প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

তূয়া নূর সংখ্যা | জিরাফের গলা

বাতায়ন/ তূয়া নূর সংখ্যা/ সম্পাদকীয়/ ৩য় বর্ষ/ ৪০ তম সংখ্যা/ ২৪শে মাঘ,   ১৪৩২ তূয়া নূর সংখ্যা | সম্পাদকীয়   জিরাফের গলা "সম্পূর্ণ ভাবে ...

Friday, February 6, 2026

কবিতা— বখাটে যাপন | কবি— উৎপলেন্দু পাল | পর্যালোচক— দীপক বেরা

বাতায়ন/তূয়া নূর সংখ্যা/পর্যালোচনা/৩য় বর্ষ/৪০তম সংখ্যা/২৪শে মাঘ, ১৪৩২
তূয়া নূর সংখ্যা | পর্যালোচনা
কবিতা বখাটে যাপন
কবি— উৎপলেন্দু পাল
পর্যালোচক— দীপক বেরা

"কেন এই 'বখাটে যাপন', কেনই বা এই 'শিকারের প্রস্তুতিবা 'নিমগ্ন হাঁটা' —এসবের কোনও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেইযা কাব্যিক দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।"


[কবিকে না-জেনে শুধু কবিতার শরীর ও শিরোনামের ভিত্তিতে এই পর্যালোচনা]
 
বখাটে যাপনের মাঝে 
কিছুটা দখিনা বাতাসের আনাগোনা 
আর গায়ে লেগে থাকা পাটপচা ঘ্রাণ
জীবনশৈলীর পাতায় 
লেখা আছে মরা নদীর বুকে কচু ক্ষেত
কোমরজলে ডুবে নিরন্তর জীবনের সন্ধান 
 
নৈমিত্তিক স্বপ্নদর্শনে 
আকাশ ছুঁতে চাওয়া তালগাছ আর 
তার নীচে শুয়ে থাকা পাটকাঠির আঁটি 
 
বানা দিয়ে ঘেরা জল 
খোলামুখে পেতে রাখা খরা জালে 
এক সর্বগ্ৰাসী শিকারের প্রস্তুতিপর্ব 
 
তবুও নিমগ্ন হেঁটে যাওয়া 
মাষানপাটের তলা দিয়ে স্নিগ্ধ ছায়াপথে 
কোনো এক অস্তাচলগামী অপরাহ্নে
 
 
কবিতাটির শিরোনাম, ‘বখাটে যাপন। এই শব্দযুগল দিয়ে কবি একটি অগোছালো অথচ স্বাধীন জীবনের চিত্র এঁকেছেন।
কবিতাটিতে গ্রামবাংলার এক নিভৃত কোণের জীবনকে চিত্রিত করা হয়েছে। বলা যায় অকৃত্রিম গ্রামীণ জীবনের এক নৈসর্গিক চিত্র—যেখানে দুঃখ, কষ্ট, সংগ্রাম ও স্বপ্ন—সবকিছুই প্রকৃতির নিয়মে মিশে আছে। এটি জীবনের একটি নিরন্তর প্রবাহ, যেখানে মৃত্যু ও জীবনের আনাগোনা, সবই এক শান্ত ও বিষণ্ণ সৌন্দর্যের আবরণে আবৃত। কবিতাটির লেখার ভাষা, চিত্রকল্প এবং বিষণ্ণতা কবিতার মধ্যে কিছুটা জীবনানন্দীয় আবহ তৈরি করেছে।
 
'বখাটে জীবন'-এর মূল ভাবকে চারটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে—
১) প্রাকৃতিক বর্ণনা দখিনা বাতাস, পাট পচা গন্ধ, মরা নদী, কচু খেত, তালগাছ - এই সমস্ত উপাদান গ্রামীণ বাংলার চিরাচরিত প্রাকৃতিক দৃশ্য তুলে ধরেছে।
২) জীবন ও বাস্তবতা মৃত নদীর বুকে কচু ক্ষেত বা খরা জালে সর্বগ্রাসী শিকারের প্রস্তুতি - এই চিত্রগুলি প্রতিকূলতার মধ্যেও মনুষ্য জীবনের টিকে থাকা ও তার লড়াকু সংগ্রামের ইঙ্গিত দেয়।
৩) স্বপ্ন ও বিষণ্ণতা 'আকাশ ছুঁতে চাওয়া তালগাছ' বা 'নিঃশব্দে হেঁটে যাওয়া' - এই অংশগুলি স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা এবং এক ধরনের বিষণ্ণ দার্শনিকতার প্রকাশ।
৪) জীবনানন্দীয় আবহ কবিতার ভাষা, চিত্রকল্প এবং বিষণ্ণতা জীবনানন্দ দাশের 'রূপসী বাংলা'র কবিতার কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে প্রকৃতি ও জীবন একে অপরের সাথে মিশে যায়।
 
*পর্যালোচনামূলক দৃষ্টিকোণ থেকে
 
১) চিত্রকল্পের আধিক্য— কবিতাটিতে এত বেশি ও বিচিত্র চিত্রকল্প (যেমন পাটপচা ঘ্রাণ, মরা নদী, কচু ক্ষেত, তালগাছ, পাটকাঠি, খরা জাল) একসাথে এসেছে যে, একটি কেন্দ্রীয় ভাব বা মূল বার্তা ধরা কঠিন হয়ে পড়ে। এটি পাঠককে বিভ্রান্ত করতে পারে।
২) জীবনানন্দীয় অনুকরণ—  'পাটপচা ঘ্রাণ', 'মরা নদী', 'বেলের বন' - এই ধরনের শব্দ ও চিত্রকল্পগুলি জীবনানন্দ দাশের কবিতার আবহকে মনে করিয়ে দেয়, যা অনেক সময় কবির নিজস্বতা বা মৌলিকত্বের অভাব বলে পরিগণিত হতে পারে।
৩) আখ্যানের অস্পষ্টতা— কবিতাটি একটি নির্দিষ্ট আখ্যান বা ঘটনার পরিবর্তে বিমূর্ত অনুভূতি ও চিত্রকল্পের এক স্রোত। কেন এই 'বখাটে যাপন', কেনই বা এই 'শিকারের প্রস্তুতি' বা 'নিমগ্ন হাঁটা' —এসবের কোনও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই, যা কাব্যিক দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
 

No comments:

Post a Comment

সূর্যাস্ত গঙ্গার বুকে


Popular Top 10 (Last 7 days)