রম্যরচনা
প্রদীপ কুমার দে
সোমবারের মারবেলা
ঝিঙাফুল
সিরিজ— ১১
"কয়েকটি লোফার ছেলে সিটি মেরে বউয়ের উদ্দেশ্যে অসভ্য কটুক্তি করল, আমিও পিছু ফিরে ওদের দিকে তেড়ে গেলাম, ওদের মধ্যে একজন এসে আমায় একটা ধাক্কা দিল, আমি ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখি ঝিঙাফুল ততক্ষণে ওই ছেলেটার কলার ধরে গালে কষিয়ে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল।"
না সবসময়
নিজের মতামতটাই বড়, এটা
ভাবা ঠিক নয় তাই নিজেকে শুধরে নেওয়ার চেষ্টায় নিয়োজিত আছি,
-নাও, নাও
তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নাও। আমার দুমিনিট লাগবে জামা-প্যান্ট
পড়তে।
বউ তখনও
বিছানা ছাড়েনি। ঘুম কাটিয়ে,
ঘোর কাটিয়ে,
-ওমা! তুমি উঠে পড়েছ। কোথায় যাচ্ছ?
-আমার স্নান
শেষ। জামা-প্যান্ট পড়লেই হয়ে যাবে।
-কিন্তু
যাচ্ছটা কোথায়? আমাকে
ছেড়ে?
ঝিঙাফুল
লাফিয়ে বিছানা ছাড়লো,
চোখে ভয়।
-আরে তোমাকে
ছেড়ে যেতে পারি? তুমি
আমায় কত ভালোবাসো, তাই
না?
-তা হলে?
বলেই বউ এসে
আমাকে জাপটে ধরল।
-এইতো দিনের
দিন তুমি তোমার শপথ ভঙ্গ করলে তো?
-সেটা আবার কী? আমি আমার
স্বামীকে জড়িয়ে ধরলে কি অপবিত্র হব। তুমিই তো আমার গুরুর গুরু।
-আহা! সে তো ভালো কথা। আজ সোমবার না? তুমি
বলেছিলে না এই সোমবার শিবের উপোস করবে, আমাকে সতর্কও করে দিয়েছিলে?
-ধুৎ! কী যে বলো? আমি একটা মজা করলাম আর তুমি তাই ধরে
নিলে। আমার কাছে আগে তুমি তারপর সব দেবতা। ধরো, আমাকে জড়িয়ে ধরো আগে...
আমি ভাবছি আমি
কী রে? ভালোবাসাই বুঝি না? ঝিঙাফুলকেই আমি বুঝতে পারলাম না? তাড়াতাড়ি
একবার আদর করে নিলাম,
-চলো, তোমায় নিয়ে
তারকেশ্বর যাব, তুমি
ওখানেই জল ঢেলো।
-সত্যি! অফিস
যাবে না? কামাই? আমার জন্য? সত্যি! দশ মিনিট সময় দাও, আমি বেশি সাজব না, বেরিয়ে যাব।
বলেই চকাশ্
করে একটা হামি খেয়েই ও দৌড়ে গিয়ে বাথরুমে ঢুকল।
তারকেশ্বর
গিয়ে দুজনায় স্নান সেরে পুজো দিলাম। ঝিঙাফুল খুব খুশি। আনন্দে যেন উড়ছে। সুন্দর
সাদা শাড়িতে মাথা ভর্তি এলোচুল হাওয়ায় উড়ছে। আমারও ভালো লাগছে। কলাপাতায় ভাত
খেলাম। নিরামিষ। ঝিঙাফুল আমার দিকে চেয়ে হাসছে,
-কষ্ট হচ্ছে?
-আমি সব
পারি। ছোটোবেলায় অনেক কষ্ট গেছে। এখন টাকা আয় করলেও বাবা-মা কেউ নেই।
বউ কাছে এসে
ঠেলা দিল,
-মন খারাপ
করবে না, আমি
তো আছি। আমার বাড়ির সবাই আছে। আগের জন্মে অনেক উপোস অনেক পুজো করেছিলাম বলেই না
তোমায় পেয়েছি? তাই
এখনো করি পরের জন্মে যেন তোমাকেই পাই।
-নিরামিষ
ভাত আজ অমৃত হয়ে গেল তোমার কথায়।
দুজনে হাত
ধরে দোকানে দোকানে ঘুরলাম। ফেরার সময় তেলেভাজা খাওয়ার বায়না ধরল ঝিঙাফুল। আমারও
ইচ্ছা হল। দৌড়ে গেলাম। ঝিঙাফুল আমার পিছনে আসছিল আর ঝামেলা বেধে গেল। কয়েকটি
লোফার ছেলে সিটি মেরে বউয়ের উদ্দেশ্যে অসভ্য কটুক্তি করল, আমিও পিছু ফিরে
ওদের দিকে তেড়ে গেলাম,
ওদের মধ্যে একজন এসে আমায় একটা ধাক্কা দিল, আমি ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখি ঝিঙাফুল
ততক্ষণে ওই ছেলেটার কলার ধরে গালে কষিয়ে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল।
কাপড়ের আঁচল কোমরে গুঁজে রণচণ্ডী
মূর্তি ধারণ করে ওদের দিকে তেড়ে গেল, আমিও চেঁচামেচি করে তেড়ে গেলাম।
গুন্ডাগুলো অভাবনীয় ভাবে ঘাবড়ে গেল। ততক্ষণে আশেপাশের দোকানিরাও ওদের ঘিরে ধরেছে, ওদের অঞ্চলের সন্মান রক্ষার্থে।
বউয়ের
নির্দেশে ওরা কান ধরে উঠবোস করেই, 'ছেড়ে দে মা, পালিয়ে বাঁচি' বলে
পাঁইপাঁই করে দৌড় দিল।
অনেক লোক
জমে গেছিল। সকলেই অবাক চোখে বউকে জানাল,
-মা, এরকমভাবেই
লড়ো, দুনিয়া
বড়ো খারাপ হয়ে গেছে, আগে ওরা স্বামী-স্ত্রী দেখলে ভয় করত এখন সেটাও করে না। যাক, আমরা সবাই
তোমার সঙ্গেই আছি ভয় পেয়ো না।
ট্রেন ছেড়ে
দিয়েছে আমরা ফিরছি বাড়ির পথে, জানালার ধারে হাওয়ায় ঝিঙাফুলের চুল মুখে-মাথায় জড়িয়ে যাচ্ছে, ও তার মধ্যেই হেসে হেসে বেগুনি
চিবাচ্ছে, যেন
কিছুই হয়নি এমনই ভাব। আমি অবাক চোখে ওকে দেখছি,
-তুমি সত্যি
কথাই বলেছ আমিও নিশ্চয়ই কোন তপস্যা করেছিলাম তাই তোমাকে পেয়েছি।
-কেন একটু
আগেই না তুমি বলছিলে তোমার কেউ নেই?
কথাগুলো বলে
ঝিঙাফুল আমার গায়ে ঘেঁষে বসল।
সমাপ্ত

ধন্যবাদ সম্পাদক মহাশয় 🙏 বন্ধুরা সবাই পড়ে দেখুন আর আমার কলমের যদি কিছু খামতি থাকে তাহলে সজাগ করুন। আমি শুধু এটুকুই ভালিবাসা চাই 💗
ReplyDeleteহাসছি। অবাক হলাম মজায়।
ReplyDelete