার মুখ দেখে না
বিকেল করে আড়ি!
জীবনের নিত্য পিতল-বর্ণ আলোয়, এই অন্বেষণটুকুই আমাদের গতিপথ।
আমার কাছে কবিতাটি এ ভাবেই এসেছে।

No comments:
Post a Comment