বাতায়ন/তূয়া
নূর সংখ্যা/ভ্রমণ/৩য় বর্ষ/৪০তম সংখ্যা/২৪শে মাঘ, ১৪৩২
তূয়া নূর সংখ্যা | ভ্রমণ
জনা বন্দ্যোপাধ্যায়
চন্দ্রময়ী
দেবীর পীঠস্থান
তূয়া নূর সংখ্যা | ভ্রমণ
জনা বন্দ্যোপাধ্যায়
"এই স্থানে প্রথম রামচন্দ্রের গুরু বশিষ্টদেবের আগমন ঘটে! তিনি এখানকার শিলাস্থলে পার্বতীর অপূর্ব অপ্সরা রূপ দর্শন করেছিলেন! সে রূপ দেখে মহামুনি বশিষ্ট অভিভূত হয়েছিলেন।"
টিলা পরিবৃত স্থান, যেখানে মন্দিরের সিঁড়ি শুরু হচ্ছে
মহাপ্রেতের পৃষ্ঠদেশে কালীর অবস্থান
প্রেতেদের আধিপতি শিব
এখানে বাহক রূপে দৃশ্যমান! শিব ও কালীর কত রকমের মহিমা যে বাংলায় ছড়িয়ে আছে তা
অনেকেই জানেন! হয়তো কোনো উৎসব উপলক্ষ্যে এরকম শিব ও কালীর মূর্তি নিয়ে স্থানীয়
মানুষজন সমারোহে শোভাযাত্রা বের করে বলে অনুমান করলাম! আরো কিছুটা উঠে মায়ের
মন্দির দেখলাম, যার স্থাপনা হয়েছিল বামদেবের
হাতে!বামদেব প্রতিষ্ঠিত কালী মন্দির
তবে স্থানটির অন্য মাহাত্ম্যও আছে! মন্দিরের তালা বন্ধ গর্ভগৃহের কোলাপসিবল
গেট দিয়ে দক্ষিণা কালীর সুন্দর মূর্তি চোখে পড়ে। চারিপাশের শান্ত পরিবেশ দেখে
মন্দিরের সামনে সুন্দর বাঁধানো নাট-মণ্ডপে বেশ কিছুক্ষণ বসে রইলাম! ভাবলাম
সন্ধ্যারতির জন্য সন্ধে হলে মন্দির খোলা হবে!অংশপীঠে মায়ের পবিত্র শিলা
সাদা ধুতি,
সাদা
ফতুয়া ও সাদা চাদর পরিহিত সন্ন্যাসী বেশ উৎসাহ নিয়ে অনেক গল্প শোনালেন। এই স্থানে
প্রথম রামচন্দ্রের গুরু বশিষ্টদেবের আগমন ঘটে! তিনি এখানকার শিলাস্থলে পার্বতীর
অপূর্ব অপ্সরা রূপ দর্শন করেছিলেন! সে রূপ দেখে মহামুনি বশিষ্ট অভিভূত হয়েছিলেন।
সন্ন্যাসী বিশ্বাস করেন বশিষ্টদেবের মৃত্যু হয়নি। তিনি অমর! গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী
কোথা থেকে এসেছেন বলেননি, তবে এই নির্জন সমাহিত
স্থানে তিনি একাই থাকেন বুঝলাম! আরো তিন-চারজন ভক্তের সমাগম হয় সেই সময়! শেষ বিকেলে
টিলা-পাথরের গাছগুলোতে অন্ধকার নেমে আসছে! মন্দিরের পাশ দিয়ে
গিয়ে গ্রিলের গেট খুলে মায়ের পবিত্র মূল শিলাটি দেখলাম। একটি ঘেরা স্থানে সিঁদুর
মাখানো প্রাচীন শিলাটি দেখে ভক্তি জাগে! সন্ন্যাসী বলেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে এই স্থানে সুন্দর মন্দির নির্মাণে সহায়তা করেছেন!মন্দিরের দিকে বাঁধানো সিঁড়ি উঠে গেছে
তিনি কথা
প্রসঙ্গে আরো বলেন যে, এই স্থানের কথা খুব
বেশি প্রচার হয়নি! কিছু দূরে একটি নদী আছে! সুদূর অতীতে কোনো এক রোমান সাহেব
এসেছিলেন, তিনি যে বইতে এখানকার
কথা লিখেছিলেন, সেটি একজন স্থানীয় গ্রামবাসী
হয়তো সংগ্রহ করেছিলেন। তবে তাঁর উত্তরসূরির কাছে বইটি আর নেই!~~০০০~~







No comments:
Post a Comment